শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে আয়নাঘরের চেয়ারে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হোক

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আয়নাঘরে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার চেয়ারে বসানোর দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।   মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।  রেহানা আক্তার রানু বলেন, অতীতে যে চেয়ারে বিরোধীদলের নেতাদের বসিয়ে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে সেই একই চেয়ারে বসিয়ে বা শুইয়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া উচিত। সেটি কেমন লাগে তা তার অনুভব করা দরকার। আরও পড়ুন রেহানা আক্তার রানু / যারা প্রোফাইল লাল করেছিলেন, হাসিনা এলে তাদের জীবন কালো করে ছাড়বে ফেনীর এই সংসদ সদস্য চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কথা স্মরণ করে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, নিহতদের পরিবারগুলো এখনো সন্তান হত্যার সঠিক বিচার পাচ্ছে না। কারণ, পুলিশ আসামিদের ধরছে না এবং ধরলেও আদালত জামিন দিয়ে দিচ্ছেন।   সংসদে নিজের বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগের আমলে তৈরি হওয়া বিভিন্ন অনিয়মের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বর্তমান সরকারের চার মাস পার হলেও এখনো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিগত সরকারের প্রভাবশালী

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে আয়নাঘরের চেয়ারে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হোক

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আয়নাঘরে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার চেয়ারে বসানোর দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।  

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 

রেহানা আক্তার রানু বলেন, অতীতে যে চেয়ারে বিরোধীদলের নেতাদের বসিয়ে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে সেই একই চেয়ারে বসিয়ে বা শুইয়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া উচিত। সেটি কেমন লাগে তা তার অনুভব করা দরকার।

ফেনীর এই সংসদ সদস্য চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কথা স্মরণ করে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, নিহতদের পরিবারগুলো এখনো সন্তান হত্যার সঠিক বিচার পাচ্ছে না। কারণ, পুলিশ আসামিদের ধরছে না এবং ধরলেও আদালত জামিন দিয়ে দিচ্ছেন।  

সংসদে নিজের বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগের আমলে তৈরি হওয়া বিভিন্ন অনিয়মের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বর্তমান সরকারের চার মাস পার হলেও এখনো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিগত সরকারের প্রভাবশালীরা বসে আছেন। বাজেট বাস্তবায়নে এবং সরকারকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে যারা একটি দুষ্টচক্র হিসেবে কাজ করছে।

এ সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের তীব্র সমালোচনা করে রেহানা আক্তার রানু বলেন, এনবিআর কর্মকর্তারা সরকারের রাজস্ব আদায়ের চেয়ে নিজেদের পকেট ভারী করতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। তাই রাজস্ব খাতে গতি আনতে সেখানে অবিলম্বে একটি ‘সার্জিক্যাল অপারেশন’ চালানো প্রয়োজন।

জাতীয় পার্টির সমালোচনা করে তিনি দলটিকে ‘মিউ মিউ মার্কা’ বিরোধীদল হিসেবে আখ্যা দেন। পাশাপাশি বর্তমান সংসদকে সত্যিকারের ঝকঝকে ও কার্যকর বিরোধীদল সমৃদ্ধ বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া ব্যাংক খাতের চরম বিশৃঙ্খলা, লুটপাট ও টাকা পাচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি ব্যাংক লুটেরাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সাধারণ গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার জোর দাবি জানান।

বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তিনি টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহার, সঞ্চয়পত্রের ১০ শতাংশ কর কাটার প্রস্তাব বাতিল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার কঠোর মনিটরিংয়ের তাগিদ দেন। বক্তব্যের শেষ অংশে ফেনী অঞ্চলের উন্নয়নে একটি মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, লালপোল ফ্লাইওভার নির্মাণ, বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও জনগণকে সতর্ক করে বলেন, অভ্যন্তরীণ অনৈক্যের কারণে যদি শেখ হাসিনা আবার ফিরে আসেন, তবে যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রোফাইল লাল করেছিলেন— তাদের জীবন কালো হয়ে যাবে।

এমওএস/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow