আলু চাষিদের ভাগ্য যেন উত্থান-পতনের গল্প
বাজারদরের উত্থান আর পতনের মাঝখানে সীমাবদ্ধ মুন্সিগঞ্জের আলু চাষিদের ভাগ্য। বিগত কয়েক বছরের ক্রমাগত লোকসান ঠেকাতে চলতি মৌসুমে ঝুঁকি নিয়ে আলু আবাদ করেছেন জেলার কয়েক লক্ষাধিক কৃষক। তবুও চলতি বছরে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম। জমি থেকে আলু উত্তোলন শুরুতেই কয়েক দফা দর পতনে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে আলু চাষিদের ভবিষ্যৎ। এমন পরিস্থিতিতে আগামী মৌসুমে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখাঁন ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে, উত্তোলন মৌসুম ঘিরে মাঠ থেকে আলু তোলার ব্যস্ততা বেড়েছে চাষিদের। প্রান্তিক কৃষকের দীর্ঘদিনের ঘাম আর শ্রমে অর্জিত স্বপ্নের ফসল বস্তাবন্দি করে পাঠানো হচ্ছে হিমাগারে। জানা গেছে, সময়ের ব্যবধানে বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির দেখা না মিললে হিমাগার থেকে কৃষক ফেরেন শূন্য হাতে। গত কয়েক বছর ক্রমাগত লোকসানে ঋণের বোঝা ভারি হয়েছে কৃষকদের। ফলে অতীতের লোকসান কাটাতে তিনটি দাবি কথা জানিয়েছেন আলু চাষিরা। দাবিগুলো হলো- টিসিবি পণ্যে আলু যুক্ত করা, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং বহির্বিশ্বে আলুর রপ্তানি বৃদ্ধি করা। বস্তাবন্দি আলু সাইকেলে
বাজারদরের উত্থান আর পতনের মাঝখানে সীমাবদ্ধ মুন্সিগঞ্জের আলু চাষিদের ভাগ্য। বিগত কয়েক বছরের ক্রমাগত লোকসান ঠেকাতে চলতি মৌসুমে ঝুঁকি নিয়ে আলু আবাদ করেছেন জেলার কয়েক লক্ষাধিক কৃষক। তবুও চলতি বছরে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম। জমি থেকে আলু উত্তোলন শুরুতেই কয়েক দফা দর পতনে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে আলু চাষিদের ভবিষ্যৎ। এমন পরিস্থিতিতে আগামী মৌসুমে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখাঁন ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে, উত্তোলন মৌসুম ঘিরে মাঠ থেকে আলু তোলার ব্যস্ততা বেড়েছে চাষিদের। প্রান্তিক কৃষকের দীর্ঘদিনের ঘাম আর শ্রমে অর্জিত স্বপ্নের ফসল বস্তাবন্দি করে পাঠানো হচ্ছে হিমাগারে।
জানা গেছে, সময়ের ব্যবধানে বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির দেখা না মিললে হিমাগার থেকে কৃষক ফেরেন শূন্য হাতে। গত কয়েক বছর ক্রমাগত লোকসানে ঋণের বোঝা ভারি হয়েছে কৃষকদের। ফলে অতীতের লোকসান কাটাতে তিনটি দাবি কথা জানিয়েছেন আলু চাষিরা। দাবিগুলো হলো- টিসিবি পণ্যে আলু যুক্ত করা, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং বহির্বিশ্বে আলুর রপ্তানি বৃদ্ধি করা।
বস্তাবন্দি আলু সাইকেলে করে নিয়ে যাচ্ছে আলু চাষি/ ছবি: জাগো নিউজ
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় আলুর আবাদ হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ১১ লাখ থেকে প্রায় ১২ লাখ টন পর্যন্ত।
‘৪৯ শতাংশ জমিতে ৪ হাজার ৫০০ কেজি আলু উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে মানসম্মত প্রতিমণ আলু ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে আর প্রতিমণ আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে সাড়ে ৫০০ টাকা’
অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ‘চাহিদার তুলনায় বেশি আলুর উৎপাদন হওয়ায় দুর্গতি যেন পিছু লেগেছে কৃষকের, এবারও বাজার দর কম থাকায় বড় লোকসানের মুখে কয়েক লক্ষাধিক আলুচাষি’।
ছাদবাগান থেকে শুরু, চাঁদপুরে এখন আঙুর চাষে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত
জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল মেকারদের জীবিকায় টান
আমনের দাম পড়তি, বোরো নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা
সরজমিনে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে আলু সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যয় কমাতে সড়ক পথের চেয়ে নৌপথে চাপ বেড়েছে। উত্তোলন শেষে জমি থেকে বস্তাবন্দি করা আলু সাইকেলে বাড়ি নিচ্ছেন কৃষক। তবু প্রশ্ন উঠছে এত ত্যাগের বিনিময় অর্জিত কষ্টের ফসল কেন সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছে না!
আলু চাষিদের অভিযোগ, সার-কীটনাশক বীজের দামের সঙ্গে শ্রমিক মজুরি যুক্ত হয়ে এ বছর আলু আবাদে মণপ্রতি কৃষকের খরচ হয়েছে ৬শ’ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমান আলুর পাইকারি বাজার মূল্য সর্বোচ্চ ৪৫০ টাকা। এতে জমি থেকে আলু বিক্রি করে কৃষককে মণপ্রতি লোকসান গুনতে হচ্ছে দুই থেকে অন্তত ২৫০ টাকা পর্যন্ত।
এতে বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত আলুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক। ফলে দ্রুত বিদেশে আলু রপ্তানির জোর দাবি এ অঞ্চলের কৃষকের। তবুও আশাজাগানিয়া বার্তা নেই স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে।
বিস্তীর্ণ কৃষি জমে থাকে আলু উত্তোলন করছেন চাষিরা/ ছবি: জাগো নিউজ
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ ও বিপণন অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী গত পাঁচ বছর আলু আবাদ করে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পেয়ে পথে বসেছেন বহু প্রান্তিক আলু চাষি।
‘এবার সানসাই জাতের আলুর দেখতে যেমন সুন্দর তেমন ফলনও ভালো হয়েছে তাই কৃষকরা ডায়মন্ড, ভ্যানিলা জাতের আলুর আবাদ থেকে সরে এসেছে’
এদিকে চাষিদের লোকসান কমাতে সরকারি টিসিবির পণ্যে আলু ক্রয় বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করাসহ কৃষকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি উঠলেও সেইসব দাবি কখনোই আলোর মুখ দেখেনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঘুরে ও ভুক্তভোগী স্থানীয় আলু চাষি এবং প্রান্তিক কৃষকদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আলু চাষে সুপরিচিত জেলা মুন্সিগঞ্জে চলতি বছর ভালো ফলন হয়েছে। আলুর গুণগত মান ও ভালো ফলন দেখে কৃষকের চোখে-মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিলেও ,আলুর কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় সেই হাসি ফুরিয়ে গেছে। বর্তমান বাজার মূল্যে আলু বিক্রি করে মণপ্রতি কৃষকের লোকসান হচ্ছে অন্তত ২০০ টাকা। তবুও মাঠে দেখা মিলছে না পাইকারের। ফলশ্রুতিতে চাষিরা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছে।
পরিবহন ব্যয় কমাতে নৌপথে নেওয়া হচ্ছে আলু/ ছবি: জাগো নিউজ
এছাড়া বিগত মৌসুমে বিভিন্ন হিমাগারে সংরক্ষিত আলুর বিপরীতে সরকারি প্রণোদনা না পাওয়ায় হতাশার মাত্রা আরও বেড়েছে। ফলে আলুকেন্দ্রিক খাবার তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি এবং সুপার শপে সরবরাহের মাধ্যমে আলুর বহুমাত্রিক ব্যবহারে কৃষি বিভাগ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি আলু চাষিদের।
মৌলভীবাজারে জনপ্রিয় হচ্ছে সিরাজের বাঁশের ফার্নিচার
রান্নাঘরের ‘মৃত্যুফাঁদ’ গ্যাস সিলিন্ডার
শুকিয়ে যাচ্ছে ধানের জমি, তেলের খোঁজে পাম্পে পাম্পে ঘুরছে কৃষক
মুন্সিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ৩৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে আলু আবাদেও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর বিপরীতে ১০ লাখ ৯৭ হাজার ১৪৭ টন আলু ফলনের আশা করা হয়। মাঠ পর্যায়ে এ পর্যন্ত আবাদকৃত জমির ৮০ শতাংশ জমির আলু উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে। এ বছর জেলায় প্রতি হেক্টর জমিতে ৪২ থেকে ৪৩ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে।
‘বিএডিসি ব্র্যাক, এসিআইসহ বিভিন্ন কোম্পানির আলু বীজ রোপণে সুনির্দিষ্ট কারিগরি নির্দেশনা থাকে, ফলে তা অনুসরণ না করায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। আর প্রণোদনা প্রদান প্রক্রিয়াধীন’
এদিকে গত বছর জেলার ৬ উপজেলায় ৩৫ হাজার ৭৯৬ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছিল।
চাষিরা বলছেন, বিগত মৌসুমের বিপুল পরিমাণ লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েই ধারদেনা করে উৎপাদন করা আলু এখন কৃষকের গলার কাটা। একদিকে খুচরা বাজারে দর পতন অপরদিকে মাঠে দেখা মিলছে না পাইকারের। ফলে সরকারকে আলু বিদেশে রপ্তানির সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে হবে।
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চম্পাতলা গ্রামের আলু চাষি জামাল মন্ডল বলেন, ৪৯ শতাংশ জমিতে ৪ হাজার ৫০০ কেজি আলু উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে মানসম্মত প্রতিমণ আলু ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে আর প্রতিমণ আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে সাড়ে ৫০০ টাকা।
মহকালী ইউনিয়নের কেওয়ার নূরাইতলী এলাকার অপর কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, এবার সানসাই জাতের আলুর দেখতে যেমন সুন্দর তেমন ফলনও ভালো হয়েছে তাই কৃষকরা ডায়মন্ড, ভ্যানিলা জাতের আলুর আবাদ থেকে সরে এসেছে।
এ কৃষকের মতে, যারা বাক্স আলু (হল্যান্ড ডায়মন্ড) দ্বিতীয় দফায় রোপণ করেছে কিংবা ব্র্যাক, এসিআই বিএডিসি বীজ রোপণ করেছে তাদের ফলন ভালো হয়নি।
জমি থেকে আলু উত্তোলন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা/ ছবি: জাগো নিউজ
মহাকালী, রণছ এলাকার কৃষক রমজান মাতবর ও সবুর আলী জানান, অনুকূল আবহাওয়া আর আলু গাছে পোকার সংক্রমণ না হওয়া এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হওয়ায় এ বছর আলুর ফলন বৃদ্ধির সহায়ক হয়েছে।
তারা আরও জানান, বছরের পর বছর লোকসান থেকে কৃষক বাঁচাতে হলে রপ্তানির বিকল্প নেই। এছাড়া এ জেলার পটেটোফ্লেক্স কারখানাগুলোও সচল করলে কৃষকরা দাম পাবেন।
‘চাহিদার তুলনায় বেশি আলুর উৎপাদন হওয়ায় দুর্গতি যেন পিছু লেগেছে কৃষকের, এবারও বাজার দর কম থাকায় বড় লোকসানের মুখে কয়েক লক্ষাধিক আলুচাষি’
অন্যদিকে এমন পরিস্থিতিতে কৃষক বাঁচাতে আলুর বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি আগামী মৌসুম ঘিরে বিকল্প কিছু নিয়ে ভাবছে জেলা কৃষি বিভাগ।
‘নদীর সব জাটকা ধরা হয়ে গেছে, মনে হয় না সামনে ইলিশ পাবো’
শুকিয়ে যাচ্ছে ধানের জমি, তেলের খোঁজে পাম্পে পাম্পে ঘুরছে কৃষক
বাঁশ-বেতের শিল্পে পাহাড়ের প্রাণ, টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম লাকি চাকমার
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা করে বৈজ্ঞানিকপন্থা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সারের ডোজ প্রয়োগ করে চাষাবাদ করলে উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, জয়পুরহাট-বগুড়া-রাজশাহী অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে আলুর ফলন বেশ ক্ষতি হয়েছে। তাই মুন্সিগঞ্জের প্রধান ফসল আলুতে এবার কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাবেন আশা করি।
তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় আলুকেন্দ্রিক খাবার তৈরির প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যান্য উপজেলায়ও হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাবিবুর রহমান বলেন, বিএডিসি ব্র্যাক, এসিআইসহ বিভিন্ন কোম্পানির আলু বীজ রোপণে সুনির্দিষ্ট কারিগরি নির্দেশনা থাকে, ফলে তা অনুসরণ না করায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। আর প্রণোদনা প্রদান প্রক্রিয়াধীন।
তবে এ বছর বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত আলুর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে তেমন আশাজাগানিয়া বার্তা নেই অধিদপ্তরের কাছে।
অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে মুন্সিগঞ্জ জেলায় আলুর আবাদ হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদন হতে পারে সাড়ে ১০ লাখ থেকে ১১ লাখ টন।
শুভ ঘোষ/এনএইচআর/এমএস
What's Your Reaction?