আবারও ইতিহাস গড়বে শোলাকিয়া, আধ্যাত্মিক মহাসমুদ্রে ভাসবে লাখো প্রাণ
বাংলাদেশের ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান আবারও প্রস্তুত এক মহামিলনের জন্য। শতবর্ষের গৌরবময় ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত, যা দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত হিসেবে সুপরিচিত। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের দিন সকাল ১০টায় শুরু হবে এই ঐতিহাসিক জামাত। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো মুসল্লির সমাগমে মুখরিত হবে পুরো এলাকা। আধ্যাত্মিক আবেগ, ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম দেয় শোলাকিয়া, যা ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ। এবারের জামাতে ইমামতি করবেন প্রখ্যাত আলেম মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মাওলানা জুবায়ের ইবনে আব্দুল হাই। নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সূর্যবালা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। প্রায় সাত একর আয়তনের বিশাল ঈদগাহ ময়দানে তৈরি করা হয়েছে ২০৬টি কাতার, যেখানে প্রতিটি কাতারে ৭০০ থেকে ৮০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। মূল ময়দান ছাড়াও আশপাশের সড়ক, পুকুরপাড়, সেতু ও ভবনের ছাদেও অতিরিক্ত মুসল্লিদের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে প
বাংলাদেশের ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান আবারও প্রস্তুত এক মহামিলনের জন্য। শতবর্ষের গৌরবময় ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত, যা দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত হিসেবে সুপরিচিত।
প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের দিন সকাল ১০টায় শুরু হবে এই ঐতিহাসিক জামাত। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো মুসল্লির সমাগমে মুখরিত হবে পুরো এলাকা। আধ্যাত্মিক আবেগ, ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম দেয় শোলাকিয়া, যা ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ।
এবারের জামাতে ইমামতি করবেন প্রখ্যাত আলেম মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মাওলানা জুবায়ের ইবনে আব্দুল হাই। নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সূর্যবালা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।
প্রায় সাত একর আয়তনের বিশাল ঈদগাহ ময়দানে তৈরি করা হয়েছে ২০৬টি কাতার, যেখানে প্রতিটি কাতারে ৭০০ থেকে ৮০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। মূল ময়দান ছাড়াও আশপাশের সড়ক, পুকুরপাড়, সেতু ও ভবনের ছাদেও অতিরিক্ত মুসল্লিদের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে পুরো এলাকা পরিণত হবে এক বিশাল নামাজের ময়দানে।
জামাতকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মাঠে দাগ কাটা, মেহরাব নির্মাণ, দেয়ালে চুনকাম, অজুখানা স্থাপনসহ সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়েছে। স্থানীয়দের অংশগ্রহণে পুরো প্রস্তুতি পরিণত হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে চার স্তরের কড়া ব্যবস্থা। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ জানিয়েছেন, পোশাকি ও সাদা পোশাকের পুলিশ, র্যাব এবং এন্টি-টেররিজম ইউনিট মাঠজুড়ে দায়িত্ব পালন করবে। মুসল্লিদের ঈদগাহে প্রবেশ করতে একাধিক চেকপোস্ট ও নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করতে হবে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিক্যাল টিম ও কুইক রেসপন্স ইউনিট। এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, মাঠ ও আশপাশে বসানো হয়েছে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ৬টি ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে। মোতায়েন থাকবে ১১০০ পুলিশ সদস্য, র্যাবের ৬টি টিম, ৫ প্লাটুন বিজিবি, ৫ প্লাটুন আনসার এবং ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী।
পাশাপাশি থাকবে ড্রোন নজরদারি, মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে ও একাধিক চেকপোস্ট। দায়িত্ব পালন করবেন ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে চালু করেছে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন। একটি ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় এবং অন্যটি ময়মনসিংহ থেকে সকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে আসবে।
পানির জন্য রাখা হয়েছে তিনটি ভ্যান, যেখানে প্রায় ৩ হাজার লিটার পানির ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া ৬টি নলকূপ, ৫টি অস্থায়ী অজুখানা এবং ১৫টি অস্থায়ী টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে।
ঐতিহ্য অনুযায়ী, ঈদ জামাত শুরুর আগে বন্দুকের গুলির মাধ্যমে সংকেত প্রদান করা হবে। নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে দুটি এবং ৫ মিনিট আগে একটি গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের সতর্ক করা হবে-যা শোলাকিয়ার দীর্ঘদিনের বিশেষ রেওয়াজ।
সব মিলিয়ে ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান আবারও প্রস্তুত দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত আয়োজনের জন্য। লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত হবে পুরো এলাকা, একসঙ্গে ধ্বনিত হবে তাকবির— গড়ে উঠবে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য বন্ধন।
What's Your Reaction?