সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা

হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলা এবং মৌলভীবাজারে পুলিশের বাধার ঘটনার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়ি বহর সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় এসে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার গেটের সামনে এলে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘এনসিপি, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।  পরে পৌরসভা গেট পার হয়ে পৌর ভবনের হলরুমে প্রবেশ করলে স্থানীয় এনসিপির নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্বাগতম স্লোগান দিয়ে ভেতরে নিয়ে যান। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত ৭ শহীদের পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় প্রথমেই মাইক হাতে সভা পরিচালনা শুরু করেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। এতে প্রথমে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু। এদিকে, এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বেলা ১১টা থেকে পৌরসভা এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে র‍্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্

সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা

হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলা এবং মৌলভীবাজারে পুলিশের বাধার ঘটনার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়ি বহর সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় এসে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার গেটের সামনে এলে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘এনসিপি, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। 

পরে পৌরসভা গেট পার হয়ে পৌর ভবনের হলরুমে প্রবেশ করলে স্থানীয় এনসিপির নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্বাগতম স্লোগান দিয়ে ভেতরে নিয়ে যান। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত ৭ শহীদের পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় প্রথমেই মাইক হাতে সভা পরিচালনা শুরু করেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। এতে প্রথমে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।

এদিকে, এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বেলা ১১টা থেকে পৌরসভা এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে র‍্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। একই সময়ে পৌর চৌমুহনী এলাকায় এনসিপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও অবস্থান নিতে দেখা গেছে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পোশাকধারী ১৬ র‍্যাব সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আরও ১০ র‍্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া শতাধিক পুলিশ ও এপিবিএন সদস্য এবং গোয়েন্দা বিভাগের সাদা পোশাকধারী সদস্যদের শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন।

এনসিপির স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করছে দলটি। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা হলরুমে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত সাত শহীদের পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরপর বিকেল ৩টায় কানাইঘাট উপজেলায় এবং সন্ধ্যা ৭টায় ওসমানীনগর উপজেলায় পদযাত্রা শেষে সমাবেশ করার কথা রয়েছে।

এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত রয়েছেন।

স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন, এনসিপির কর্মসূচিতে কোনো ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য কিংবা সরকার ও বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হলে তা প্রতিহত করা হবে। তবে এনসিপির পক্ষ থেকে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের কথা জানানো হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় সারজিস আলমসহ স্থানীয় নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার পুলিশ এনসিপির নেতাকর্মীদের হবিগঞ্জ শহরে প্রবেশে বাধা দিয়েছে- এমন অভিযোগও করে দলটি। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে সিলেটের গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট ও ওসমানীনগরের কর্মসূচি ঘিরে উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি হয়।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিলেটের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ও দায়িত্বশীল অবস্থান নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow