অবৈধ ডেন্টাল প্র্যাকটিস বন্ধের দাবি বিডিএস উইংয়ের
দেশে নিরাপদ ও মানসম্মত দন্তচিকিৎসা নিশ্চিত করতে অবৈধ ডেন্টাল প্র্যাকটিস বন্ধ এবং প্রতিটি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল সেন্টার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস-বিডিএস উইং।
বুধবার (২৯ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গত ২৪ জুন ২০২৬ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সিভিল আপিল নং-৬০ অব ২০১৭ মামলার রায়ে হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং-২৮১০ অব ২০১৬-এর রায় বাতিল করেছেন। এর ফলে আইনগতভাবে স্পষ্ট হয়েছে, ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের স্বাধীনভাবে ক্লিনিক্যাল ডেন্টাল চিকিৎসা পরিচালনার কোনো অধিকার নেই।
তারা বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন-২০১০-এর ধারা ২, ২৮ ও ২৯ অনুযায়ী, বিএমডিসিতে নিবন্ধিত বিডিএস ডেন্টাল সার্জন ছাড়া অন্য কেউ ‘ডেন্টিস্ট’ বা ‘ডেন্টাল সার্জন’ পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে পারবেন না। এটি আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
বক্তারা জানান, ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের দায়িত্ব কেবল ল্যাবভিত্তিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ। নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রাউন, ব্রিজ, ডেনচার ও অর্থোডন
দেশে নিরাপদ ও মানসম্মত দন্তচিকিৎসা নিশ্চিত করতে অবৈধ ডেন্টাল প্র্যাকটিস বন্ধ এবং প্রতিটি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল সেন্টার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস-বিডিএস উইং।
বুধবার (২৯ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গত ২৪ জুন ২০২৬ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সিভিল আপিল নং-৬০ অব ২০১৭ মামলার রায়ে হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং-২৮১০ অব ২০১৬-এর রায় বাতিল করেছেন। এর ফলে আইনগতভাবে স্পষ্ট হয়েছে, ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের স্বাধীনভাবে ক্লিনিক্যাল ডেন্টাল চিকিৎসা পরিচালনার কোনো অধিকার নেই।
তারা বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন-২০১০-এর ধারা ২, ২৮ ও ২৯ অনুযায়ী, বিএমডিসিতে নিবন্ধিত বিডিএস ডেন্টাল সার্জন ছাড়া অন্য কেউ ‘ডেন্টিস্ট’ বা ‘ডেন্টাল সার্জন’ পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে পারবেন না। এটি আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
বক্তারা জানান, ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের দায়িত্ব কেবল ল্যাবভিত্তিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ। নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রাউন, ব্রিজ, ডেনচার ও অর্থোডন্টিক অ্যাপ্লায়েন্স তৈরি করাই তাদের কাজ। রোগ নির্ণয়, প্রেসক্রিপশন দেওয়া, দাঁত উত্তোলন, স্কেলিং, ফিলিং, রুট ক্যানেল চিকিৎসা কিংবা স্বাধীনভাবে চেম্বার পরিচালনার আইনগত অনুমোদন তাদের নেই।
সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু ব্যক্তি নিজেদের ডেন্টিস্ট পরিচয় দিয়ে অবৈধভাবে ডেন্টাল চেম্বার পরিচালনা করছেন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছেন। তাদের দাবি, এ ধরনের হাতুড়ে চিকিৎসা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে এবং নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনদের পেশাগত অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।
এ সময় সরকারি পর্যায়ে দন্তচিকিৎসা সেবার সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। বক্তাদের মতে, বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি ডেন্টাল সেবা অত্যন্ত অপ্রতুল। অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল সেন্টার এবং পর্যাপ্ত বিডিএস ডেন্টাল সার্জন ও বিশেষজ্ঞ না থাকায় সাধারণ মানুষ নিরাপদ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস-বিডিএস উইংয়ের কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. রিফায়েত হোসেন বলেন, দেশে কোয়াক ও ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্যে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। এতে তারা শুধু আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তই হচ্ছেন না, বরং নানা জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়ছেন।
তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবিলম্বে সারাদেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অবৈধ ডেন্টাল চেম্বারগুলো বন্ধ করে দন্ত সারাদেশে দন্তচিকিৎসা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি। একই সঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ এবং পৃথক ডেন্টাল সেন্টার স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি।’
দুই দফা দাবি
সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের কাছে দুটি দাবি জানানো হয়—
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় এবং বিএমডিসি আইন-২০১০ দ্রুত বাস্তবায়ন করে সারাদেশের সব অবৈধ ও বেআইনি ডেন্টাল চেম্বার বন্ধ করতে হবে।
প্রতিটি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক বিডিএস ডেন্টাল সার্জন ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
দাবি বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলকে (বিএমডিসি) দ্রুত প্রয়োজনীয় পরিপত্র জারির আহ্বান জানান সংগঠনটির নেতারা।