সামান্য ভুলেই ফ্রিজে ঘটতে পারে বিপদ, সচেতন থাকবেন যেভাবে

রান্নাঘরের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য যন্ত্র হলো ফ্রিজ। প্রতিদিনের খাবার সংরক্ষণ থেকে শুরু করে গরমের দিনে ঠান্ডা পানীয়সহ সবকিছুর জন্যই আমরা নির্ভর করি এই যন্ত্রটির ওপর। কিন্তু জানেন কি, সামান্য অসাবধানতা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই ফ্রিজই হয়ে উঠতে পারে বিপজ্জনক? নতুন মডেলে ঝুঁকি তুলনামূলক কম হলেও, দীর্ঘদিন ব্যবহৃত পুরোনো ফ্রিজ অনেক সময় অদৃশ্য ঝুঁকি তৈরি করে। সচেতন না হলে ছোট ভুলই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। কেন ফ্রিজ বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে?প্রথমত, পুরোনো ফ্রিজের কম্প্রেশার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ। ১০-১৫ বছরের বেশি পুরোনো যন্ত্রে কম্প্রেশারের ওপর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফ্রিজ ২৪ ঘণ্টাই সচল থাকে, ফলে অতিরিক্ত গরম হওয়া অস্বাভাবিক নয়। যদি ভোল্টেজের ওঠানামা হয় বা যন্ত্রকে নিয়মিত বিশ্রাম ও সার্ভিসিং না দেওয়া হয়, তাহলে কম্প্রেশার বিকল হয়ে শর্টসার্কিট বা বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। দ্বিতীয়ত, ফ্রিজের ভেতরে অতিরিক্ত খাবার গাদাগাদি করে রাখা ঠিক নয়। ভেতরে বাতাস চলাচলের জায়গা না থাকলে কুলিং সিস্টেমকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এতে বিদ্যুৎ খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি যন্ত্রের ওপর চাপও বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বৈদ্যুতিক সমস্

সামান্য ভুলেই ফ্রিজে ঘটতে পারে বিপদ, সচেতন থাকবেন যেভাবে

রান্নাঘরের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য যন্ত্র হলো ফ্রিজ। প্রতিদিনের খাবার সংরক্ষণ থেকে শুরু করে গরমের দিনে ঠান্ডা পানীয়সহ সবকিছুর জন্যই আমরা নির্ভর করি এই যন্ত্রটির ওপর। কিন্তু জানেন কি, সামান্য অসাবধানতা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই ফ্রিজই হয়ে উঠতে পারে বিপজ্জনক? নতুন মডেলে ঝুঁকি তুলনামূলক কম হলেও, দীর্ঘদিন ব্যবহৃত পুরোনো ফ্রিজ অনেক সময় অদৃশ্য ঝুঁকি তৈরি করে। সচেতন না হলে ছোট ভুলই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

কেন ফ্রিজ বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে?
প্রথমত, পুরোনো ফ্রিজের কম্প্রেশার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ। ১০-১৫ বছরের বেশি পুরোনো যন্ত্রে কম্প্রেশারের ওপর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফ্রিজ ২৪ ঘণ্টাই সচল থাকে, ফলে অতিরিক্ত গরম হওয়া অস্বাভাবিক নয়। যদি ভোল্টেজের ওঠানামা হয় বা যন্ত্রকে নিয়মিত বিশ্রাম ও সার্ভিসিং না দেওয়া হয়, তাহলে কম্প্রেশার বিকল হয়ে শর্টসার্কিট বা বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ফ্রিজের ভেতরে অতিরিক্ত খাবার গাদাগাদি করে রাখা ঠিক নয়। ভেতরে বাতাস চলাচলের জায়গা না থাকলে কুলিং সিস্টেমকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এতে বিদ্যুৎ খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি যন্ত্রের ওপর চাপও বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বৈদ্যুতিক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি করে।

তৃতীয়ত, নিম্নমানের সকেট, প্লাগ বা মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ভোল্টেজের ওঠানামা সামলাতে না পারলে স্পার্কিং বা শর্টসার্কিট হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, পুরোনো বাড়িতে সঠিক আর্থিং নেই-এটিও বড় ঝুঁকির কারণ।

সামান্য ভুলেই ফ্রিজে ঘটতে পারে বিপদ, সচেতন থাকবেন যেভাবে

চতুর্থত, স্টেবিলাইজার না ব্যবহার করা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ভোল্টেজের সমস্যা বেশি, সেখানে স্টেবিলাইজার ছাড়া ফ্রিজ চালানো মানে যন্ত্রটিকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া। হঠাৎ ভোল্টেজ বেড়ে গেলে কম্প্রেশার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ফ্রিজের পেছনের কয়েল বা কুলিং পাইপে গ্যাস লিক হওয়াও মারাত্মক বিপদের কারণ। অধিকাংশ ফ্রিজে রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়, যা লিক করলে আগুনের সংস্পর্শে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। অস্বাভাবিক গন্ধ, অতিরিক্ত গরম হওয়া বা অদ্ভুত শব্দ এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়।

দুর্ঘটনা এড়াতে যা করবেন
ফ্রিজ সবসময় পরিষ্কার রাখুন এবং দেয়াল থেকে অন্তত কয়েক ইঞ্চি দূরে বসাতে হবে। যাতে পেছনে বাতাস চলাচল করতে পারে। ছয় মাস বা বছরে অন্তত একবার দক্ষ মিস্ত্রি দিয়ে সার্ভিসিং করাতে হবে।

যদি ফ্রিজ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন, পোড়া গন্ধ পান বা অস্বাভাবিক শব্দ শোনেন, সঙ্গে সঙ্গে মেইন সুইচ বন্ধ করুন। নিজে মেরামত করার চেষ্টা না করে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।

সূত্র: হোমস অ্যান্ড গার্ডেনস, গুড হাউজ কিপিং, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আরও পড়ুন:
বাসন পরিষ্কার করতে লেবুর সঙ্গে কী যোগ করবেন
চা চামচ আর টেবিল চামচের পরিমাপের পার্থক্য জানেন কি?

এসএকেওয়াই/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow