হাসপাতালের প্রবেশপথই এখন রোগীদের বাড়তি যন্ত্রণার কারণ
খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের একমাত্র প্রবেশপথটি দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সংস্কারহীন বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। মাত্র ৪-৫ ফুট প্রশস্ত এই সংযোগ সড়কটি এখন খানাখন্দে একাকার, যা মুমূর্ষু রোগীদের জন্য হাসপাতালের দোরগোড়ায় এসে জীবনঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের গেইট থেকে মূল ভবন পর্যন্ত সড়কের আস্তরণ উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে কোথাও কোথাও পানি জমে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এতে করে রোগী বহনকারী অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল প্রায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে সামনে এসে এই সামান্য রাস্তার দুরবস্থার কারণে তাদের কষ্ট যেন দ্বিগুণ হয়ে যায়। অনেক সময় গর্তে পড়ে অটোরিকশা উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। খাগড়াছড়ি সদরের ব্যাটালিয়ন এলাকা থেকে ডেলিভারি রোগী নিয়ে আসা অটোরিকশা চালক মো. হাসান (৩৫) বলেন, আজ একজন ডেলিভারি রোগী নিয়ে খুব ধীরে আসছিলাম। রাস্তা এতটাই ভাঙা যে রোগী ব্যথায় চিৎকার করছিল। শালবন এলাকা থেকে আসা মো. রহিম (৪২) জা
খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের একমাত্র প্রবেশপথটি দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সংস্কারহীন বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। মাত্র ৪-৫ ফুট প্রশস্ত এই সংযোগ সড়কটি এখন খানাখন্দে একাকার, যা মুমূর্ষু রোগীদের জন্য হাসপাতালের দোরগোড়ায় এসে জীবনঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের গেইট থেকে মূল ভবন পর্যন্ত সড়কের আস্তরণ উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে কোথাও কোথাও পানি জমে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এতে করে রোগী বহনকারী অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল প্রায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে সামনে এসে এই সামান্য রাস্তার দুরবস্থার কারণে তাদের কষ্ট যেন দ্বিগুণ হয়ে যায়। অনেক সময় গর্তে পড়ে অটোরিকশা উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
খাগড়াছড়ি সদরের ব্যাটালিয়ন এলাকা থেকে ডেলিভারি রোগী নিয়ে আসা অটোরিকশা চালক মো. হাসান (৩৫) বলেন, আজ একজন ডেলিভারি রোগী নিয়ে খুব ধীরে আসছিলাম। রাস্তা এতটাই ভাঙা যে রোগী ব্যথায় চিৎকার করছিল।
শালবন এলাকা থেকে আসা মো. রহিম (৪২) জানান, গত ২-৩ বছর ধরে এই রাস্তাটির অবস্থা খারাপ। রোগী নিয়ে চলাচল করতে খুবই কষ্ট হয়।
শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসা মো. আফসার মিয়া (৬০) বলেন, শ্বাসকষ্ট থাকায় বাড়ি থেকে আসতেই কষ্ট হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের সামনে এসে গর্তে ঝাঁকুনিতে শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে গেছে। এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গার রাস্তা এভাবে পড়ে থাকা দুঃখজনক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়, কিন্তু জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের সামনের এই সামান্য রাস্তা কারো নজরে আসে না।
পানছড়ি থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা অরগ্যান চাকমা বলেন, হাসপাতালের সামনে এসে একটুর জন্য গাড়ি উল্টে যাচ্ছিল। রাস্তা ভাঙার কারণে আহত রোগীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানান, প্রতিদিন হাজারো রোগী ও স্বজন এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে রোগী, চিকিৎসক ও কর্মচারী সবারই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও) ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় রোগী ও হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সবাই চরম ভোগান্তি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তাটি হাসপাতালের এরিয়ার মধ্যে হওয়ায় এটি মূলত স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কাজ। তারপরও হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের চিঠি পেয়ে এবং জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে হাসপাতালের প্রবেশ সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুতই মেরামত কাজ শুরু হবে।
প্রবীর সুমন/কেএইচকে/এমএস
What's Your Reaction?