‘আমার সব শেষ, জলের তলে সব হারাইছি’
‘আমার সব শেষ বাবা! ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা খরচ কইরা ১৪ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগাইছিলাম। এক মুঠো ধানও কাটতে পারছি না। জলের তলে আমার সব শেষ হয়ে গেছে।’ নিজের শ্রম আর ঘামে উৎপাদিত সোনালি ফসল চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখে এভাবেই বিলাপ করছিলেন হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের উত্তরহাটীর বাসিন্দা শিবলাল দাস (৫৫)। আকস্মিক পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে বাঁধভাঙা জল কেড়ে নিয়েছে তার স্বপ্ন, রেখে গেছে শুধু এক বুক হাহাকার। শিবলাল দাস জানান, ধার-দেনা করে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৪ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন তিনি। ফলনও হয়েছিল আশানুরূপ। আশা ছিল অন্তত দুইশ মণ ধান ঘরে তুলবেন এবং তা বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করবেন। কিন্তু সর্বনাশা পানি তার সব আশা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। ভেজা একমুঠো ধান হাতে নিয়ে তিনি আক্ষেপে বলেন, ভাবছিলাম ধান বেইচ্চা ঋণ শোধ করমু, কিন্তু আশা আর পূরণ হইলো না। এই একমুঠ ধান বাড়িতে নিয়া যাইতাছি শুধু বাচ্চাদের দেখানোর জন্য যে, আমাদের সব শেষ। কেবল শিবলাল দাস নন, আজমিরীগঞ্জের হাওরাঞ্চলের নিচু এলাকার অসংখ্য কৃষকের গল্প এখন এমনই। ঘাম ঝরানো ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া এই কৃষকদের চোখে এখন কেবল
‘আমার সব শেষ বাবা! ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা খরচ কইরা ১৪ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগাইছিলাম। এক মুঠো ধানও কাটতে পারছি না। জলের তলে আমার সব শেষ হয়ে গেছে।’
নিজের শ্রম আর ঘামে উৎপাদিত সোনালি ফসল চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখে এভাবেই বিলাপ করছিলেন হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের উত্তরহাটীর বাসিন্দা শিবলাল দাস (৫৫)। আকস্মিক পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে বাঁধভাঙা জল কেড়ে নিয়েছে তার স্বপ্ন, রেখে গেছে শুধু এক বুক হাহাকার।
শিবলাল দাস জানান, ধার-দেনা করে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৪ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন তিনি। ফলনও হয়েছিল আশানুরূপ। আশা ছিল অন্তত দুইশ মণ ধান ঘরে তুলবেন এবং তা বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করবেন। কিন্তু সর্বনাশা পানি তার সব আশা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
ভেজা একমুঠো ধান হাতে নিয়ে তিনি আক্ষেপে বলেন, ভাবছিলাম ধান বেইচ্চা ঋণ শোধ করমু, কিন্তু আশা আর পূরণ হইলো না। এই একমুঠ ধান বাড়িতে নিয়া যাইতাছি শুধু বাচ্চাদের দেখানোর জন্য যে, আমাদের সব শেষ।
কেবল শিবলাল দাস নন, আজমিরীগঞ্জের হাওরাঞ্চলের নিচু এলাকার অসংখ্য কৃষকের গল্প এখন এমনই। ঘাম ঝরানো ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া এই কৃষকদের চোখে এখন কেবলই অন্ধকার।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় মোট ১৪ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টি ও ঢলের কারণে বদলপুর, সদর ইউনিয়ন, জলসুখা, শিবপাশা এবং কাকাইলছেও ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে প্রায় ১৬০০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, নিম্নাঞ্চলের জমি বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে ডুবন্ত জমি থেকেই ধান কাটার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। নৌকাযোগে সেই ধান উঁচু জায়গায় আনা হলেও রোদ না থাকায় ধান থেকে নতুন করে চারা গজাচ্ছে। এতে ধানের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে।
কৈয়াগোপী গ্রামের কৃষক গিরিন্দ্র দাস জানান, ১৮ বিঘা জমির মধ্যে মাত্র ৪ বিঘার ধান কাটতে পেরেছেন তিনি।
সদর ইউনিয়নের বিরাট গ্রামের কৃষক হুমায়ুন মিয়া জানান, ৭৫ বিঘা জমিতে আবাদ করলেও প্রায় ৩০ বিঘা জমি তলিয়ে গেছে। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় শ্রমিক সংকট প্রকট হওয়ায় তিনি দিশেহারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক মাঠ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। শ্রমিক সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসনের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাকি ধান দ্রুত কাটার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রেজাউল করিম জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। শ্রমিক সংকট কাটাতে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি সভা করা হয়েছে এবং দ্রুত শ্রমিক সরবরাহের চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়েদুর রহমান জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। খোয়াই ও সুতাং নদীর পানি কমতে শুরু করলেও আজমিরীগঞ্জ অংশে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
What's Your Reaction?