আর্জেন্টিনার পরাজয়ের শোকে এ যেন এক অচেনা ঢাকা

বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ে রাজধানী ঢাকা যেন এক অচেনা শহরে পরিণত হয়েছে। দুপুর পেরিয়ে গেলেও এখনো রাস্তাঘাটে লোকজনের উপস্থিতি কম, নেই চিরচেনা যানজট। সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। রোববার সারারাত জেগে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখে এবং প্রিয় দল আর্জেন্টিনার পরাজয়ে দুঃখভারাক্রান্ত মনে লাখ লাখ আর্জেন্টিনা সমর্থক ভোরবেলায় ঘুমাতে যান। শুধু তা-ই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস দেওয়ার যে যুদ্ধ চলছিল, তাও যেন উধাও হয়ে গেছে। আরও পড়ুন ফাইনাল ম্যাচ দেখে ফেরার পথে সড়কে প্রাণ গেলো দুই যুবকের আজ আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে শহরের চিত্র অন্যরকম হতে পারত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি-বন্দনায় স্ট্যাটাসের বন্যা বয়ে যেত। বিভিন্ন পাড়ামহল্লায় রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে গরু-ছাগল জবাই করে বিরাট ভোজের আয়োজন হতো। ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে বিজয় উৎসব করা হতো। কিন্তু আর্জেন্টিনার পরাজয়ে সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। রোববার দিবাগত রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। যোগ্যতর দল হিসেবে খেলায় একচেটিয়া প্রাধান্য বিস্তার করে

আর্জেন্টিনার পরাজয়ের শোকে এ যেন এক অচেনা ঢাকা

বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ে রাজধানী ঢাকা যেন এক অচেনা শহরে পরিণত হয়েছে। দুপুর পেরিয়ে গেলেও এখনো রাস্তাঘাটে লোকজনের উপস্থিতি কম, নেই চিরচেনা যানজট। সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।

রোববার সারারাত জেগে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখে এবং প্রিয় দল আর্জেন্টিনার পরাজয়ে দুঃখভারাক্রান্ত মনে লাখ লাখ আর্জেন্টিনা সমর্থক ভোরবেলায় ঘুমাতে যান। শুধু তা-ই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস দেওয়ার যে যুদ্ধ চলছিল, তাও যেন উধাও হয়ে গেছে।

আজ আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে শহরের চিত্র অন্যরকম হতে পারত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি-বন্দনায় স্ট্যাটাসের বন্যা বয়ে যেত। বিভিন্ন পাড়ামহল্লায় রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে গরু-ছাগল জবাই করে বিরাট ভোজের আয়োজন হতো। ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে বিজয় উৎসব করা হতো। কিন্তু আর্জেন্টিনার পরাজয়ে সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।

রোববার দিবাগত রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। যোগ্যতর দল হিসেবে খেলায় একচেটিয়া প্রাধান্য বিস্তার করে ১-০ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে তারা। খেলা শেষে আর্জেন্টিনা সমর্থক লাখ লাখ দর্শক মন খারাপ করে ঘুমাতে যান। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে খেলা শেষ না হওয়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলা গড়ায়। ১০৬ মিনিটে স্পেনের পক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন ফেরান তোরেস।

রাজধানীর লালবাগের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, আর্জেন্টিনার পরাজয়ে তার ছেলে-মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমাতে গেছে। দুপুর ১টা পর্যন্ত তারা ঘুম থেকে ওঠেনি। পছন্দের দলের পরাজয়ে শোকাহত ছেলে-মেয়েকে তিনি এখনো ঘুম থেকে ডেকে তোলেননি।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা অনেক দূরের দেশ হলেও বিশ্বকাপ ফুটবল সূত্রে মনে হয় ঘরের কেউ। ওদের জয়ে আমরা হাসি, ওদের পরাজয়ে আমরা কাঁদি। ফুটবল ভৌগোলিক সীমান্তকে কাছে নিয়ে আসে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আর্জেন্টিনার ঘোর সমর্থক আজিজুর রহমান বলেন, স্পেন যোগ্যতর দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে; কিন্তু আর্জেন্টিনা এত খারাপ খেলবে, তা তার কল্পনাতেও ছিল না। মেসির জন্য তার খুব খারাপ লাগছে বলে জানান তিনি।

ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা ও ব্রাজিলের সমর্থক (যিনি ফাইনালে স্পেনের সমর্থন করেন) অলিউর রহমান বলেন, ব্রাজিলের বিদায়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা নানা টিপ্পনী কেটেছিলেন। স্পেন ফাইনালে এক গোল দিলেও আর্জেন্টিনা ম্যাচে তেমন পাত্তাই পায়নি। এখন তাদের বড়াই কোথায় গেলো?

এমইউ/এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow