সরকারি চাল আত্মসাৎ, সাবেক খাদ্য কর্মকর্তার ৮ বছরের কারাদণ্ড
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ খাদ্য গুদাম থেকে ১৯০ টনের বেশি সরকারি চাল আত্মসাতের দায়ে খাদ্যগুদামের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাশ পাল চৌধুরীকে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আত্মসাৎ করা চালের বাজারমূল্যের সমপরিমাণ ৮৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৭ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে তাকে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন। মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৫ থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ খাদ্য গুদামে সংঘটিত হয় বহুল আলোচিত এ আত্মসাতের ঘটনা। ওই সময়ে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পলাশ পাল চৌধুরী ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৯০ দশমিক ৪৪২ টন সরকারি চাল অবৈধভাবে সরিয়ে আত্মসাৎ করেন। তদন্তে উঠে আসে, আত্মসাৎ করা চালের প্রতি টনের বাজারমূল্য ছিল ৪৪ হাজার ৭৬৬ টাকা ৫৭ পয়সা। সে হিসেবে সরকারের মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৭ টাকা। ঘটনার পর ২০২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক রত
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ খাদ্য গুদাম থেকে ১৯০ টনের বেশি সরকারি চাল আত্মসাতের দায়ে খাদ্যগুদামের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাশ পাল চৌধুরীকে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আত্মসাৎ করা চালের বাজারমূল্যের সমপরিমাণ ৮৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৭ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে তাকে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৫ থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ খাদ্য গুদামে সংঘটিত হয় বহুল আলোচিত এ আত্মসাতের ঘটনা। ওই সময়ে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পলাশ পাল চৌধুরী ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৯০ দশমিক ৪৪২ টন সরকারি চাল অবৈধভাবে সরিয়ে আত্মসাৎ করেন।
তদন্তে উঠে আসে, আত্মসাৎ করা চালের প্রতি টনের বাজারমূল্য ছিল ৪৪ হাজার ৭৬৬ টাকা ৫৭ পয়সা। সে হিসেবে সরকারের মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৭ টাকা। ঘটনার পর ২০২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলায় পলাশ পাল চৌধুরী ছাড়াও খাদ্যগুদামের খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী শাহজাহান প্রকাশ মিন্টু, নিরাপত্তা প্রহরী নিজাম উদ্দিন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের স্প্রেম্যান মো. শাহজাহান, মেসার্স হিমায়ন সি-ফুডসের মালিক দিলরুবা হাসান এবং মেসার্স মোহনা এন্টারপ্রাইজের মালিক সেলিম রেজাকে আসামি করা হয়।
পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২ আগস্ট কক্সবাজারের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্তে অন্য পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় পলাশ পাল চৌধুরীকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ড দেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার অভিযোগ গঠনের পর থেকেই পলাশ পাল চৌধুরী পলাতক রয়েছেন। রায়ে আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
দুদকের পিপি মোকাররম হোসাইন বলেন, সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে চাল আত্মসাতের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করে কেউ আইনের হাত থেকে রক্ষা পাবে না। এই রায় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্য সতর্কসংকেত হিসেবে কাজ করবে।
What's Your Reaction?