অফিসেই কেন বাড়ছে প্রেম-পরকীয়া, বলছে গবেষণা
বর্তমানে কর্মজীবনের ধরন অনেকটাই বদলে গেছে। আগে যেখানে অফিস ছিল নির্দিষ্ট সময়ের কাজের জায়গা, এখন সেখানে দিনের বড় একটি অংশ কেটে যায়। ডেডলাইনের চাপ, দীর্ঘ সময় কাজ এবং মানসিক ক্লান্তির কারণে অনেকের ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে অফিস অনেকের কাছেই হয়ে উঠছে দ্বিতীয় বাড়ি। আর এই দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করার কারণে সহকর্মীদের মধ্যে সম্পর্কও অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে। অফিসে সম্পর্ক ও পরকীয়ার প্রবণতা বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠার হার আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কর্মক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্ক এখনও বেশ সাধারণ। ফোর্বসের একটি নতুন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ৬০ শতাংশেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তাদের জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কর্মক্ষেত্রে প্রেমের অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। এছাড়া প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মজীবী মানুষ অফিসে পরকীয়ার সঙ্গে জড়িয়ে বর্তমান সঙ্গীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে এসব সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হলেও, অনেক ক্ষেত্রেই তা কিছু মাসের মধ্যেই ভেঙে যায়। ফোর্বস-এর সমীক্ষায় আরও দেখা যায়, কর্মক্ষেত্রে গড়ে ওঠা অনেক সম্পর্কই স্থায়ী হয় না। তবে একই
বর্তমানে কর্মজীবনের ধরন অনেকটাই বদলে গেছে। আগে যেখানে অফিস ছিল নির্দিষ্ট সময়ের কাজের জায়গা, এখন সেখানে দিনের বড় একটি অংশ কেটে যায়। ডেডলাইনের চাপ, দীর্ঘ সময় কাজ এবং মানসিক ক্লান্তির কারণে অনেকের ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে অফিস অনেকের কাছেই হয়ে উঠছে দ্বিতীয় বাড়ি। আর এই দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করার কারণে সহকর্মীদের মধ্যে সম্পর্কও অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে।
অফিসে সম্পর্ক ও পরকীয়ার প্রবণতা
বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠার হার আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কর্মক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্ক এখনও বেশ সাধারণ। ফোর্বসের একটি নতুন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ৬০ শতাংশেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তাদের জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কর্মক্ষেত্রে প্রেমের অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন।
এছাড়া প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মজীবী মানুষ অফিসে পরকীয়ার সঙ্গে জড়িয়ে বর্তমান সঙ্গীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে এসব সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হলেও, অনেক ক্ষেত্রেই তা কিছু মাসের মধ্যেই ভেঙে যায়।
ফোর্বস-এর সমীক্ষায় আরও দেখা যায়, কর্মক্ষেত্রে গড়ে ওঠা অনেক সম্পর্কই স্থায়ী হয় না। তবে একই পরিবেশে কাজ করার কারণে সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এমনকি ডেটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচয়ের চেয়ে সহকর্মীকে বিয়ে করার সম্ভাবনা দ্বিগুণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন অফিসে সম্পর্ক বাড়ছে
গবেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো ‘স্বাচ্ছন্দ্য’। একই অফিসে কাজ করতে করতে সহকর্মীরা একে অপরের দৈনন্দিন জীবন, চাপ ও সমস্যার সঙ্গে পরিচিত হয়ে যান। একসঙ্গে সময় কাটানো, সমস্যায় একে অপরকে সাহায্য করা এবং মানসিক সমর্থন দেওয়ার কারণে সম্পর্ক ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে যায়।
কর্মক্ষেত্র সম্পর্ক-এর ক্ষেত্রে দেখা যায়, অতিরিক্ত কাজের চাপ, পরিবারের সঙ্গে কম সময় কাটানো এবং মানসিক ক্লান্তি মানুষকে কর্মস্থলের মানুষের প্রতি বেশি নির্ভরশীল করে তোলে। ফলে আবেগগত সংযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
ঝুঁকি ও নেতিবাচক দিক
কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হলে তার কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। অফিসে সম্পর্কের কারণে অনেক সময় কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যেতে পারে, পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে এবং পেশাগত শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ককে নীতিগতভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়, কারণ এটি কর্মপরিবেশে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
এছাড়া ব্যক্তিগত সম্পর্কে সমস্যা তৈরি হলে তা শুধু অফিস নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও বড় প্রভাব ফেলে। পরিবারে অশান্তি, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
যেভাবে সতর্ক থাকা উচিত
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে উঠলেও তা পেশাগত সীমার মধ্যে রাখা উচিত। ব্যক্তিগত আলাপ সীমিত রাখা, অফিসের বাইরে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলা এবং কর্মস্থলে সম্পর্ককে প্রকাশ্যে না আনা ভালো।
ব্যক্তিগত সীমানা বজায় রাখা এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সীমারেখা না থাকলে সম্পর্ক সহজেই জটিল হয়ে উঠতে পারে।
স্বামী বা স্ত্রীকে প্রতারণা করে কর্মক্ষেত্রে নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে এর প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং পুরো পারিবারিক জীবনে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে দাম্পত্য সম্পর্কে অবিশ্বাস তৈরি হয়, ঘরেরশান্তি নষ্ট হয় এবং পরিবারে শুরু হয় অশান্তি ও মানসিক চাপ।
দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের পরিস্থিতি সম্পর্ক ভাঙনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। সন্তানের ওপরও এর মানসিক প্রভাব পড়ে।
অফিসে সম্পর্ক গড়ে ওঠা নতুন কিছু নয়, তবে এর সঙ্গে দায়িত্ব ও সচেতনতা জরুরি। সহকর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হোক বা বন্ধুত্ব, সবকিছুরই একটি পেশাগত সীমা থাকা উচিত। কারণ কাজের জায়গায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সূত্র: ফোর্বস ম্যাগাজিন, মিন্ট, সাইকোলজি টুডে
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?