সিলেটে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩৬
সিলেট বিভাগে হঠাৎ করেই হাম ও রুবেলার সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তির হিড়িক পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৬ জন সন্দেহজনক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ল্যাবরেটরিতে একজনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ল্যাব টেস্টে ৪২ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরমধ্যে সিলেট জেলায় ১০ জন, মৌলভীবাজারে ১৪ জন, সুনামগঞ্জে ১১ জন এবং হবিগঞ্জে ৭ জনসহ দুইজন রুবেলা রোগী রয়েছেন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ১১০ জন সন্দেহজনক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরমধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৬০ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৬ জন এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন রোগী ভর্তি আছেন। এছাড়া সুনামগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, জগন্নাথপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাকি রোগীরা চিকিৎসাধীন।
হামের প্রকোপে গত কয়েক দিনে তিন শিশুর মৃত্যুতে পরিবারগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এ
সিলেট বিভাগে হঠাৎ করেই হাম ও রুবেলার সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তির হিড়িক পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৬ জন সন্দেহজনক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ল্যাবরেটরিতে একজনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ল্যাব টেস্টে ৪২ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরমধ্যে সিলেট জেলায় ১০ জন, মৌলভীবাজারে ১৪ জন, সুনামগঞ্জে ১১ জন এবং হবিগঞ্জে ৭ জনসহ দুইজন রুবেলা রোগী রয়েছেন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ১১০ জন সন্দেহজনক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরমধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৬০ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৬ জন এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন রোগী ভর্তি আছেন। এছাড়া সুনামগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, জগন্নাথপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাকি রোগীরা চিকিৎসাধীন।
হামের প্রকোপে গত কয়েক দিনে তিন শিশুর মৃত্যুতে পরিবারগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ৬ এপ্রিল দুই মাস বয়সী ফারহান, ৮ এপ্রিল আরিশা এবং ১১ এপ্রিল সাত মাস বয়সী দিব্য নামের তিন শিশু সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মৃত তিন শিশুরই বয়স এক বছরের কম।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা জানিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ও রোগনিয়ন্ত্রণ বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম। তিনি বলেন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসার জন্য পিআইসিইউ বেড সংখ্যা ৫টি থেকে বাড়িয়ে ১০টি করা হয়েছে।
ওষুধ সংকটের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, হামের চিকিৎসা মূলত লক্ষণভিত্তিক। পর্যাপ্ত ওষুধ, নেবুলাইজার ও অক্সিজেন মজুত রয়েছে। পাশাপাশি হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রণে ৬ মাস বয়স থেকেই শিশুদের টিকা প্রদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আগামী ২০ মে থেকে সিলেট বিভাগজুড়ে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে, যার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান খান জানান, তাদের এখানে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় সিলেটে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হচ্ছে। তবে তারা এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত বলে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলছেন, শিশুদের শরীরে জ্বর বা হামের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে।