সরকারি কর্মসূচিতে বিতর্কিত নেতার উপস্থিতি, তদন্তে সিলেট জেলা প্রশাসন
কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায় অভিযুক্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাহাব উদ্দিনকে ঘিরে প্রশাসনে তোলপাড় চলছে। সরকারি সফর ও বিভিন্ন ভিআইপি কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে সিলেটের জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম কালবেলাকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সাহাব উদ্দিন কীভাবে সরকারি কর্মকর্তা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও ভিআইপি ব্যক্তিদের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে বুধবার (১৭ জুন) দৈনিক কালবেলার শেষ পাতায় এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর পরিবেশবাদী সংগঠন, সুজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। আলোচিত ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে, ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে অবৈধ পাথর উত্তোলন, চুরি, দখল ও লুটপাটের মামলার আসামি সাহাব উদ্দিন সম্প্রতি একটি সরকারি অনুষ্ঠানে তাকে ভোলাগঞ্জ সাদাপা
কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায় অভিযুক্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাহাব উদ্দিনকে ঘিরে প্রশাসনে তোলপাড় চলছে।
সরকারি সফর ও বিভিন্ন ভিআইপি কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে সিলেটের জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম কালবেলাকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সাহাব উদ্দিন কীভাবে সরকারি কর্মকর্তা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও ভিআইপি ব্যক্তিদের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে বুধবার (১৭ জুন) দৈনিক কালবেলার শেষ পাতায় এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর পরিবেশবাদী সংগঠন, সুজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
আলোচিত ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে, ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে অবৈধ পাথর উত্তোলন, চুরি, দখল ও লুটপাটের মামলার আসামি সাহাব উদ্দিন সম্প্রতি একটি সরকারি অনুষ্ঠানে তাকে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর নৌকাঘাট পরিদর্শন করতে দেখা যায়। একজন আলোচিত মামলার আসামিকে সরকারি সফরে দেখা যাওয়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম কালবেলাকে বলেন, বিএনপির সাবেক সভাপতি সাহাব উদ্দিন কীভাবে বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর ও তদন্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কীভাবে এবং কোন উৎস বা যোগাযোগের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা, ভিআইপি ব্যক্তি ও মন্ত্রীদের সান্নিধ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন, সেটিও গুরুত্বসহকারে অনুসন্ধান করা হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য ও সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের ব্যবস্থার বিষয়ে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখার সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম কালবেলাকে বলেন, অতীতেও এ ধরনের অনেক তদন্ত কমিটি গঠন হলেও সেগুলোর ফলাফল ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়ে খুব একটা ইতিবাচক অভিজ্ঞতা নেই। তাই জেলা প্রশাসনের তদন্তের আশ্বাসকে স্বাগত জানালেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং শাস্তি নিশ্চিত হয় কি না, সেটিই মূল বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সরকারি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের আর দেখা যাবে না বলে জেলা প্রশাসক যে আশ্বাস দিয়েছেন, তার বাস্তব প্রতিফলন আগামী দিনে দেখা গেলে তবেই এ বিষয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, সিলেটের নদী ও পর্যটন এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলন দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একটি বিষয়। অতীতে এ নিয়ে সমালোচনার মুখে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব হলো, পাথরখেকো চক্রের সঙ্গে তাদের দলের কোনো ব্যক্তি জড়িত নন এটি কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রমাণ করা। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থান নিলে তাদের আন্তরিকতা স্পষ্ট হবে।
What's Your Reaction?