শিশু নির্যাতনের ক্ষত শুধু শরীরে নয়, গভীরভাবে আঘাত করে মনেও

শিশুরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ। কিন্তু যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ কিংবা আস্থার জায়গায় সহিংসতার মতো ঘটনা একটি শিশুর শৈশবকে মুহূর্তেই ভেঙে দিতে পারে। শুধু শারীরিক ক্ষত নয়, এসব অভিজ্ঞতা দীর্ঘমেয়াদে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস, সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। শিশুদের মানসিক ট্রমা, পুনর্বাসন ও প্রতিরোধ নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. জেবুন নাহার। জাগো নিউজ: শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের প্রভাব ফেলে? ডা. জেবুন নাহার: শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক একটি অভিজ্ঞতা। স্বল্পমেয়াদে শিশুরা ভয়, আতঙ্ক, কান্নাকাটি, দুঃস্বপ্ন, ঘুমের সমস্যা, খাওয়া-দাওয়ায় অনীহা কিংবা আচরণগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। অনেক শিশু হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যায়, আবার কেউ কেউ অস্বাভাবিক রাগ বা আক্রমণাত্মক আচরণও করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব আরও গভীর হয়। শিশুর আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে, সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সমস্যা হতে পারে

শিশু নির্যাতনের ক্ষত শুধু শরীরে নয়, গভীরভাবে আঘাত করে মনেও

শিশুরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ। কিন্তু যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ কিংবা আস্থার জায়গায় সহিংসতার মতো ঘটনা একটি শিশুর শৈশবকে মুহূর্তেই ভেঙে দিতে পারে। শুধু শারীরিক ক্ষত নয়, এসব অভিজ্ঞতা দীর্ঘমেয়াদে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস, সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

শিশুদের মানসিক ট্রমা, পুনর্বাসন ও প্রতিরোধ নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. জেবুন নাহার।

জাগো নিউজ: শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের প্রভাব ফেলে?

ডা. জেবুন নাহার: শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক একটি অভিজ্ঞতা। স্বল্পমেয়াদে শিশুরা ভয়, আতঙ্ক, কান্নাকাটি, দুঃস্বপ্ন, ঘুমের সমস্যা, খাওয়া-দাওয়ায় অনীহা কিংবা আচরণগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। অনেক শিশু হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যায়, আবার কেউ কেউ অস্বাভাবিক রাগ বা আক্রমণাত্মক আচরণও করতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব আরও গভীর হয়। শিশুর আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে, সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সমস্যা হতে পারে এবং ভবিষ্যতে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, আত্মহানির প্রবণতা বা মাদকাসক্তির ঝুঁকিও বাড়তে পারে। অনেক সময় এই ট্রমা তাদের পুরো ব্যক্তিত্ব বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

জাগো নিউজ: ১১ বছরের মতো অল্প বয়সী শিশু ধর্ষণের শিকার হলে তার মানসিক ট্রমা সাধারণত কীভাবে প্রকাশ পায়?

ডা. জেবুন নাহার: ১১ বছর বয়স এমন একটি সময়, যখন একটি শিশুর মানসিক ও আবেগিক বিকাশ খুব স্পর্শকাতর পর্যায়ে থাকে। এই বয়সে ধর্ষণের মতো অভিজ্ঞতা শিশুর ভেতরে ভয়াবহ মানসিক ধাক্কা তৈরি করে। সে হয়তো বারবার সেই ঘটনার কথা মনে করতে পারে, দুঃস্বপ্ন দেখতে পারে কিংবা নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা জায়গাকে ভয় পেতে শুরু করতে পারে।

অনেক শিশু নিজের ভেতরে গুটিয়ে যায়। স্কুলে যেতে না চাওয়া, পড়াশোনায় মনোযোগ হারানো, হঠাৎ রেজাল্ট খারাপ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ভয় পাওয়া বা মানুষের সঙ্গে মিশতে না চাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কিছু শিশু আবার ঘটনাটি বুঝে উঠতে না পেরে অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- শিশুরা প্রায়ই নিজেদের দোষী মনে করতে শুরু করে, যদিও বাস্তবে তাদের কোনো দায় থাকে না। এই অপরাধবোধ তাদের মানসিক কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. জেবুন নাহারছবি: জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. জেবুন নাহার

জাগো নিউজ: অনেক সময় কাছের মানুষের কাছ থেকেও শিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, এমনকি এই ট্রমাটা বড় হওয়ার পরও তার মধ্যে থেকে যায়- সেক্ষেত্রে কি তার মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়তে পারে?

ডা. জেবুন নাহার: অপরিচিত কারও কাছে শিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকার হলে যেই কষ্ট পায় তার চেয়ে বেশি কষ্ট পায় পরিচিত কারও কাছে হলে। সেটা তারা সহজে ভুলতে পারে না। কারণ নির্যাতনকারীকে সে যখন প্রতিনিয়ত দেখছে তখন তার সঙ্গে পূর্বে ঘটে যাওয়া ঘটনা সে ভুলতে পারে না। এতে করে সে বেশি মানসিকভাবে হতাশ হয়ে পড়ে।

জাগো নিউজ: গর্ভধারণের মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শিশুর মানসিক বিকাশে কতটা গভীর ও স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে?

ডা. জেবুন নাহার: গর্ভধারণ খুব সুন্দর একটা ঘটনা, যদি এটি স্বাভাবিক নিয়মে হয়। কিন্তু একজন শিশুর জন্য ধর্ষণের পর গর্ভধারণ অত্যন্ত জটিল ও ভয়াবহ মানসিক অভিজ্ঞতা। এটি তার শৈশব, নিরাপত্তাবোধ এবং আত্মপরিচয়ের ওপর গভীর আঘাত হানে। এত অল্প বয়সে গর্ভধারণ শিশুর মধ্যে ভয়, বিভ্রান্তি, লজ্জা, সামাজিক চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

এই অভিজ্ঞতা দীর্ঘমেয়াদে তার মানসিক বিকাশে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভয়, আত্মবিশ্বাসের সংকট, মানসিক অস্থিরতা কিংবা বিষণ্নতা তৈরি হতে পারে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা ও শিক্ষাজীবনও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই শুধু চিকিৎসা নয়, শিশুটির জন্য দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সহায়তা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

জাগো নিউজ: গ্রামাঞ্চলে আমরা দেখতে পাই খুব কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছে, এমনকি তারা সন্তান ধারণ করছে, সেক্ষেত্রে আপনি কী বলবেন?

ডা. জেবুন নাহার: গ্রামাঞ্চলে কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে যেটা দুঃখজনক হলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই সাধারণ একটা ঘটনা। বিয়ের বয়স না হওয়ার আগেই তাকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আর সেটা সম্পর্কে সে ভালোভাবে না জানলে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে যে বিয়ে হলে সে গর্ভধারণ করবে, বাচ্চা হবে। কিন্তু ধর্ষণের ক্ষেত্রে বিষয়টা পুরোই উল্টো। এটা এমনিতেই একটি মানসিক ট্রমা। এর মধ্যে যদি গর্ভধারণের মতো বিষয় চলে আসে তখন সেই ট্রমাটা আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়।

জাগো নিউজ: শিশু নির্যাতনের পর পিটিএসডি বা অন্য কোনো মানসিক রোগের ঝুঁকি কতটা থাকে?

ডা. জেবুন নাহার: যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুদের মধ্যে পিটিএসডি বা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসওর্ডারের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। শিশুরা বারবার সেই ঘটনার স্মৃতি অনুভব করতে পারে, হঠাৎ আতঙ্কিত হয়ে যেতে পারে বা সবসময় নিজেকে অনিরাপদ ভাবতে পারে। এ ছাড়া বিষণ্নতা, উদ্বেগজনিত সমস্যা, প্যানিক অ্যাটাক, আচরণগত সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত এবং আত্মহানিমূলক চিন্তার মতো মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে শিশুরা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো প্রতিক্রিয়াও দেখায়।

জাগো নিউজ: পরিবার ও সমাজের প্রতিক্রিয়া শিশুর মানসিক অবস্থাকে কীভাবে আরও জটিল করে তোলে?

ডা. জেবুন নাহার: অনেক সময় পরিবার বা সমাজ শিশুর পাশে দাঁড়ানোর বদলে তাকে দোষারোপ করে কিংবা ঘটনাটি গোপন রাখতে চাপ দেয়। এতে শিশুর মানসিক কষ্ট আরও বেড়ে যায়। সে মনে করতে শুরু করে, তার কথা কেউ বিশ্বাস করছে না।

সামাজিক লজ্জা, কটূক্তি বা বিচারমূলক আচরণ শিশুর মধ্যে ভয় ও একাকিত্ব বাড়িয়ে দেয়। অনেক পরিবার আবার ‘সম্মান রক্ষার’ কারণে শিশুকে চুপ থাকতে বলে, যা ট্রমাকে আরও গভীর করে তোলে। একটি শিশুর সুস্থ পুনরুদ্ধারের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরাপদ, সহানুভূতিশীল ও বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ। পরিবার যদি সমর্থন দেয়, তাহলে মানসিক পুনরুদ্ধার তুলনামূলক সহজ হয়।

জাগো নিউজ: মাদরাসা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো আস্থার জায়গায় নির্যাতন ঘটলে শিশুদের ‘ট্রাস্ট ইস্যু’ বা নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি কতটা বাড়ে?

ডা. জেবুন নাহার: যখন কোনো আস্থার জায়গা যেমন- মাদরাসা, স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্যাতন ঘটে, তখন শিশুর নিরাপত্তাবোধ মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ে। কারণ শিশুরা এসব জায়গাকে নিরাপদ মনে করেই সেখানে যায়। এ ধরনের অভিজ্ঞতার পর শিশুরা অনেক সময় শিক্ষক, অভিভাবক কিংবা অন্য প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিও অবিশ্বাস তৈরি করে। তারা মনে করতে পারে, কেউই নিরাপদ নয়। এর ফলে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। সে কাউকেই বিশ্বাস করতে পারে না। শুধু শিশু নয়, এমন ঘটনা অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ভয় ও অনিরাপত্তা তৈরি করে। ফলে আমরা কারও ওপরই ভরসা করতে পারছি না।

আরও পড়ুন: 

জাগো নিউজ: শিশুরা অনেক সময় ভয় বা লজ্জার কারণে ঘটনা প্রকাশ করে না, এক্ষেত্রে অভিভাবক বা শিক্ষকদের কোন লক্ষণগুলো দেখে সতর্ক হওয়া উচিত?

ডা. জেবুন নাহার: শিশুর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন এ ধরনের ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। যেমন- হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ভয় পাওয়া, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা জায়গা এড়িয়ে চলা, দুঃস্বপ্ন দেখা, বিছানা ভিজিয়ে ফেলা কিংবা খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাস বদলে যাওয়া।

স্কুলে যেতে না চাওয়া, পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া, মাদকাসক্ত হওয়া, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কিংবা হঠাৎ আক্রমণাত্মক আচরণও সতর্কতার লক্ষণ হতে পারে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের উচিত শিশুর আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাকে এমন পরিবেশ দেওয়া, যেখানে সে নিরাপদে নিজের কথা বলতে পারে।

জাগো নিউজ: এমন ঘটনার পর শিশুদের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া কীভাবে শুরু করা উচিত এবং এতে কত সময় লাগতে পারে?

ডা. জেবুন নাহার: প্রথমেই শিশুকে নিরাপদ পরিবেশে নিতে হবে এবং তাকে বোঝাতে হবে যে সে এখন সুরক্ষিত। শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে, কিন্তু তাকে জোর করে কিছু বলতে বাধ্য করা যাবে না। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী বা কাউন্সেলরের সহায়তা নিতে হবে। ট্রমা-ফোকাসড কাউন্সেলিং অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

পুনরুদ্ধারের সময়সীমা নির্দিষ্ট নয়। কোনো শিশু কয়েক মাসে কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এটি নির্ভর করে ট্রমার মাত্রা, পারিবারিক সহায়তা এবং চিকিৎসা পাওয়ার ওপর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শিশুকে ধৈর্য ও সহমর্মিতার সঙ্গে সময় দেওয়া।

জাগো নিউজ: মানসিক চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি আইনগত ও সামাজিক সহায়তা একসঙ্গে কতটা জরুরি?

ডা. জেবুন নাহার: এ ধরনের ঘটনায় শুধু মানসিক চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনি সহায়তা দেওয়া এবং সামাজিকভাবে তাকে সমর্থন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যদি অপরাধের বিচার না হয়, তাহলে শিশুর মধ্যে ভয় ও অসহায়ত্ব থেকে যেতে পারে। আবার সামাজিকভাবে অপমান বা বিচ্ছিন্নতার শিকার হলে মানসিক পুনরুদ্ধার ব্যাহত হয়। তাই চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সমাজকর্মী, শিক্ষক এবং পরিবারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

জাগো নিউজ: ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কী ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

ডা. জেবুন নাহার: প্রতিরোধের জন্য পরিবার থেকেই শিশুদের নিরাপত্তা শিক্ষা শুরু করতে হবে। শিশুদের ‘ভালো স্পর্শ’ ও ‘খারাপ স্পর্শ’ সম্পর্কে বয়স উপযোগী শিক্ষা দেওয়া জরুরি। তাদের এমনভাবে বড় করতে হবে, যাতে তারা ভয় ছাড়াই নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে পারে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাধ্যতামূলক করা উচিত। শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত মনিটরিং থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দ্রুত বিচার, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য করা প্রয়োজন। পাশাপাশি গণসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মনে রাখতে হবে, একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow