অপতথ্যের বিস্তার সাংবাদিকতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো অপতথ্য ও বিকৃত তথ্যের বিস্তার। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক জ্ঞান, শিক্ষা, কৌশল, পদ্ধতি ও প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, পেশাগত নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। রোববার (২ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘রাজনীতি, ক্ষমতা ও সাংবাদিকতার আন্তঃসংশ্লেষ: তত্ত্ব, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মুখ্য আলোচক ছিলেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক নিউ এজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, একসময় তথ্যের সংকট সা

অপতথ্যের বিস্তার সাংবাদিকতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো অপতথ্য ও বিকৃত তথ্যের বিস্তার। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক জ্ঞান, শিক্ষা, কৌশল, পদ্ধতি ও প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, পেশাগত নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। রোববার (২ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘রাজনীতি, ক্ষমতা ও সাংবাদিকতার আন্তঃসংশ্লেষ: তত্ত্ব, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মুখ্য আলোচক ছিলেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক নিউ এজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, একসময় তথ্যের সংকট সাংবাদিকতার প্রধান সমস্যা ছিল। কিন্তু এখন তথ্যের অতিপ্রবাহের পাশাপাশি পরিকল্পিত অপতথ্য ও বিকৃত তথ্য মানুষের মনোজগৎ এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ছড়ানোর উদাহরণ রয়েছে। ‘পারসেপশন ম্যানেজমেন্ট’-এর এই লড়াই আধুনিক রাজনৈতিক বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমান বাস্তবতায় অপতথ্য মোকাবিলার বিষয়টি আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে, তবে এখনই সমস্যার সমাধান হয়েছে-এ কথা বলা যাবে না। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক সাংবাদিক এখনো পেশাগত অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করছেন। গণমাধ্যমে প্রবেশের ক্ষেত্রে নীতিগত দুর্বলতার কারণে এ খাতে অনিয়ম সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকতা পেশাকে অর্থনৈতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ ও পেশাগতভাবে নিরাপদ করতে ওয়েজ বোর্ডের কার্যকর বাস্তবায়নসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এমন অভিযোগও রয়েছে যে অনেকেই গণমাধ্যমের পরিচয় বহন করলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বেতন পান না। পরিচয়পত্র বহাল রাখার জন্যও অনেককে অনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এ সংকট নিরসনে গণমাধ্যমের মালিকপক্ষ, সরকার ও সাংবাদিক সমাজের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রশ্নে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্বাধীনতার মাত্রা নির্ধারণ একটি জটিল বিষয়। কারণ ব্যক্তি বিশেষের আদর্শ, দর্শন ও রাজনৈতিক অবস্থান এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। তবে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও দায়িত্বের একটি গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড নির্ধারণ জরুরি। সরকার এককভাবে নয়, সাংবাদিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে কাজ করতে চায়। তিনি জানান, এ লক্ষ্যেই গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে ‘ক্ষমতা, স্বাধীনতা ও দায়িত্ব’-এই ৩টি বিষয়কে সমন্বয় করে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়েছে এবং এ বিষয়ে সবাই নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশ ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। নিষ্ঠা, সততা, দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সমাজ গঠনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow