সুন্নতে মুআক্কাদা নামাজের কাজা আদায় করতে হবে কি?
প্রশ্ন: অসুস্থতা বা অন্য কোনো অসুবিধার কারণে সুন্নতে মুআক্কাদা নামাজ ছুটে গেলে কাজা আদায় করতে হবে? উত্তর: ঘুমিয়ে থাকা, ভুলে যাওয়া, অসুস্থতা বা কোনো অসুবিধার কারণে কোনো ওয়াক্তের ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ আদায় করতে না পারলে ওই নামাজ পরবর্তীতে আদায় করা আবশ্যক। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ঘুমিয়ে থাকার কারণে নামাজ আদায় করতে না পারলে তা অন্যায় নয়। অন্যায় হলো জেগে থেকেও নামাজ আদায় না করা। তোমাদের কেউ নামাজ আদায় করতে ভুলে গেলে অথবা নামাজের সময় ঘুমিয়ে থাকলে, যে সময়েই নামাজের কথা স্মরণ হবে, নামাজ আদায় করে নেবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমার স্মরণে নামাজ আদায় কর। (সুরা ত্বহা: ১৪)। (সহিহ মুসলিম: ৬৮১) হাদিসে নবীজির (সা.) কাজা নামাজ আদায়ের নির্দেশ ফরজ ও ওয়াজিব নামাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সুন্নত বা নফল নামাজের ক্ষেত্রে নয়। অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে কোনো ওয়াক্তের নামাজ ছুটে গেলে সেই ওয়াক্তের শুধু ফরজ নামাজের কাজা আদায় করতে হয়। সুন্নত নামাজের কাজা আদায় করতে হয় না। শুধু ফজরের সুন্নতের ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরাম বলেন, কারো যদি ফজরের নামাজ ছুটে যায় এবং তিনি ওই
প্রশ্ন: অসুস্থতা বা অন্য কোনো অসুবিধার কারণে সুন্নতে মুআক্কাদা নামাজ ছুটে গেলে কাজা আদায় করতে হবে?
উত্তর: ঘুমিয়ে থাকা, ভুলে যাওয়া, অসুস্থতা বা কোনো অসুবিধার কারণে কোনো ওয়াক্তের ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ আদায় করতে না পারলে ওই নামাজ পরবর্তীতে আদায় করা আবশ্যক।
আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ঘুমিয়ে থাকার কারণে নামাজ আদায় করতে না পারলে তা অন্যায় নয়। অন্যায় হলো জেগে থেকেও নামাজ আদায় না করা। তোমাদের কেউ নামাজ আদায় করতে ভুলে গেলে অথবা নামাজের সময় ঘুমিয়ে থাকলে, যে সময়েই নামাজের কথা স্মরণ হবে, নামাজ আদায় করে নেবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমার স্মরণে নামাজ আদায় কর। (সুরা ত্বহা: ১৪)। (সহিহ মুসলিম: ৬৮১)
হাদিসে নবীজির (সা.) কাজা নামাজ আদায়ের নির্দেশ ফরজ ও ওয়াজিব নামাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সুন্নত বা নফল নামাজের ক্ষেত্রে নয়। অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে কোনো ওয়াক্তের নামাজ ছুটে গেলে সেই ওয়াক্তের শুধু ফরজ নামাজের কাজা আদায় করতে হয়। সুন্নত নামাজের কাজা আদায় করতে হয় না।
শুধু ফজরের সুন্নতের ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরাম বলেন, কারো যদি ফজরের নামাজ ছুটে যায় এবং তিনি ওই দিন মধ্যাহ্নের আগেই কাজা আদায় করেন, তাহলে তিনি ফজরের দুই রাকাত সুন্নতসহই ফজরের কাজা নামাজ আদায় করতে পারেন। নবীজির (সা.) ফজরের নামাজ ছুটে গেলে তিনি সূর্যাস্তের পর ফজরের সুন্নতসহ কাজা আদায় করেছেন বলে বর্ণিত রয়েছে। (সহিহ মুসলিম: ১৪৪৮)
জোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর ফজরের কাজা নামাজ আদায় করলে অন্য ওয়াক্তের সুন্নতের মতো ফজরের সুন্নতের কাজা আদায়েরও প্রয়োজন নেই।
সুন্নতে মুআক্কাদা নামাজ কী?
ইসলামে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্তে ১৭ রাকাত নামাজ আদায় করা ফরজ, তিন রাকাত বেতর নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। এ ছাড়া অন্যান্য নামাজকে শরিয়তের পরিভাষায় নফল বলা হয় যেগুলো আদায় করলে সওয়াব হয়, আদায় না করলে গুনাহ হয় না। এর মধ্যে চার ওয়াক্তের বারো রাকাত সুন্নাতে মুআক্কাদা নামাজের বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক দিন ও রাতে বারো রাকাত নামাজ আদায় করবে, তার জন্যে জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করা হবে। (সহিহ মুসলিম: ৭২৮)
সুনানে তিরমিজির বর্ণনায় বিস্তারিত উল্লিখিত রয়েছে ওই ১২ রাকাত নামাজ কখন কীভাবে আদায় করতে হবে। নবীজি (সা.) বলেছেন, চার রাকাত জোহরের ফরজের আগে, দুই রাকাত জোহরের ফরজের পরে, দুই রাকাত মাগরিবের ফরজের পরে, দুই রাকাত ইশার ফরজের পরে আর দুই রাকাত ফজরের ফরজের আগে আদায় করতে হবে। (সুনানে তিরমিজি: ৪১৫)
সাহাবি ও তাবেয়িরা এই ১২ রাকাত নামাজকে গুরুত্ব দিতেন। কখনও এই নামাজ ছাড়তেন না। হাদিসটির বর্ণনাকারী সাহাবি উম্মুল মুমিনিন উম্মে হাবিবা (রা.) বলেন, আমি রাসুলের (রা.) কাছ থেকে এই কথা শোনার পর কখনও এই ১২ রাকাত নামাজ ছাড়িনি। তার ভাই আনবাসা ইবনে আবু সুফিয়ান যিনি উম্মে হাবিবা থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তিনিও বলেন, আমি উম্মে হাবিবার কাছে এই হাদিসটি শোনার পর কখনও এই ১২ রাকাত নামাজ ছাড়িনি। হাদিসটির বর্ণনাকারী আমর ইবনে আওস ও নোমান ইবনে সালেমও একই কথা বলেছেন। সুতরাং আমাদেরও এই ১২ রাকাত নামাজকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ও নিয়মিত আদায় করা উচিত।
ওএফএফ
What's Your Reaction?