স্ক্রিনের নেশায় শৈশব, এ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কী

সাব্বির হোসাইন ​এক এক করে দিন, মাস, বছর যাচ্ছে। মানুষের সময়টাও যেন দ্রুত কেটে যাচ্ছে। তবে এই মূল্যবান সময়ের বড় একটা অংশ আজ হারিয়ে যাচ্ছে চার ইঞ্চি বাই ছয় ইঞ্চির এক কৃত্রিম আলো ছড়ানো কাচের স্ক্রিনে। কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ এখন বুঁদ হয়ে আছেন স্মার্টফোনের দুনিয়ায়। পারস্পরিক সংলাপ, মুখোমুখি আড্ডা কিংবা বিকেলবেলার চঞ্চলতা সব যেন আজ এক যান্ত্রিক নীরবতায় রূপ নিয়েছে। ​সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সমাজে প্রতিনিয়ত বাড়ছে প্রযুক্তি-নির্ভরতা। বর্তমান সমাজে কে কতটুকু আধুনিক বা এগিয়ে, তার বড় মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে স্মার্টফোন। কিন্তু এই ‘স্মার্ট’ হওয়ার তীব্র দৌড়ে আমরা কি আমাদের শিশুদের এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছি না? এটি আজ বর্তমান সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চিন্তার বিষয়। আরও পড়ুন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল খবরের সত্যতা যাচাই করবে গুগল একজন শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন শারীরিক কসরত ও মাঠে খেলাধুলা। অথচ বর্তমান সময়ে শিশুদের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। একটুখানি ছবি আপলোড, ফেসবুক রিলস কিংবা গেমিংয়ের নেশায় মাতোয়ারা আজকের শিশু সমাজ। মাঠের ধুলোব

স্ক্রিনের নেশায় শৈশব, এ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কী

সাব্বির হোসাইন

​এক এক করে দিন, মাস, বছর যাচ্ছে। মানুষের সময়টাও যেন দ্রুত কেটে যাচ্ছে। তবে এই মূল্যবান সময়ের বড় একটা অংশ আজ হারিয়ে যাচ্ছে চার ইঞ্চি বাই ছয় ইঞ্চির এক কৃত্রিম আলো ছড়ানো কাচের স্ক্রিনে। কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ এখন বুঁদ হয়ে আছেন স্মার্টফোনের দুনিয়ায়। পারস্পরিক সংলাপ, মুখোমুখি আড্ডা কিংবা বিকেলবেলার চঞ্চলতা সব যেন আজ এক যান্ত্রিক নীরবতায় রূপ নিয়েছে।

​সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সমাজে প্রতিনিয়ত বাড়ছে প্রযুক্তি-নির্ভরতা। বর্তমান সমাজে কে কতটুকু আধুনিক বা এগিয়ে, তার বড় মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে স্মার্টফোন। কিন্তু এই ‘স্মার্ট’ হওয়ার তীব্র দৌড়ে আমরা কি আমাদের শিশুদের এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছি না? এটি আজ বর্তমান সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চিন্তার বিষয়।

একজন শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন শারীরিক কসরত ও মাঠে খেলাধুলা। অথচ বর্তমান সময়ে শিশুদের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। একটুখানি ছবি আপলোড, ফেসবুক রিলস কিংবা গেমিংয়ের নেশায় মাতোয়ারা আজকের শিশু সমাজ। মাঠের ধুলোবালি মেখে যে শৈশব রঙিন হওয়ার কথা ছিল, তা আজ বন্দি হয়েছে চার দেয়ালের মাঝে, নিস্প্রাণ স্ক্রিনের ভেতর। পারস্পরিক সংলাপ ও মাঠের খেলাধুলা যেন তারা ভুলেই গেছে।

দিন দিন এই পাল্লায় সমান তালে যুক্ত হচ্ছেন পরিবারের বয়স্ক সদস্যরাও। একসময় অবসরে যারা বই পড়তেন বা গল্প শোনাতেন, তারা এখন সিনেমা, নাটক কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্ক্রল করে সময় কাটাচ্ছেন। ফলে পারিবারিক বন্ধনগুলো দিন দিন আলগা হয়ে যাচ্ছে। একই ছাদের নিচে পাশাপাশি বসেও মানুষ আজ একে অপরের থেকে মাইলের পর মাইল দূরে অবস্থান করছে।

​স্মার্টফোনের নানাবিধ সুবিধার পাশাপাশি এর সঠিক ব্যবহার না জানাটাই এখন বড় উদ্বেগের কারণ। সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন না থাকায় অনেকেই প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ফাঁদে পা দিয়ে বিপদগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রযুক্তিকে বর্জন নয়, বরং এর নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং শিশুদের আবার খেলার মাঠে ফিরিয়ে নেওয়াই হোক সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে আমাদের মূল লক্ষ্য।

লেখক: শিক্ষার্থী,তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা টঙ্গী

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow