শ্রীমঙ্গলে লোডশেডিং-তেল সংকটে জনজীবনে দুর্ভোগ, পর্যটনে ধস
শ্রীমঙ্গলে লোডশেডিং ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। একইসঙ্গে চাহিদা অনুপাতে তেল সরবরাহ না থাকায় জনজীবন এবং পর্যটন শিল্পে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে দিন এবং গভীর রাত পর্যন্ত ৫ থেকে ৬ ঘন্টার দীর্ঘ বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ থাকায় এখানকার জনজীবন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী সহ পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায়ীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন উপজেলায় আগত দেশি এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের নিরবিছিন্ন সেবা দিতে পারছেন না পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট হোটেল রিসোর্ট কটেজ গেস্ট হাউজ ব্যাবসায়ীরা। সেই সঙ্গে চাহিদা অনুপাতে তেল সরবরাহ না থাকায় রাত গভীরে প্রচন্ড গরমে পর্যটকদের জেনারেটরের মাধ্যমে সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। শহরজুড়ে প্রচন্ড যানজট এবং ভেঙেপড়া ট্রাফিক ব্যাবস্থাও জনজীবনে ভোগান্তি বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষার টেবিলে যখন নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগ থাকার কথা তখন ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের মনযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। জনসাধারণের কষ্টের মধ্যেই একশ্রেণীর ব্যাবসায়ীরা বিদ্যুতের বিকল
শ্রীমঙ্গলে লোডশেডিং ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। একইসঙ্গে চাহিদা অনুপাতে তেল সরবরাহ না থাকায় জনজীবন এবং পর্যটন শিল্পে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে দিন এবং গভীর রাত পর্যন্ত ৫ থেকে ৬ ঘন্টার দীর্ঘ বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ থাকায় এখানকার জনজীবন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী সহ পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায়ীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন উপজেলায় আগত দেশি এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের নিরবিছিন্ন সেবা দিতে পারছেন না পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট হোটেল রিসোর্ট কটেজ গেস্ট হাউজ ব্যাবসায়ীরা। সেই সঙ্গে চাহিদা অনুপাতে তেল সরবরাহ না থাকায় রাত গভীরে প্রচন্ড গরমে পর্যটকদের জেনারেটরের মাধ্যমে সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না।
শহরজুড়ে প্রচন্ড যানজট এবং ভেঙেপড়া ট্রাফিক ব্যাবস্থাও জনজীবনে ভোগান্তি বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষার টেবিলে যখন নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগ থাকার কথা তখন ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের মনযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। জনসাধারণের কষ্টের মধ্যেই একশ্রেণীর ব্যাবসায়ীরা বিদ্যুতের বিকল্প ব্যাবস্থা আইপিএস এবং ব্যাটারির দাম বাড়িয়েছেন কয়েকগুণ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার শতাধিক হোটেল রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন অনেক পর্যটক। সেই সাথে যারা এসেছেন প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুত ভোগান্তির কারণে তিন দিনের বুকিং থাকার পরেও একদিন থেকেই চলে যাচ্ছেন অনেক পর্যটক। এতে করে যেমন লোকসান হচ্ছে পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায়ীদের সেই সাথে সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব।
শ্রীমঙ্গল রাধানগর ট্র্যরিজম এন্ট্রাপ্রেনারের সাধারণ সম্পাদক তারেকুর রহমান বলেন, আমাদের অসংখ্য বুকিং ইতিমধ্যেই বাতিল হয়ে গেছে। গরমের সাথে ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল আসতে রাস্তার বেহাল দশায় পর্যটকরা এখানে আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। আমাদের রাধানগর এলাকায় অসংখ্য কটেজ গেস্ট হাউজ বিদ্যুতের কারণে গেস্ট নিতে পারছে না, এখানে প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে পর্যটকদের সেবা প্রদান মারাত্মক আকারে ব্যাহত হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল চামুং রেস্টুরেন্টের পরিচালক পংকজ ভট্টাচার্য জানান, আমাদের রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ শত পর্যটকদের সেবা দিয়ে থাকি। কিন্ত দেশের এই বিদ্যুত বিপর্যয়ের কারণে এখানে পর্যটকের সংখ্য অর্ধেকেরও কম নেমে গেছে। এতে করে প্রতিষ্ঠানের খরচ নির্বাহ করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি সেলিম আহমেদ জানান, আমাদের পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায়ীদের সংকট এখন চরমে। একদিকে বিদ্যুৎ বিপর্যয় অন্যদিকে তেল সংকট। আমরা এখানে আগত পর্যটকদের পরিপূর্ণ সেবা দিতে পারছি না। এতে করে আমাদের যেমন লোকসান হচ্ছে সেই সাথে এই খাতের হাজারো মানুষের জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যদি দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না করা হয় তাহলে দেশের পর্যটন শিল্পের ব্যাবসায়ীদের চরম দুর্দশায় পড়তে হবে। এই খাতের সরকারের রাজস্ব আদায়ে ও ভাটা পড়বে।
শ্রীমঙ্গল পল্লি বিদ্যুতের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার সুজিত কুমার বিশ্বাস কালবেলাকে বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় বিদ্যুতের গ্রাহক ৫ লাখ এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৮৩ হাজার। সেআমাদের সর্বোচ্চ ডিমান্ডটা নির্ভর করে লোড চাহিদার উপর, এটা টাইম টু টাইম ভ্যারি করে। দেখা গেছে এখন ডিমান্ড হাই আবার আধাঘন্টা পরে ডিমান্ড কমে গেলো। এখন লোডশেডিং আছে আবার আধাঘন্টা পর লোডশেডিং উইড্র হয়ে গেলো। বিদ্যুত বিতরন সিস্টেম টা এইরকম।
তিনি বলেন, এ বছর আমাদের গরম এখনো ঠিকভাবে পড়েনি। এখন পর্যন্ত আমাদের সর্বোচ্চ ডিমান্ড উঠেছে একদিন ১০৫ মেগাওয়াট, সেখানে আমরা ৭৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত আমরা লোড পেয়েছি। ফলে গড়ে বিগত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের ১৫ থেকে ২০ পার্সেন্ট লোডশেডিং থাকছে। এবছর গরম বাড়লে চাহিদা ১২৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত যেতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তেল চালিত কেন্দ্র গুলো সচল রাখার চেষ্টা রয়েছে। এই ভোগান্তিটা আশা করছি অচিরেই কেটে যাবে।
What's Your Reaction?