স্বপ্নভাঙা ৬ কফিনে ফিরল প্রবাস জীবন
ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে কাতারে পাড়ি দিয়েছিলেন ছয় প্রবাসী। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সড়ক দুর্ঘটনা ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারানোর পর আজ সকালে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন সিলেটের ছয় প্রবাসী। তাদের মধ্যে পাঁচজন সড়ক দুর্ঘটনায় এবং একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ভোর থেকেই বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা। একে একে কফিনগুলো বের করে আনা হলে কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে এসে মা, বাবা, স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় প্রতিটি পরিবারের হাতে প্রাথমিক আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। দুপুরের দিকে সেগুলো কানাইঘাট ও ফেঞ্চুগঞ্জে পৌঁছে।
পারিবারিক
ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে কাতারে পাড়ি দিয়েছিলেন ছয় প্রবাসী। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সড়ক দুর্ঘটনা ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারানোর পর আজ সকালে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন সিলেটের ছয় প্রবাসী। তাদের মধ্যে পাঁচজন সড়ক দুর্ঘটনায় এবং একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ভোর থেকেই বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা। একে একে কফিনগুলো বের করে আনা হলে কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে এসে মা, বাবা, স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় প্রতিটি পরিবারের হাতে প্রাথমিক আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। দুপুরের দিকে সেগুলো কানাইঘাট ও ফেঞ্চুগঞ্জে পৌঁছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জোহরের নামাজের পর কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের আকুনি মাদ্রাসা মাঠে পাঁচ প্রবাসীর সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহতরা হলেন- কানাইঘাট উপজেলার আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমেদ, আগাতালুক গ্রামের মুস্তাক আহমেদ আফনান, মাঝতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন ও জুবায়ের আহমেদ, গাছবাড়ী গ্রামের আবদুল কাদির এবং ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের আশিঘর গ্রামের লিফটন মিয়া।
জানা গেছে, গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাটের পাঁচ প্রবাসীর মৃত্যু হয়। একই সময়ে পৃথক ঘটনায় কাতারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ফেঞ্চুগঞ্জের লিফটন মিয়া।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মকর্তা জানান, দাফন ও শেষকৃত্যের জন্য প্রতিটি পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বোর্ডের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে প্রতিটি পরিবারকে আরও ৩ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
বিমানবন্দরে নিহতদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
নিহত এক প্রবাসীর বাবা কালবেলাকে বলেন, ‘ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম সংসারের অভাব দূর করবে বলে। কিন্তু আজ তাকে কফিনে করে বাড়ি আনতে হলো। এমন দৃশ্য কোনো বাবার যেন দেখতে না হয়।’