হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেলে যেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহণের সময় অনেকেই একটি প্রশ্ন করেন-ওষুধের পাশাপাশি কি সব ধরনের খাবার খাওয়া যায়? এ বিষয়ে বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু সাধারণ সতর্কতার কথা বলা হয়। বিশেষ করে তীব্র গন্ধযুক্ত বা অতিরিক্ত ঝাঁজালো কিছু খাবার ও পানীয় ওষুধ গ্রহণের সময় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। যদিও সব হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়, তবুও চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চললে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হয়। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সাধারণত জিহ্বার মাধ্যমে শোষিত হয়। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা পরে মুখে তীব্র গন্ধ, অতিরিক্ত মসলা বা শক্তিশালী স্বাদের খাবার থাকলে অনেক চিকিৎসক কিছুটা সময়ের ব্যবধান রাখার পরামর্শ দেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক, নিয়মিত হোমিওপ্যাথি ওষুধ সেবনের সময় কোন বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকা ভালো- কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুন কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুনে প্রাকৃতিক সালফার যৌগ এবং তীব্র গন্ধযুক্ত তেল থাকে। এ কারণে অনেক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ওষুধ খাওয়ার আগে ও পরে অন্তত ৩০ মিনিট কাঁচা পেঁয়াজ-রসুন না খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে রান্না করা পেঁয়াজ ও রসুনের গন্ধ অনেকটাই কমে যায়। অতিরিক্ত ঝাঁজালো ও মসলাযুক্ত খাবার কাঁচা আদা, অ

হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেলে যেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহণের সময় অনেকেই একটি প্রশ্ন করেন-ওষুধের পাশাপাশি কি সব ধরনের খাবার খাওয়া যায়? এ বিষয়ে বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু সাধারণ সতর্কতার কথা বলা হয়। বিশেষ করে তীব্র গন্ধযুক্ত বা অতিরিক্ত ঝাঁজালো কিছু খাবার ও পানীয় ওষুধ গ্রহণের সময় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। যদিও সব হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়, তবুও চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চললে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হয়।

হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সাধারণত জিহ্বার মাধ্যমে শোষিত হয়। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা পরে মুখে তীব্র গন্ধ, অতিরিক্ত মসলা বা শক্তিশালী স্বাদের খাবার থাকলে অনেক চিকিৎসক কিছুটা সময়ের ব্যবধান রাখার পরামর্শ দেন।

আসুন জেনে নেওয়া যাক, নিয়মিত হোমিওপ্যাথি ওষুধ সেবনের সময় কোন বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকা ভালো-

কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুন

কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুনে প্রাকৃতিক সালফার যৌগ এবং তীব্র গন্ধযুক্ত তেল থাকে। এ কারণে অনেক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ওষুধ খাওয়ার আগে ও পরে অন্তত ৩০ মিনিট কাঁচা পেঁয়াজ-রসুন না খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে রান্না করা পেঁয়াজ ও রসুনের গন্ধ অনেকটাই কমে যায়।

অতিরিক্ত ঝাঁজালো ও মসলাযুক্ত খাবার

কাঁচা আদা, অতিরিক্ত মরিচ, গোলমরিচ, লবঙ্গ বা খুব বেশি মসলাযুক্ত খাবার গ্যাস্ট্রিক মিউকোসাকে উত্তেজিত করে তোলে। তাই ওষুধ সেবনের সময় খুব ঝাল বা অতিরিক্ত মসলাদার খাবার সীমিত রাখাই ভালো।

jagoকিছু খাবার ও পানীয় খাওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই ভালো

কফি ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় কফি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সতর্কতার কথা বলা হয়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। অনেক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের মতে, কিছু ওষুধের কার্যকারিতায় এটি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চিকিৎসা চলাকালে কফি কম খাওয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান রাখতে হবে। একইভাবে অতিরিক্ত ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয়ও সীমিত রাখা উচিত।

অতিরিক্ত টক খাবার

পাতিলেবু, কাঁচা তেঁতুল, অতিরিক্ত ভিনেগার, আচার বা খুব বেশি টক খাবার মুখের স্বাভাবিক পরিবেশে পরিবর্তন আনতে পারে। সব ওষুধের ক্ষেত্রে এটি সমস্যা তৈরি না করলেও অনেক চিকিৎসক অতিরিক্ত টক খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।

মেন্থলযুক্ত পণ্য

পুদিনা, মেন্থলযুক্ত লজেন্স, চুইংগাম, মাউথওয়াশ কিংবা খুব কড়া ফ্লেভারের টুথপেস্ট ব্যবহার করার পরপরই হোমিওপ্যাথি ওষুধ না খাওয়াই ভালো। এসব পণ্যের তীব্র গন্ধ কিছু চিকিৎসকের মতে ওষুধ গ্রহণের সময় এড়িয়ে চলা উচিত।

ধূমপান ও অ্যালকোহল

ধূমপান ও মদ্যপান শুধু হোমিওপ্যাথি নয়, যেকোনো চিকিৎসার ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর। এগুলো শরীরের স্বাভাবিক সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। তাই চিকিৎসাকালীন এসব অভ্যাস পরিহার করাই সবচেয়ে ভালো।

ওষুধ খাওয়ার সময় যেসব নিয়ম মানতে পারেন

  • হোমিওপ্যাথি ওষুধ সঠিকভাবে গ্রহণের জন্য কয়েকটি সহজ অভ্যাস উপকারী হতে পারে।
  • ওষুধ খাওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে ও পরে খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন
  • ওষুধ নেওয়ার আগে সাধারণ পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন।
  • সম্ভব হলে ওষুধ খালি হাতে স্পর্শ না করে বোতলের ঢাকনা বা পরিষ্কার কাগজের সাহায্যে মুখে নিন।
  • ওষুধ শুষ্ক, ঠান্ডা ও সূর্যালোক থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করবেন না।

চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় সব রোগী বা সব ওষুধের জন্য একই ধরনের খাদ্যনিয়ম থাকে না। রোগের ধরন, ব্যবহৃত ওষুধ এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক আলাদা পরামর্শ দিতে পারেন। তাই কোনো খাবার নিয়ে বিভ্রান্ত হলে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
তাই শুধু ওষুধ খেলেই হবে না, সঠিক নিয়ম মেনে ওষুধ গ্রহণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করলেই চিকিৎসা থেকে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়া সম্ভব।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ন্যাচার প্যাথিকস

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow