আবারও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ

ময়মনসিংহে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে চলমান গ্যাস সরবরাহ সংকটের প্রতিবাদে একই দিনে দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর দিগারকান্দা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ চালকরা। এ সময় তারা সড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান।  তাদের অভিযোগ, দিনের পর দিন গ্যাস সংকটের কারণে তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এর আগে, একই দিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত একই দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন চালকরা। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ওই অবরোধে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে বিকেলে আবারও গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে চালকরা একই স্থানে স

আবারও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ

ময়মনসিংহে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে চলমান গ্যাস সরবরাহ সংকটের প্রতিবাদে একই দিনে দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর দিগারকান্দা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ চালকরা। এ সময় তারা সড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান। 

তাদের অভিযোগ, দিনের পর দিন গ্যাস সংকটের কারণে তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

এর আগে, একই দিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত একই দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন চালকরা। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ওই অবরোধে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তবে বিকেলে আবারও গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে চালকরা একই স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভকারী চালকদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরেই জেলার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক চালক গ্যাস নিতে পারছেন না। কেউ কেউ সারাদিন অপেক্ষা করেও খালি সিলিন্ডার নিয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে তারা নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না এবং দৈনিক আয়-রোজগার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ চালানোও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনকারী চালক এনামুল হক বলেন, ‘আমরা দিনের পর দিন গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছি। কিন্তু পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। এতে আমাদের আয় একেবারেই কমে গেছে। পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সব সিএনজি ফিলিং স্টেশনে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করুক।’

এদিকে অবরোধের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলকারী বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকা পড়ে। মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় যানবাহনে অপেক্ষা করতে হয়। কেউ কেউ বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। এসময় আশপাশের সংযোগ সড়কগুলোতেও যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনরত চালকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং তাদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে পুলিশের অনুরোধে চালকরা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শিব্বিরুল আহমেদ বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। আন্দোলনকারী চালকদের সঙ্গে কথা বলে বুঝিয়ে-শুনিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow