অলৌকিকভাবে বেঁচে রইল শিশু ফাতেমা, দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

অলৌকিকভাবে বেঁচে রইল শিশু ফাতেমা। দায়িত্বের ভার নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা হলো না শিউলী, তায়েবা আর রিন্টুর। উত্তরের মহাসড়কে এবার নেই চিরচেনা যানজট, যাত্রাপথ অনেকটাই স্বস্তির। কিন্তু সেই স্বস্তির যাত্রাই যে একটি পরিবারের জন্য এমন বিভীষিকা নিয়ে অপেক্ষা করছিল, তা কে জানত! মুহূর্তের এক বিকট শব্দ আর আগুনের লেলিহান শিখায় বগুড়ার শেরপুরে ধ্বংস হয়ে গেল একটি সাজানো সংসার। ঈদের নতুন জামা আর উপহারের বদলে স্বজনদের কাছে পৌঁছাল নিথর দেহ। বুধবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাইক্রোবাসে আগুন ধরে গেলে ৩ জন নিহত হন। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে আসা যাত্রীভর্তি একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো চ-১৯-৩০৪১) ঈদের ছুটিতে রংপুরের দিকে যাচ্ছিল। ছোনকা এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই ব্যাটারির শর্ট সার্কিট থেকে হঠাৎ গাড়িতে আগুন ধরে যায় এবং চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। গাড়ি

অলৌকিকভাবে বেঁচে রইল শিশু ফাতেমা, দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

অলৌকিকভাবে বেঁচে রইল শিশু ফাতেমা। দায়িত্বের ভার নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা হলো না শিউলী, তায়েবা আর রিন্টুর। উত্তরের মহাসড়কে এবার নেই চিরচেনা যানজট, যাত্রাপথ অনেকটাই স্বস্তির। কিন্তু সেই স্বস্তির যাত্রাই যে একটি পরিবারের জন্য এমন বিভীষিকা নিয়ে অপেক্ষা করছিল, তা কে জানত! মুহূর্তের এক বিকট শব্দ আর আগুনের লেলিহান শিখায় বগুড়ার শেরপুরে ধ্বংস হয়ে গেল একটি সাজানো সংসার। ঈদের নতুন জামা আর উপহারের বদলে স্বজনদের কাছে পৌঁছাল নিথর দেহ।

বুধবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাইক্রোবাসে আগুন ধরে গেলে ৩ জন নিহত হন। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে আসা যাত্রীভর্তি একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো চ-১৯-৩০৪১) ঈদের ছুটিতে রংপুরের দিকে যাচ্ছিল।

ছোনকা এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই ব্যাটারির শর্ট সার্কিট থেকে হঠাৎ গাড়িতে আগুন ধরে যায় এবং চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। গাড়িটি ডিভাইডারের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায় দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনজন। নিহতরা হলেন—শিউলী বেগম (৪৮), তায়েবা খাতুন (১২) এবং রিন্টু (৪৭)। আহতরা হলেন—শিশু ফাতেমা (১০), শহিদুল (৪০), তৌছিব (৩০), তাসমিয়া (২০), হেলেনা (৬০), তারিকুল (৩৬), শিশু ফাতেমা (২), আরহাম (৭) এবং হামিম (৩০)। আগুনের গ্রাস আর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে দুই বছরের শিশু ফাতেমা খাতুন। যখন মৃত্যু তার থাবা বিস্তার করেছিল, তখন পরম করুণাময় এই নিষ্পাপ শিশুটিকে আগলে রেখেছিলেন। তবে শিশুটি গুরুতর আহত। সে জানে না তার মা-বাবা কোথায়, সে জানে না কেন তার চারপাশের পৃথিবীটা হঠাৎ এতো নিস্তব্ধ হয়ে গেল। তার ডাগর চোখের চাউনি হয়তো এখনো তার মা-বাবার চেনা স্পর্শ খুঁজছে। গুরুতর আহত ফাতেমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্বজন হারিয়ে একা হয়ে পড়া শিশু ফাতেমার এই চরম দুঃসময়ে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধান মন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই শিশুটির চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার এবং ভবিষ্যতের সকল দায়িত্ব গ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি জানিয়েছেন, ফাতেমা এখন আর শুধু একটি পরিবারের সন্তান নয়, সে আজ সারা বাংলাদেশের সন্তান। যখন একটি শিশু তার আপনজনদের হারিয়ে পৃথিবীর বুকে একা হয়ে পড়ল, তখন এমন পিতৃতুল্য মমতা শিশুটির অন্ধকার ভবিষ্যতে এক নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে। নিহতরা সবাই রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তালুক শাহবাজা গ্রামের বাসিন্দা। প্রিয়জনদের অপেক্ষায় থাকা গ্রামটিতে এখন শুধুই কান্নার রোল। যে বাড়িটি হাসিতে মুখরিত হওয়ার কথা ছিল, সেখানে ঈদের নতুন জামার বদলে তাদের গায়ে উঠেছে সাদা কাফন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশু ফাতেমাসহ আহতদের শারীরিক অবস্থার উন্নতিতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশবাসী ও স্বজনরা দোয়া করছেন, ছোট্ট ফাতেমা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। চারপাশের এই বিশাল শূন্যতা যেন তাকে কোনোদিন একা অনুভব করতে না দেয়—এটাই এখন সবার প্রার্থনা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow