সরকারি হাসপাতালে জনবল সংকট কাটাতে ধাপে ধাপে নিয়োগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের ঘাটতি রয়েছে। তবে পর্যায়ক্রমে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এ সংকট কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মন্ত্রী। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি, যার ভবন প্রায় ১২০ বছর পুরোনো। এত পুরোনো অবকাঠামোর মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। একজন রোগীর জায়গায় তিনজন পর্যন্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন, এমন পরিস্থিতিও রয়েছে। তিনি বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা এখনো কম হলেও প্রতিবছর নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। মাত্র সাত দিন আগে নতুন অনেক চিকিৎসক যোগদান করেছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা প্রতি বছর চিকিৎসক নিয়োগ অব্যাহত রাখব।আরও পড়ুনডিউটি ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগ
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের ঘাটতি রয়েছে। তবে পর্যায়ক্রমে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এ সংকট কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি, যার ভবন প্রায় ১২০ বছর পুরোনো। এত পুরোনো অবকাঠামোর মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। একজন রোগীর জায়গায় তিনজন পর্যন্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন, এমন পরিস্থিতিও রয়েছে।
তিনি বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা এখনো কম হলেও প্রতিবছর নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। মাত্র সাত দিন আগে নতুন অনেক চিকিৎসক যোগদান করেছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা প্রতি বছর চিকিৎসক নিয়োগ অব্যাহত রাখব।
আরও পড়ুন
ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত রোগী দেখায় চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিত
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালগুলোতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরও ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং কোথাও কোথাও আউটসোর্সিং পদ্ধতিও চালু করা হচ্ছে।
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, কোথাও কোথাও ময়লা-আবর্জনা ও ব্যবহৃত রক্তাক্ত কাপড় যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও অপসারণ করা হচ্ছে না। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও সঠিকভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি ওষুধে বিশেষ চিহ্ন দেওয়া হবে, যাতে সেগুলো বাইরে বিক্রি হলে সহজে শনাক্ত করা যায়। আশপাশের কোনো ফার্মেসিতে এমন ওষুধ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
রাজনৈতিক পরিচয়ে হাসপাতালে অনেক বড় বড় ডাক্তার রয়েছে, তারা কোনো রোগী দেখে না সেবা দেয় না সেক্ষেত্রে কী করা হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের প্রভাব পড়তে দেওয়া হবে না। রাজনীতি সবাই করতে পারে, আমিও করি। কিন্তু আমার কাজের ক্ষেত্রে রাজনীতি কোনোভাবেই প্রভাব ফেলতে পারবে না।
দেশের স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় জরুরি চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে নার্স ও টেকনিশিয়ানের সংখ্যাও তুলনামূলক কম। এ কারণে ধাপে ধাপে প্রায় এক লাখ জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত হবে। সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সবার সহযোগিতা থাকলে জনগণের জন্য আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এমএএস/এমএএইচ/
What's Your Reaction?