সেই অসহায় বৃদ্ধা পেলেন জমিসহ নতুন বাড়ি, অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত

সুনামগঞ্জের দিরাই থানা পয়েন্টের ব্যস্ত সড়কের পাশে বছরের পর বছর ধরে মানবেতর জীবন কাটানো এক অসহায় বৃদ্ধার জীবনে ফিরেছে নতুন আশার আলো। স্থানীয় এক সাংবাদিকের বিশেষ উদ্যোগে এবং ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অর্থায়নে অবশেষে মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠাঁই ও নিজস্ব ঠিকানা পেলেন ওই বৃদ্ধা। অসহায় ও ভাগ্যবিড়ম্বিত এই বৃদ্ধার নাম করফুল বিবি (৬৫)। তিনি দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের কর্ণগাঁও গ্রামের মৃত সফর আলীর স্ত্রী।  দীর্ঘদিন ধরে দিরাই থানা পয়েন্টের পিচঢালা রাস্তার পাশে কখনো ফুটপাতে, কখনো বা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতেন তিনি। রোদ-বৃষ্টি, তীব্র শীত আর হাজারো মশার কামড় সহ্য করেই চলত তার জীবন। পথচারীদের দেওয়া খাবার ও সামান্য অর্থই ছিল তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, করফুল বিবির বড় ছেলে একসময় মায়ের দেখাশোনা করলেও দেনার দায়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। আর ছোট ছেলেটি মানসিকভাবে অসুস্থ ও কর্মক্ষম নন। ফলে সংসারে নেমে আসে চরম অভাব-অনটন। কয়েকবার তাকে গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও খাবার, চিকিৎসা ও চরম পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি আবারও শহরের রাস্তায় ফ

সেই অসহায় বৃদ্ধা পেলেন জমিসহ নতুন বাড়ি, অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত

সুনামগঞ্জের দিরাই থানা পয়েন্টের ব্যস্ত সড়কের পাশে বছরের পর বছর ধরে মানবেতর জীবন কাটানো এক অসহায় বৃদ্ধার জীবনে ফিরেছে নতুন আশার আলো। স্থানীয় এক সাংবাদিকের বিশেষ উদ্যোগে এবং ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অর্থায়নে অবশেষে মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠাঁই ও নিজস্ব ঠিকানা পেলেন ওই বৃদ্ধা।

অসহায় ও ভাগ্যবিড়ম্বিত এই বৃদ্ধার নাম করফুল বিবি (৬৫)। তিনি দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের কর্ণগাঁও গ্রামের মৃত সফর আলীর স্ত্রী। 

দীর্ঘদিন ধরে দিরাই থানা পয়েন্টের পিচঢালা রাস্তার পাশে কখনো ফুটপাতে, কখনো বা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতেন তিনি। রোদ-বৃষ্টি, তীব্র শীত আর হাজারো মশার কামড় সহ্য করেই চলত তার জীবন। পথচারীদের দেওয়া খাবার ও সামান্য অর্থই ছিল তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, করফুল বিবির বড় ছেলে একসময় মায়ের দেখাশোনা করলেও দেনার দায়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। আর ছোট ছেলেটি মানসিকভাবে অসুস্থ ও কর্মক্ষম নন। ফলে সংসারে নেমে আসে চরম অভাব-অনটন। কয়েকবার তাকে গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও খাবার, চিকিৎসা ও চরম পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি আবারও শহরের রাস্তায় ফিরে আসতে বাধ্য হতেন।

রাস্তায় পড়ে থাকা এই বৃদ্ধার এমন করুণ দশা স্থানীয় সাংবাদিক মোশাহিদ আহমদের নজরে এলে তিনি একটি মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি ব্যবসায়ী ওবায়দুল হক ও কল্লোল তালুকদারসহ স্থানীয় সমাজসেবকদের নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের পর করফুল বিবির জন্য প্রায় দেড় শতক জমি ক্রয় করা হয় এবং সেখানে একটি সুন্দর টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন ঘরের চাবি করফুল বিবির কাছে হস্তান্তর করেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার।

ঘর হস্তান্তরকালে আবেগাপ্লুত ইউএনও সনজীব সরকার বলেন, চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু দিরাইয়ে এসে সাধারণ মানুষের এমন একটি ব্যতিক্রমী ও অনন্য মানবিক উদ্যোগ প্রত্যক্ষ করলাম, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। রাস্তায় পড়ে থাকা এক অসহায় বৃদ্ধার জন্য সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে এগিয়ে এসে জমি কিনে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন- এটি পুরো সমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবারটি এখনো চরম অসচ্ছল। করফুল বিবির যে ছেলেটি মানসিকভাবে অসুস্থ, তার স্থায়ী কর্মসংস্থানের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ছোট দোকান ঘর তৈরি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা নিজেরা স্বাবলম্বী হতে পারে।

ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করফুল বিবির পরিবারের হাতে জরুরি শুকনো খাবারও তুলে দেওয়া হয়। নিজস্ব জমি ও ঘরের চাবি হাতে পেয়ে করফুল বিবি এবং তার পরিবার সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow