অস্বীকৃতির আঁধার পেরিয়ে অস্কারের আলোয় কে-পপ কন্যা

যে কণ্ঠকে একদিন ইন্ডাস্ট্রি প্রত্যাখ্যান করেছিল, আজ সেই কণ্ঠই দাপিয়ে বেড়ালো ডলবি থিয়েটারের মঞ্চ। দীর্ঘ অবজ্ঞা, রুদ্ধ দুয়ার আর অসংখ্য ‘না’ শোনার পর অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে আজ কোনো সাধারণ জয় হয়নি, তৈরি হয়েছে এক মহাকাব্যিক ইতিহাস। প্রথমবারের মতো কোনো কে-পপ গান হিসেবে অস্কারের ‘সেরা মৌলিক গান’ বিভাগে স্বর্ণমুকুট জিতে নিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পী ইজে (লি ইউন-জায়ে) ও তার দল। তাদের সৃষ্টি ‘গোল্ডেন’ আজ শুধু সুরের মূর্ছনা নয়, বরং দুনিয়াজুড়ে অবহেলিত প্রতিভাদের জয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এক সময়ের ‘আউটসাইডার’ থেকে আজ বিশ্বজয়ের নায়িকা—ইজে প্রমাণ করে দিলেন যে, প্রতিভাকে শৃঙ্খলিত করা যায় কিন্তু থামিয়ে রাখা যায় না। অস্কারের ৯৮ বছরের ইতিহাসে এটি কেবল একটি পুরস্কার নয়, বরং কে-পপ সাম্রাজ্যের এক নতুন দিগন্তের সূচনা। অস্কার পাওয়া এই মিউজিক ভিডিও ‘গোল্ডেন’ মূলত নেটফ্লিক্সের অ্যানিমেটেড মিউজিক্যাল ফিল্ম ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর টাইটেল সং। এবারের জমকালো এই আসরে গানটির নেপথ্যে থাকা শিল্পী ইজে (লি ইউন-জায়ে), আড্রে নুনা, রেই আমি ও প্রযোজক টেডি পার্কসহ সংশ্ল

অস্বীকৃতির আঁধার পেরিয়ে অস্কারের আলোয় কে-পপ কন্যা

যে কণ্ঠকে একদিন ইন্ডাস্ট্রি প্রত্যাখ্যান করেছিল, আজ সেই কণ্ঠই দাপিয়ে বেড়ালো ডলবি থিয়েটারের মঞ্চ। দীর্ঘ অবজ্ঞা, রুদ্ধ দুয়ার আর অসংখ্য ‘না’ শোনার পর অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে আজ কোনো সাধারণ জয় হয়নি, তৈরি হয়েছে এক মহাকাব্যিক ইতিহাস।

প্রথমবারের মতো কোনো কে-পপ গান হিসেবে অস্কারের ‘সেরা মৌলিক গান’ বিভাগে স্বর্ণমুকুট জিতে নিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পী ইজে (লি ইউন-জায়ে) ও তার দল। তাদের সৃষ্টি ‘গোল্ডেন’ আজ শুধু সুরের মূর্ছনা নয়, বরং দুনিয়াজুড়ে অবহেলিত প্রতিভাদের জয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এক সময়ের ‘আউটসাইডার’ থেকে আজ বিশ্বজয়ের নায়িকা—ইজে প্রমাণ করে দিলেন যে, প্রতিভাকে শৃঙ্খলিত করা যায় কিন্তু থামিয়ে রাখা যায় না। অস্কারের ৯৮ বছরের ইতিহাসে এটি কেবল একটি পুরস্কার নয়, বরং কে-পপ সাম্রাজ্যের এক নতুন দিগন্তের সূচনা।

অস্কার পাওয়া এই মিউজিক ভিডিও ‘গোল্ডেন’ মূলত নেটফ্লিক্সের অ্যানিমেটেড মিউজিক্যাল ফিল্ম ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর টাইটেল সং। এবারের জমকালো এই আসরে গানটির নেপথ্যে থাকা শিল্পী ইজে (লি ইউন-জায়ে), আড্রে নুনা, রেই আমি ও প্রযোজক টেডি পার্কসহ সংশ্লিষ্টদের হাতে তুলে দেওয়া হয় অস্কারের সোনালি ট্রফি। 

পুরস্কার গ্রহণের সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শিল্পী ইজে। তিনি বলেন, এই অর্জন শুধু সাফল্যের নয়, বরং হাজারো বাধার মুখে দমে না গিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।

ইজে-এর এই বিশ্বজয়ের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ সাত বছরের কঠোর সংগ্রামের ইতিহাস। কে-পপ জগতের নামজাদা প্রশিক্ষণ কক্ষে বিটিএস বা ব্ল্যাকপিঙ্কের মতো তারকা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে দীর্ঘ সময় পার করেছিলেন তিনি। কিন্তু প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা সত্ত্বেও বারবার তার গান অপ্রকাশিত থেকে যায়। গভীর একাকীত্ব আর হতাশায় এক সময় ইন্ডাস্ট্রি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। তবে হাল ছাড়েননি। সনি পিকচার্স অ্যানিমেশনের ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’ তাকে সৃজনশীল কাজের সুযোগ দিলে জন্ম হয় ‘গোল্ডেন’ গানটির।

গত বছর বিলবোর্ড হট হান্ড্রেড চার্টে রাজত্ব করা এই গানটি অস্কারের দৌড়ে পেছনে ফেলেছে ডায়ান ওয়ারেন এবং রাফায়েল সাদিকের মতো বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পীদের।

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জয়ে ইতিহাস গড়ার পর এবার অস্কার জয় করে গানটি বিশ্ব সংগীতে কে-পপের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রমাণ করল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow