অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে ৩০ গ্রাম প্লাবিত

মৌলভীবাজারে অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে পাকা বোরো ধানের ফসল। হাওরের পাশাপাশি উজান এলাকা পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়ে জেলার বেশিরভাগ পাকা বোরো ধান পানির নিচে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। পাকা ফসল ঘরে তুলতে না পাড়ায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।  জেলার কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও জুড়ী উপজেলার কৃষকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কুলাউড়া উপজেলার গোগালীছড়া প্রায় ১শ ৫০ ফুট বাঁধ ভাঙনের ফলে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সোমবার রাত থেকে মুষলদারে বৃষ্টিপাতের ফলে ও পাহাড়ি ঢলের গোগালীছড়ার বাধ ভেঙে উপজেলার জয়চন্ডী ও সদর ইউনিয়নের ১৫টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গোগালীছড়ার বাঁধ ভাঙনে কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের বাগাজুরা, হাসনপুর, শ্রীপুর, করেরগ্রাম, মিনারমহল, সৈয়দপুর, গাজিপুর, পুরন্দপুর, হরিপুর, বড়কাপন এবং জয়চন্ডী ইউনিয়নের দানাপুর, কামারকান্দি লামাগাঁও গ্রামে ১শ বিঘা আউশক্ষেত, বোরো ধান, আউশের বীজতলা, শতাধিক পুকুর তলিয়ে মাছ বের হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার সবকটি নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও একমাত্র জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে

অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে ৩০ গ্রাম প্লাবিত

মৌলভীবাজারে অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে পাকা বোরো ধানের ফসল। হাওরের পাশাপাশি উজান এলাকা পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়ে জেলার বেশিরভাগ পাকা বোরো ধান পানির নিচে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। পাকা ফসল ঘরে তুলতে না পাড়ায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 

জেলার কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও জুড়ী উপজেলার কৃষকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কুলাউড়া উপজেলার গোগালীছড়া প্রায় ১শ ৫০ ফুট বাঁধ ভাঙনের ফলে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সোমবার রাত থেকে মুষলদারে বৃষ্টিপাতের ফলে ও পাহাড়ি ঢলের গোগালীছড়ার বাধ ভেঙে উপজেলার জয়চন্ডী ও সদর ইউনিয়নের ১৫টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

গোগালীছড়ার বাঁধ ভাঙনে কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের বাগাজুরা, হাসনপুর, শ্রীপুর, করেরগ্রাম, মিনারমহল, সৈয়দপুর, গাজিপুর, পুরন্দপুর, হরিপুর, বড়কাপন এবং জয়চন্ডী ইউনিয়নের দানাপুর, কামারকান্দি লামাগাঁও গ্রামে ১শ বিঘা আউশক্ষেত, বোরো ধান, আউশের বীজতলা, শতাধিক পুকুর তলিয়ে মাছ বের হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার সবকটি নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও একমাত্র জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কৃষকেরা জানান, দুদিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে গতকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় পানিতে নিমজ্জিত। গতকাল মঙ্গলবার রাতে যেসব ধান বন্যায় আক্রান্ত হয়নি তা আজ সকালে ডুবে গেছে। হাওর এলাকার ধান পুরোপুরি ডুবলেও নন হাওর এলাকার ধান আজ (বুধবার) ডুবে গেছে। হাওর এলাকার কিছু কৃষক ধান কাটলেও নন হাওর এলাকার কৃষকেরা ধান কাটতে পারেননি। পাকা বোরো ধান ঘরে তুলতে না পাড়ায় অনেক কৃষক ঋণের বোঝা নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর হাওর এলাকায় চাষ করা হয়েছে। হাওরে প্রায় ৮৩ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। নন হাওর এলাকায় ৩৫ হাজার হেক্টর বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। 

সরেজমিনে জেলার কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, জুড়ী উপজেলার বেশকিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকেরা স্বপ্নের ফসল ঘরে তুলতে না পাড়ায় অনেক কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 

কমলগঞ্জের কৃষক কামাল আহমেদ বলেন, ধান কাটার সময় আমার এক একর জমি ডুবে গেছে। কীভাবে বছরের বাকি সময় ভাত খাব, তা বুঝতে পারছি না। শুধু আমি একা নই, আমার মতো অনেক কৃষকের কপাল পুড়েছে। সবাই খালি হাতে ফিরছেন। চোখের সামনে ধান খেত ডুবে গেল কিন্তু কিছুই করতে পারলাম না।

কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাদিম মাহমুদ রাজু জানান, বাঁধ ভেঙে সদর ইউনিয়নের গাজিপুর গ্রামে ২০ বিঘা বোরো ধান নষ্ট হয়েছে।

জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, জুড়ী নদীর পানি ভয়াবহ আকারে বাড়ছে। এ উপজেলায় ৬হাজার ১শত ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। এর মধ্যে অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে প্রায় ১৭৪ হেক্টর ধান। 

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, হাওর এলাকায় ধান ৮৩ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। নন হাওর এলাকায় ১৭ শতাংশ। নিমজ্জিত এলাকা থেকে পানি দ্রুত নেমে গেলে কিছু ধান হয়ত রক্ষা হবে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাবেল জানিয়েছেন, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে জেলার নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া কোথাও জলাবদ্ধতাসহ আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের আগাম প্রস্তুতি রয়েছে । বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow