সীমান্তের শূন্যরেখায় অনিশ্চয়তায় ৯টি প্রাণ
‘বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বিজিবি-বিএসএফের ডাক্তার এসে আমার দুই শিশু সন্তানকে চিকিৎসা দিছে। এখন কিছুটা সুস্থ ওরা। কিন্তু এই ফাঁকা জঙ্গল-মাঠে আর কতদিন থাকব জানি না। ফাঁকা জায়গায় বাচ্চারা থাকতে চায় না। এহন কবে কোন দেশ আমাগো নিবে আল্লাহই জানে!’ চোখে পানি আর কোলে অসুস্থ সন্তান নিয়ে আকুতিভরা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন সুমি আক্তার। তিনি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় (নোম্যান্স ল্যান্ড) ‘পুশইন’-এর শিকার হয়ে আটকে থাকা মা। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করা সুমি আক্তারের একটাই মিনতি, ‘আমাগো দ্রুত একটা ব্যবস্থা করে বাড়ি ফেরার সুযোগ করিয়া দ্যান, আমরা খুবই কষ্টে আছি।’ একই স্থানে আটকে থাকা হিমেল নামের আরেক যুবক তার যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘বিজিবি-বিএসএফের ডাক্তার আইসা চিকিৎসা দিছে, এহন বাচ্চারাসহ সুস্থ আছি। কিন্তু কোনো দেশই তো আমাগো নিচ্ছে না! কতদিন এভাবে থাকব? আমরা বাংলাদেশি, এ দেশে আমাগো ঘরবাড়ি, পরিবার আছে। দয়া করে আমাগো বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করেন।’ জানা গেছে, রোববার (১৪ জুন) আন্তর্জাতিক ১০৬০ মেইন পিলারের ১ এস সাব পিলারের কাছে ভারতের ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ৬ নাগরি
‘বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বিজিবি-বিএসএফের ডাক্তার এসে আমার দুই শিশু সন্তানকে চিকিৎসা দিছে। এখন কিছুটা সুস্থ ওরা। কিন্তু এই ফাঁকা জঙ্গল-মাঠে আর কতদিন থাকব জানি না। ফাঁকা জায়গায় বাচ্চারা থাকতে চায় না। এহন কবে কোন দেশ আমাগো নিবে আল্লাহই জানে!’
চোখে পানি আর কোলে অসুস্থ সন্তান নিয়ে আকুতিভরা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন সুমি আক্তার। তিনি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় (নোম্যান্স ল্যান্ড) ‘পুশইন’-এর শিকার হয়ে আটকে থাকা মা। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করা সুমি আক্তারের একটাই মিনতি, ‘আমাগো দ্রুত একটা ব্যবস্থা করে বাড়ি ফেরার সুযোগ করিয়া দ্যান, আমরা খুবই কষ্টে আছি।’
একই স্থানে আটকে থাকা হিমেল নামের আরেক যুবক তার যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘বিজিবি-বিএসএফের ডাক্তার আইসা চিকিৎসা দিছে, এহন বাচ্চারাসহ সুস্থ আছি। কিন্তু কোনো দেশই তো আমাগো নিচ্ছে না! কতদিন এভাবে থাকব? আমরা বাংলাদেশি, এ দেশে আমাগো ঘরবাড়ি, পরিবার আছে। দয়া করে আমাগো বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করেন।’
জানা গেছে, রোববার (১৪ জুন) আন্তর্জাতিক ১০৬০ মেইন পিলারের ১ এস সাব পিলারের কাছে ভারতের ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ৬ নাগরিককে বাংলাদেশের গয়টাপাড়া সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা করেন। এ সময় বিজিবি ও স্থানীয় জনতার বাধায় তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে যান।
একইভাবে ভারতের মানকারচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ১০৬৬ ভন্দুচর সীমান্তে আরও ৩ নাগরিককে পুশইন করার চেষ্টা করলে তাও ব্যর্থ হয়।
ফলে, গত ৪ দিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় চরম অনিশ্চয়তা আর অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটছে এই ৯টি প্রাণের। এদের মধ্যে ৫ মাসের এক অসুস্থ শিশুও রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা সিলেটসহ বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে পেটের দায়ে, কাজের সন্ধানে ভারতে গিয়েছিলেন। পরে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। এই পুশইনের ঘটনায় ইতোমধ্যে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও এখনও কোনো চূড়ান্ত সমাধান মেলেনি। ফলে দুই দেশের কাঁটাতারের মাঝের জমিতেই এখন ঝুলছে ৯টি ভাগ্য।
সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়া এই মানুষদের কষ্ট দেখে স্থির থাকতে পারেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। মানবিক দিক বিবেচনা করে সীমান্ত এলাকার মানুষ নিজ উদ্যোগে তাদের খাবার, পানি এবং পরিধেয় বস্ত্র সরবরাহ করছেন।
স্থানীয় শৌলমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সোনা মিয়া কালবেলাকে জানান, ‘৪ দিন ধরে দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী পুশইনের শিকার নাগরিকদের পাহারা দিচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এর একটা মানবিক সমাধান আসুক।’
গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর মানবিক বিবেচনায় নড়েচড়ে বসে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ২টার দিকে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়া অসুস্থ শিশুসহ নাগরিকদের বিজিবি-বিএসএফের যৌথ মেডিকেল টিম চিকিৎসাসেবা প্রদান করে।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ গয়টাপাড়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘শূন্য রেখায় থাকা নাগরিকদের আমরা পাহারা দিচ্ছি, পাশাপাশি ভারতের বিএসএফ সদস্যরাও পাহারা দিচ্ছে। মানবিক কারণে দুই দেশের যৌথ ডাক্তার দিয়ে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির সঙ্গে স্থানীয় জনতা সম্পূর্ণ তৎপর রয়েছে, যেন কোনোভাবেই অবৈধ পুশইন না হতে পারে।’
What's Your Reaction?