সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের দায়িত্ব

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মুহাম্মাদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে আমাদের সরল-সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। আল্লাহর প্রশংসা করছি—এমন প্রশংসা যা উত্তম ও পবিত্র, এবং যা আমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য নেয়ামতের উপযুক্ত। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল যিনি আমাদের সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন, যেন তারা সৎকর্মশীল ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারী হয় এবং অবাধ্য ও পাপাচারী না হয়। হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মাদের (সা.) ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সঙ্গী-সাথীদের ওপর সকাল-সন্ধ্যা রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। আম্মা বা’দ লোকসকল! বাবা-মায়ের অপরিহার্য দায়িত্ব হলো তারা তাদের সন্তানদের উত্তমরূপে প্রতিপালন করবে। সন্তানরা যাতে নষ্ট বা পথভ্রষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে তাদের সংশোধন এবং ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণের পথে তাদের পরিচালনা করবে। সন্তানরা বাবা-মায়ের অধীনস্থ এক পবিত্র আমানত। আর প্রত্যেককেই ত

সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের দায়িত্ব

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মুহাম্মাদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে আমাদের সরল-সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। আল্লাহর প্রশংসা করছি—এমন প্রশংসা যা উত্তম ও পবিত্র, এবং যা আমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য নেয়ামতের উপযুক্ত।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল যিনি আমাদের সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন, যেন তারা সৎকর্মশীল ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারী হয় এবং অবাধ্য ও পাপাচারী না হয়। হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মাদের (সা.) ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সঙ্গী-সাথীদের ওপর সকাল-সন্ধ্যা রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

আম্মা বা’দ

লোকসকল! বাবা-মায়ের অপরিহার্য দায়িত্ব হলো তারা তাদের সন্তানদের উত্তমরূপে প্রতিপালন করবে। সন্তানরা যাতে নষ্ট বা পথভ্রষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে তাদের সংশোধন এবং ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণের পথে তাদের পরিচালনা করবে। সন্তানরা বাবা-মায়ের অধীনস্থ এক পবিত্র আমানত। আর প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন দায়িত্বশীল, আর প্রত্যেককে তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। রাষ্ট্রপ্রধান একজন দায়িত্বশীল, তাকে তার প্রজাদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল, তাকে তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে। নারী তার স্বামীর ঘরের দায়িত্বশীল, তাকে তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। একজন গৃহকর্মী বা দাস তার মনিবের সম্পদের দায়িত্বশীল, তাকে সেই সম্পদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। একজন সন্তান তার বাবার সম্পদের দায়িত্বশীল, তাকেও তার দায়িত্বের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে।’

লোকসকল! সন্তানদের প্রধান তিনটি মৌলিক অধিকার রয়েছে যা রক্ষা করা বাবা-মায়ের কর্তব্য:

১. সন্তানের জন্য একজন সৎ ও পুণ্যবতী মা নির্বাচন করা।

২. জন্মের পর সন্তানের একটি সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখা।

৩. তাদেরকে পবিত্র কোরআন শিক্ষা দেওয়া।

আপনারা আপনাদের সন্তানদের কোরআন শিক্ষা দিন। তাদের আল্লাহর ফরজ বিধানগুলো মেনে চলতে অভ্যস্ত করুন। সমস্ত অন্যায়, পাপাচার ও ক্ষতিকর বিষয় থেকে তাদের আগলে রাখুন। তারা যখন বিয়ের বয়সে পৌঁছাবে, তখন সুন্দর ও উত্তম উপায়ে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করুন; যাতে তারা চরিত্রহীনতা ও ধ্বংসের অতল গহ্বরে পতিত না হয়।

ইমাম আহমদ, আবু দাউদ ও হাকেম হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের বয়স যখন সাত বছর হবে, তখন তাদের নামাজের নির্দেশ দাও। আর যখন তাদের বয়স দশ বছর হবে, তখন নামাজ না পড়লে তাদের শাসন করো এবং তাদের শোয়ার বিছানা পৃথক করে দাও।’

লোকসকল! সন্তানদের কোরআন-হাদিস ও দ্বীনের বিধানসমূহ দেওয়া কোরআনের নির্দেশ। শৈশবেই তাদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে বিশেষ যত্নবান হোন। শৈশবের শিক্ষা পাথরে খোদাই করা দাগের মতো স্থায়ী হয়। শৈশবে সন্তানকে দ্বীন শেখানোর ব্যাপারে উদাসীন থাকলে বড় হওয়ার পর তাদের সঠিক পথে আনা বাবা-মায়ের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

সন্তানদের উত্তম আদব ও শিষ্টাচার শেখানোর প্রতি মনোযোগী হোন। সন্তানদের জন্য বাবা-মায়ের পক্ষ থেকে উত্তম আদব ও নৈতিক শিক্ষার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো উপহার হতে পারে না।

বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। (আল্লাহ তাআলা বলেন:) ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো; যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর। যেখানে নিয়োজিত রয়েছে অত্যন্ত কঠোর ও শক্তিশালী ফেরেশতাগণ, যারা আল্লাহ যা নির্দেশ করেন তা অমান্য করে না এবং তারা যা আদেশ পায়, ঠিক তা-ই সম্পাদন করে।’ (সুরা তাহরীম: ৬)

আল্লাহ আমাদের জন্য ও আপনাদের জন্য মহান কোরআনের মাধ্যমে বরকত দান করুন। কোরআনের আয়াত ও হিকমতপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে আমাদের ও আপনাদের উপকৃত করুন। আল্লাহর কাছে আমার জন্য, আপনাদের জন্য ও সকল মুসলমানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা তাঁর কাছে ক্ষমা চান, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।

ওএফএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow