শূন্যরেখার ২৮ নারী-পুরুষ ও শিশুর কান্না কেউই শুনছে না, বৃষ্টিতে ভিজেই রাত পার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। বিজিবির বাধায় সেটি সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ওই ২৮ জনের কান্না কেউ শুনছে না। এখন পর্যন্ত শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন তারা। গত ৩ জুন দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার (৫ জুন) রাত পর্যন্ত তারা শূন্য রেখায় অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুদ। বিজিবি ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে বাঙ্গাবাড়ি বিওপির সীমান্ত পিলার ২০৩/৬-আর দিয়ে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের জোয়ানরা পুশ ইনের চেষ্টা চালায়। ভুক্তভোগী ২৮ জনের দলে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬ জন শিশু রয়েছে। পুশ ইনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাঙ্গাবাড়ি বিওপির একটি চৌকস টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শনাক্ত করে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধা দেয়। ফলে তারা সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান নেন। এরপর গতকাল দুপুর ১২টা ও দুপুর আড়াইটার দিকে দুইবার পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা

শূন্যরেখার ২৮ নারী-পুরুষ ও শিশুর কান্না কেউই শুনছে না, বৃষ্টিতে ভিজেই রাত পার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। বিজিবির বাধায় সেটি সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ওই ২৮ জনের কান্না কেউ শুনছে না। এখন পর্যন্ত শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন তারা।

গত ৩ জুন দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার (৫ জুন) রাত পর্যন্ত তারা শূন্য রেখায় অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুদ।

বিজিবি ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে বাঙ্গাবাড়ি বিওপির সীমান্ত পিলার ২০৩/৬-আর দিয়ে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের জোয়ানরা পুশ ইনের চেষ্টা চালায়। ভুক্তভোগী ২৮ জনের দলে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬ জন শিশু রয়েছে।

পুশ ইনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাঙ্গাবাড়ি বিওপির একটি চৌকস টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শনাক্ত করে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধা দেয়। ফলে তারা সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান নেন। এরপর গতকাল দুপুর ১২টা ও দুপুর আড়াইটার দিকে দুইবার পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পতাকা বৈঠকে বিজিবি বিএসএফকে স্পষ্ট জানায়, বাংলাদেশি কোনো নাগরিক ভারতে থেকে থাকলে তাদেরকে প্রয়োজনীয় আইন অনুযায়ী দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু রাতের আঁধারে কাউকে পুশ ইন মেনে নেবে না বিজিবি।

আর বিএসএফ জানায়, তারা দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাদেরকে ভারতে ফেরত নেবে না। এর ফলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় পতাকা বৈঠক। এতে করে সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান করতে হচ্ছে ওই ২৮ জনকে। বৃহস্পতিবার রাতভর বৃষ্টি হওয়ায় ওই ২৮ জন খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভিজেই রাত পার করেছেন। এ সময় শূন্যরেখা থেকে তাদের কান্নার আওয়াজ শোনা যায়।

বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাদ্দাম হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত থেকে ২৮ জন ব্যক্তি শূন্যরেখায় আটকে আছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা করছে। বিজিবির প্রতিরোধের মুখে সীমানা রেখা থেকে ৫০ গজ দূরে ভারতের অংশে নো ম্যানস ল্যান্ডে তারা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। ভয় আর শঙ্কায় তাদের সময় পার হচ্ছে। ঘুম, খাওয়া-দাওয়া  ছাড়া এবং গরমে অমানবিক জীবন পার করছেন।

নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুদ শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, নওগাঁ ব্যাটেলিয়ানের অধীনস্ত বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে ২৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি তাদের পুশ- ইনের এ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। বর্তমানে তারা সীমান্তের ওপারে ভারতের ৫০ গজ ভেতরে ভারতের নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছে। বিজিবি এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow