সভাপতি নির্বাচিত হলে শিল্পীদের জন্য যা করবেন শিবা শানু

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে শিল্পীদের কাছে নিজের অঙ্গীকার তুলে ধরলেন অভিনেতা শিবা শানু। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ক্ষমতার চেয়ারে বসে সময় কাটানোর চেয়ে শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সমস্যা সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেবেন তিনি। এফডিসিতে শিল্পীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিবা শানু বলেন, ‘সভাপতি হলে চেয়ারে বসে সময় নষ্ট করব না। আপনাদের পাশের চেয়ারে বসে আপনাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনব। শুধু মিটিংয়ের সময় সভাপতি হিসেবে নির্ধারিত চেয়ারে বসব। আপনারা আমাকে সেই সুযোগটা করে দিন।’ আরও পড়ুন জুলাই মামলায় নাম / মধ্যরাতে বাসায় পুলিশ, কান্নায় ভেঙে পড়ে যা বললেন অভিনেতা কমল পাটেকার তিনি বলেন, শিল্পী সমিতির নেতৃত্ব মানে শুধু একটি পদ নয়, বরং শিল্পীদের অধিকার আদায়ের দায়িত্ব। তাই নির্বাচিত হলে শিল্পীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শিবা শানু। তিনি বলেন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রের নৃত্য পরিচালকদের যথাযথ অগ্রাধিকার দেও

সভাপতি নির্বাচিত হলে শিল্পীদের জন্য যা করবেন শিবা শানু

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে শিল্পীদের কাছে নিজের অঙ্গীকার তুলে ধরলেন অভিনেতা শিবা শানু। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ক্ষমতার চেয়ারে বসে সময় কাটানোর চেয়ে শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সমস্যা সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেবেন তিনি।

এফডিসিতে শিল্পীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিবা শানু বলেন, ‘সভাপতি হলে চেয়ারে বসে সময় নষ্ট করব না। আপনাদের পাশের চেয়ারে বসে আপনাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনব। শুধু মিটিংয়ের সময় সভাপতি হিসেবে নির্ধারিত চেয়ারে বসব। আপনারা আমাকে সেই সুযোগটা করে দিন।’

তিনি বলেন, শিল্পী সমিতির নেতৃত্ব মানে শুধু একটি পদ নয়, বরং শিল্পীদের অধিকার আদায়ের দায়িত্ব। তাই নির্বাচিত হলে শিল্পীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শিবা শানু। তিনি বলেন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রের নৃত্য পরিচালকদের যথাযথ অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না। অথচ চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়ার পরিবর্তে বাইরের লোকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি মনে করেন, এই চর্চা বন্ধ হওয়া উচিত এবং চলচ্চিত্রের নিজস্ব পেশাজীবীদেরই প্রাধান্য দিতে হবে।

বিদেশে বাংলাদেশি সিনেমার শুটিং ও প্রযুক্তিগত কাজে বাইরের কলাকুশলী নিয়োগের বিষয়েও আপত্তি জানান তিনি। শিবা শানু বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থে, বাংলাদেশের প্রযোজনায় সিনেমা নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু সেখানে অনেক সময় বিদেশি কোরিওগ্রাফার বা ফাইট আর্টিস্ট নেওয়া হয়। আমি বলছি, আগে আমাদের শিল্পীদের সুযোগ দিতে হবে। যদি বিশেষ প্রয়োজনে বিদেশি কাউকে নেওয়াই হয়, তাহলে আমাদের শিল্পীদেরও সমান গুরুত্ব ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তাদের কাজের সুযোগ কমিয়ে বিদেশি জনবল আনার প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্য ক্ষতিকর।

শিল্পী সমিতির কার্যক্রম নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শিবা শানু। তিনি জানান, চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেবেন। পাশাপাশি শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

বক্তব্যের শেষ দিকে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি যদি জয়ী হই, একা জয়ী হবো না। জয়ী হবেন আপনারাও। কারণ এই বিজয় হবে চলচ্চিত্র পরিবারের, শিল্পীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার।’

আগামী শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শিবা শানু। নির্বাচিত হলে শিল্পীদের কল্যাণ, দেশীয় কলাকুশলীদের অগ্রাধিকার এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের অধিকার প্রতিষ্ঠাকে তিনি নিজের প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরছেন।

 

এমআই/এলআইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow