শেষ ২০ মিনিটের ঝড়ে চেলসিকে উড়িয়ে দিল পিএসজি

২-২ গোলে ম্যাচটা ছিল সমতায়। চেলসি আর পিএসজির হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শেষ হতে যাচ্ছিল সমতা দিয়েই; ঘরের মাঠে শেষ ২০ মিনিটে চেলসিকে বিধ্বস্ত করে ছাড়লো ফরাসি ক্লাব পিএসজি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে শেষ ২০ মিনিটের ঝোড়ো পারফরম্যান্সে চেলসিকে ৫-২ গোলে হারিয়েছে প্যারিসের ক্লাবটি। বুধবার পার্ক দে প্রিন্সেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেষ ২০ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে বড় জয়ের ভিত গড়ে নেয় বর্তমান শিরোপাধারীরা। ২-২ গোলে সমতা থাকা অবস্থায় ম্যাচের ৭৪ মিনিটে চেলসির গোলরক্ষক ফিলিপ ইয়ারগেনসেনের বড় ভুলের সুযোগ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় পিএসজি। বল কেড়ে নেওয়ার পর সতীর্থের পাস পেয়ে ভিতিনহা সহজেই বল তুলে দেন ফাঁকা জালে। এরপর বদলি খেলোয়াড় খভিচা খভারাত্সখেলিয়া ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলোতে আরও দুই গোল করেন। ৮৬তম মিনিটে তার প্রথম গোলটি ছিল দারুণ এক বাঁকানো শট, আর যোগ করা সময়ে (৯০+৪ মিনিটে) কাছ থেকে আরেকটি গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ফলে আগামী সপ্তাহে চেলসির মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় লেগের আগে শক্ত অবস্থানে রয়েছে পিএসজি। গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালের পুনরাবৃত

শেষ ২০ মিনিটের ঝড়ে চেলসিকে উড়িয়ে দিল পিএসজি

২-২ গোলে ম্যাচটা ছিল সমতায়। চেলসি আর পিএসজির হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শেষ হতে যাচ্ছিল সমতা দিয়েই; ঘরের মাঠে শেষ ২০ মিনিটে চেলসিকে বিধ্বস্ত করে ছাড়লো ফরাসি ক্লাব পিএসজি।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে শেষ ২০ মিনিটের ঝোড়ো পারফরম্যান্সে চেলসিকে ৫-২ গোলে হারিয়েছে প্যারিসের ক্লাবটি। বুধবার পার্ক দে প্রিন্সেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেষ ২০ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে বড় জয়ের ভিত গড়ে নেয় বর্তমান শিরোপাধারীরা।

২-২ গোলে সমতা থাকা অবস্থায় ম্যাচের ৭৪ মিনিটে চেলসির গোলরক্ষক ফিলিপ ইয়ারগেনসেনের বড় ভুলের সুযোগ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় পিএসজি। বল কেড়ে নেওয়ার পর সতীর্থের পাস পেয়ে ভিতিনহা সহজেই বল তুলে দেন ফাঁকা জালে।

এরপর বদলি খেলোয়াড় খভিচা খভারাত্সখেলিয়া ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলোতে আরও দুই গোল করেন। ৮৬তম মিনিটে তার প্রথম গোলটি ছিল দারুণ এক বাঁকানো শট, আর যোগ করা সময়ে (৯০+৪ মিনিটে) কাছ থেকে আরেকটি গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ফলে আগামী সপ্তাহে চেলসির মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় লেগের আগে শক্ত অবস্থানে রয়েছে পিএসজি।

গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি ছিল এই ম্যাচ, যেখানে জয় পেয়েছিল চেলসি। সেই স্মৃতির ম্যাচে পিএসজির হয়ে প্রথম দিকে দুবার দলকে এগিয়ে দেন ব্র্যাডলি বারকোলা ও উসমান দেম্বেলে। তবে চেলসির পক্ষে প্রতিবারই সমতা ফেরান মালো গুস্তো ও এনজো ফার্নান্দেজ। শেষ পর্যন্ত গোলরক্ষক ইয়ারগেনসেনের ভুলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পিএসজির হাতে চলে যায়।

ইয়ারগেনসেনের একটি পাস সহজেই কেড়ে নেন বারকোলা। এরপর খভারাত্সখেলিয়া বল বাড়ান ভিতিনহার দিকে এবং তিনি গোলরক্ষককে পাশ কাটিয়ে নিখুঁত চিপ শটে গোল করেন।

এর কিছুক্ষণ পর খভারাত্সখেলিয়া দুর্দান্ত বাঁকানো শটে চতুর্থ গোলটি করেন এবং যোগ করা সময়ে কাছ থেকে পঞ্চম গোলটি করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই চেলসি রক্ষণাত্মকভাবে খেলতে আসেনি। তারা বেশ উঁচু লাইনে খেলে এবং অনেক খেলোয়াড়কে সামনে তুলে এনে প্রতিপক্ষের অর্ধেই খেলা চালানোর চেষ্টা করে।

ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিটেই তারা গোল করতে পারত। ডান দিক থেকে রিস জেমস নিচু ক্রস বাড়ালেও জোয়াও পেদ্রো ঠিকমতো শট নিতে পারেননি।

তবে চেলসির রক্ষণে দুর্বলতা আগেও দেখা গেছে এবং এই ম্যাচেও সেটির সুযোগ নেয় পিএসজি। নিজেদের বক্সের ভেতরে একটি বল ঠিকভাবে সামলাতে না পারায় বিপদ তৈরি হয় এবং সেই সুযোগেই গোল পায় স্বাগতিক দল।

ডান দিক থেকে উসমান দেম্বেলে ক্রস তুললে জোয়াও নেভেস হেড করে বল নামিয়ে দেন। সেই বল বুকে নিয়ন্ত্রণ করে বারকোলা জোরালো শটে জালে পাঠান, বলটি ক্রসবারে লেগে জালে ঢুকে পড়ে।

প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়ার অভিযোগ থাকলেও এই ম্যাচে চেলসি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। এনজো ফার্নান্দেজের চমৎকার পাসে বারকোলা একটু অসতর্ক হওয়ায় পিএসজির বক্সে প্রায় একা হয়ে যান গুস্তো।

ডিফেন্ডার গুস্তো একবার বল নিয়ন্ত্রণ করে জোরে শট নেন। পিএসজির গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভ হাত লাগালেও বল তার নাগালের বাইরে চলে গিয়ে জালে ঢুকে পড়ে। এরপর মাত্র ১৪ সেকেন্ডের এক উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে আবারও এগিয়ে যায় পিএসজি।

চেলসির কোল পালমারের সামনে সহজ সুযোগ এসেছিল, কিন্তু তার শট সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে যায়। সেখান থেকে বল দূরে সরিয়ে দেওয়া হলে মুহূর্তেই পাল্টা আক্রমণে ছুটে যান দেম্বেলে। ওয়েসলি ফোফানা তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারজয়ী এই তারকা সহজেই তাকে কাটিয়ে নিচু শটে কোণায় বল জড়ান।

প্রথমার্ধেই পেদ্রো নেতো দেখিয়েছিলেন যে গতি দিয়ে তিনি পিএসজির অধিনায়ক মারকিনিওসকে সমস্যায় ফেলতে পারেন। দ্বিতীয়ার্ধেও একইভাবে তিনি দ্রুতগতিতে বক্সে ঢুকে বল বাড়িয়ে দেন ফার্নান্দেজের দিকে। ফের্নান্দেস জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান।

তবে ম্যাচের শেষ ভাগে পিএসজির ঝড়ো আক্রমণের সামনে আর টিকতে পারেনি চেলসি। শেষ কুড়ি মিনিটে তিন গোল করে দাপুটে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা এবং দ্বিতীয় লেগের আগে নিজেদের অবস্থান অনেকটাই শক্ত করে ফেলে।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow