অস্কারজয়ী অভিনেত্রী ব্রেন্ডা ফ্রিকার মারা গেছেন

আয়ারল্যান্ডের কিংবদন্তিতুলল্য অভিনেত্রী ও অস্কারজয়ী তারকা ব্রেন্ডা ফ্রিকার আর নেই। ‘মাই লেফট ফুট’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রী ৮১ বছর বয়সে মারা গেছেন। ডাবলিনের নিজ বাসভবনে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ব্রেন্ডা ফ্রিকারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তার প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা বেলফিল্ড অ্যান্ড ওয়ার্ড। প্রতিষ্ঠানটির ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বলা হয়, ‘আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। অনবদ্য ও কিংবদন্তি ব্রেন্ডা ফ্রিকার শান্তিপূর্ণভাবে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি সবসময় আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।’ এক বিবৃতিতে তার এজেন্ট ফিল বেলফিল্ড বলেন, ‘ব্রেন্ডার মতো মানুষ খুব কমই জন্মান। তাকে জানার, তার সঙ্গে কাজ করার এবং তাকে ভালোবাসার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য সৌভাগ্যের। তিনি শুধু আমার হৃদয়েই নন, বিশ্বের অসংখ্য চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনপ্রেমীর মনেও চিরকাল বেঁচে থাকবেন।’ তবে অভিনেত্রীর মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। গত বছর এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন এবং শ্বাসকষ্টেও আক্রান্ত ছিলেন। ১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মাই ল

অস্কারজয়ী অভিনেত্রী ব্রেন্ডা ফ্রিকার মারা গেছেন

আয়ারল্যান্ডের কিংবদন্তিতুলল্য অভিনেত্রী ও অস্কারজয়ী তারকা ব্রেন্ডা ফ্রিকার আর নেই। ‘মাই লেফট ফুট’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রী ৮১ বছর বয়সে মারা গেছেন। ডাবলিনের নিজ বাসভবনে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

ব্রেন্ডা ফ্রিকারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তার প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা বেলফিল্ড অ্যান্ড ওয়ার্ড। প্রতিষ্ঠানটির ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বলা হয়, ‘আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। অনবদ্য ও কিংবদন্তি ব্রেন্ডা ফ্রিকার শান্তিপূর্ণভাবে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি সবসময় আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।’

এক বিবৃতিতে তার এজেন্ট ফিল বেলফিল্ড বলেন, ‘ব্রেন্ডার মতো মানুষ খুব কমই জন্মান। তাকে জানার, তার সঙ্গে কাজ করার এবং তাকে ভালোবাসার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য সৌভাগ্যের। তিনি শুধু আমার হৃদয়েই নন, বিশ্বের অসংখ্য চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনপ্রেমীর মনেও চিরকাল বেঁচে থাকবেন।’

তবে অভিনেত্রীর মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। গত বছর এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন এবং শ্বাসকষ্টেও আক্রান্ত ছিলেন।

১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মাই লেফট ফুট’ চলচ্চিত্রে ড্যানিয়েল ডে-লুইসের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান ব্রেন্ডা ফ্রিকার। এই চরিত্রের জন্য ১৯৯০ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড (অস্কার) জেতেন তিনি। তিনিই প্রথম আইরিশ অভিনেত্রী হিসেবে অভিনয়ের জন্য অস্কার জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন।

এ ছাড়া বিবিসির জনপ্রিয় মেডিকেল ড্রামা ‘ক্যাজুয়ালিটি’ সিরিজে নার্স মেগান রোচ চরিত্রে ১৯৮৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত অভিনয় করেন তিনি। ১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হোম অ্যালোন ২: লস্ট ইন নিউইয়র্ক’ সিনেমায় ‘পিজন লেডি’ চরিত্রেও দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন।

ব্রেন্ডা ফ্রিকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আয়ারল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস। তিনি বলেন, ‘আয়ারল্যান্ড আজ তার এক জাতীয় সম্পদকে হারাল। ব্রেন্ডা ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাবান একজন শিল্পী। প্রতিটি চরিত্রে তিনি গভীর মানবিকতা ও আন্তরিকতার ছাপ রেখে গেছেন। বিশ্বমঞ্চে আইরিশ অভিনয়শিল্পের অন্যতম সেরা দূত ছিলেন তিনি।’

আয়ারল্যান্ডে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এডওয়ার্ড ওয়ালশও শোক প্রকাশ করে ব্রেন্ডাকে ‘আইরিশ চলচ্চিত্রের এক দিকপাল’ হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে ‘মাই লেফট ফুট’ চলচ্চিত্রে তার অভিনয়কে ‘অবিস্মরণীয়’ বলে উল্লেখ করেন।

অভিনয়জীবনে অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র উপহার দেওয়া ব্রেন্ডা ফ্রিকারের মৃত্যুতে বিশ্ব চলচ্চিত্রাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার অসাধারণ অভিনয় দর্শকদের হৃদয়ে বহুদিন বেঁচে থাকবে।

এমএমএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow