আপনার তথ্য অনলাইনে ফাঁস হয়েছে কি না জানুন বিনামূল্যে

হঠাৎ একদিন দেখলেন, অচেনা একটা নম্বর থেকে ফোন আসছে, ওপাশের মানুষ আপনার নাম, জন্মতারিখ, এমনকি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের শেষ কয়েকটা ডিজিটও বলে দিচ্ছে। কিংবা ফেসবুকে হঠাৎ লগইন অ্যালার্ট এলো এমন এক ডিভাইস থেকে, যা আপনার নয়। এসবের পেছনে প্রায়ই একটাই কারণ থাকে, কোনো একটা ওয়েবসাইট বা সার্ভিসের ডাটাবেজ থেকে আপনার তথ্য কোনো না কোনোভাবে ফাঁস হয়ে গেছে। সুখবর হলো, এই তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না তা জানতে টাকা খরচের দরকার নেই। কয়েকটা নির্ভরযোগ্য টুল দিয়েই কাজটা করা যায়, শুধু জানা দরকার কোথায় খুঁজতে হবে আর কোথায় ভুলেও নিজের তথ্য দেওয়া যাবে না। সবচেয়ে ভরসাযোগ্য জায়গা সিকিউরিটি গবেষক ট্রয় হান্টের তৈরি haveibeenpwned.com এখনো এই কাজের জন্য সবচেয়ে বিশ্বস্ত ঠিকানা। এখানে শুধু নিজের ই-মেইল অ্যাড্রেসটা বসিয়ে দিলেই সাইট জানিয়ে দেবে, সেই ই-মেইল কোনো পরিচিত ডাটা ব্রিচে ছিল কি না, থাকলে কোন কোন সার্ভিস থেকে, আর কী কী তথ্য ফাঁস হয়েছিল, পাসওয়ার্ড, ফোন নম্বর, ঠিকানা এসব। সাইন আপ করা লাগে না, টাকাও লাগে না। পাসওয়ার্ড নিয়ে সন্দেহ থাকলে একই সাইটের পনড পাসওয়ার্ডস বা হ্যাক হওয়া পাসওয়ার্ড অংশে গিয়ে চেক করা

আপনার তথ্য অনলাইনে ফাঁস হয়েছে কি না জানুন বিনামূল্যে

হঠাৎ একদিন দেখলেন, অচেনা একটা নম্বর থেকে ফোন আসছে, ওপাশের মানুষ আপনার নাম, জন্মতারিখ, এমনকি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের শেষ কয়েকটা ডিজিটও বলে দিচ্ছে। কিংবা ফেসবুকে হঠাৎ লগইন অ্যালার্ট এলো এমন এক ডিভাইস থেকে, যা আপনার নয়। এসবের পেছনে প্রায়ই একটাই কারণ থাকে, কোনো একটা ওয়েবসাইট বা সার্ভিসের ডাটাবেজ থেকে আপনার তথ্য কোনো না কোনোভাবে ফাঁস হয়ে গেছে।

সুখবর হলো, এই তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না তা জানতে টাকা খরচের দরকার নেই। কয়েকটা নির্ভরযোগ্য টুল দিয়েই কাজটা করা যায়, শুধু জানা দরকার কোথায় খুঁজতে হবে আর কোথায় ভুলেও নিজের তথ্য দেওয়া যাবে না।

সবচেয়ে ভরসাযোগ্য জায়গা

সিকিউরিটি গবেষক ট্রয় হান্টের তৈরি haveibeenpwned.com এখনো এই কাজের জন্য সবচেয়ে বিশ্বস্ত ঠিকানা। এখানে শুধু নিজের ই-মেইল অ্যাড্রেসটা বসিয়ে দিলেই সাইট জানিয়ে দেবে, সেই ই-মেইল কোনো পরিচিত ডাটা ব্রিচে ছিল কি না, থাকলে কোন কোন সার্ভিস থেকে, আর কী কী তথ্য ফাঁস হয়েছিল, পাসওয়ার্ড, ফোন নম্বর, ঠিকানা এসব। সাইন আপ করা লাগে না, টাকাও লাগে না।

পাসওয়ার্ড নিয়ে সন্দেহ থাকলে একই সাইটের পনড পাসওয়ার্ডস বা হ্যাক হওয়া পাসওয়ার্ড অংশে গিয়ে চেক করা যায়, সেই পাসওয়ার্ড আগে কোনো লিকে পাওয়া গিয়েছিল কি না। এখানে পুরো পাসওয়ার্ড সার্ভারে পাঠানো হয় না, কে-অ্যানোনিমিটি নামের একটা পদ্ধতিতে শুধু পাসওয়ার্ডের হ্যাশের একাংশ পাঠানো হয়, আসল পাসওয়ার্ড কারো কাছেই যায় না। তাই এই নির্দিষ্ট টুলটা ব্যবহার করা নিরাপদ।

ব্রাউজার নিজেই জানিয়ে দেয়

ক্রোম আর ফায়ারফক্স দুটোতেই বিল্ট ইন পাসওয়ার্ড চেকার আছে। সেভ করা কোনো লগইন যদি কোনো লিকে পাওয়া যায়, ব্রাউজার নিজে থেকেই সতর্ক করে দেয়। আলাদা করে কিছু চেক করার দরকার হয় না, খেয়াল রাখলেই হলো।

ফায়ারফক্স ব্যবহারকারীরা চাইলে monitor.mozilla.org থেকে একসাথে ২০টা পর্যন্ত ই-মেইল অ্যাড্রেস বিনামূল্যে মনিটর করতে পারেন। এটাও মূলত হ্যাভ আই হ্যাভ পনড এর ডেটার ওপর ভিত্তি করেই কাজ করে।

বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো সরকারি টুল নেই

এনআইডি নম্বর বা ফোন নম্বর ফাঁস হয়েছে কিনা তা যাচাইয়ের মতো কোনো সরকারি বা নির্বাচন কমিশন পরিচালিত টুল এখনো নেই। হ্যাভ আই হ্যাভ পনড মূলত ইমেইলভিত্তিক, তাই ফোন নম্বর বা এনআইডি লিক হলে সরাসরি ধরার উপায় সীমিত।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে বাস্তব উপায় হলো বিকাশ, নগদ কিংবা ব্যাংকিং অ্যাপের লগইন হিস্ট্রি ও নোটিফিকেশনে নিয়মিত চোখ রাখা, আর ফেসবুক ও জিমেইলে লগইন অ্যালার্ট চালু রাখা। অপরিচিত ডিভাইস থেকে লগইনের নোটিফিকেশন এলেই সেটা প্রথম সংকেত হতে পারে যে কোথাও তথ্য ফাঁস হয়েছে।

যে ভুলে বিপদ আরও বাড়ে

গুগলে ফ্রি ব্রাঞ্চ চেকার লিখে সার্চ করলে অনেক সাইট চোখে পড়ে, যেগুলো ই-মেইল, ফোন নম্বর, এমনকি পাসওয়ার্ড বসিয়ে ইনস্ট্যান্ট স্ক্যান করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই ধরনের বেশিরভাগ থার্ড পার্টি সাইটের পেছনে কোনো স্বচ্ছ যাচাইব্যবস্থা নেই, এরা মূলত লিড জেনারেশনের ফাঁদ অথবা সরাসরি ক্রেডেনশিয়াল হাতানোর মাধ্যম।

একবার ভাবুন, তথ্য ফাঁস হয়েছে কিনা যাচাই করতে গিয়ে যদি নিজের এনআইডি নম্বর বা পাসওয়ার্ড অচেনা একটা সাইটে বসিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে যে ক্ষতি এখনো ঘটেইনি, সেটাকে নিজ হাতে ডেকে আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়। স্ক্যান শেষে হয়তো একটা ঝকঝকে রিপোর্ট দেখাবে, কিন্তু ততক্ষণে তথ্য চলে গেছে তাদের সার্ভারে। তাই ইমেইল বা পাসওয়ার্ড যাচাইয়ের জন্য হ্যাভ আই হ্যাভ পনড বা মজিলা মনিটরের মতো পরিচিত ও যাচাইকৃত টুলেই ভরসা রাখা উচিত, অচেনা কোনো ইনস্ট্যান্ট চেকার সাইটে নয়।

তথ্য সত্যিই ফাঁস হয়ে গেলে

প্রথম কাজ হলো ওই অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড সঙ্গে সঙ্গে বদলে ফেলা। একই পাসওয়ার্ড অন্য কোথাও ব্যবহার করা থাকলে সেগুলোও বদলাতে হবে, কারণ পাসওয়ার্ড রিইউজ করার অভ্যাসটাই হ্যাকারদের সবচেয়ে বড় সুবিধা করে দেয়। সম্ভব হলে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করে নিন। সন্দেহজনক মেসেজ বা ই-মেইল এলে লিংকে ক্লিক করার আগে দুইবার ভাবুন, কারণ
ডাটা লিকের পর ফিশিং অ্যাটাকের সংখ্যা হঠাৎই বেড়ে যায়।

তথ্য ফাঁস হওয়াটা পুরোপুরি ঠেকানো একা কারো হাতে নেই, সেটা নির্ভর করে যে সার্ভিস তথ্য রাখছে তাদের সিকিউরিটির ওপর। কিন্তু নিজের তথ্য কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে, তা মাঝেমধ্যে যাচাই করে নেওয়াটা পুরোপুরি নিজের হাতে।

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow