আলোচিত ধর্ষণ মামলায় ফাদার প্রদীপ গ্রেগরী বেকসুর খালাস, উচ্চ আদালতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ

রাজশাহীর তানোর উপজেলার বহুল আলোচিত এক কিশোরী ধর্ষণ মামলায় প্রায় ছয় বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। মামলার একমাত্র আসামি, তৎকালীন ধর্মযাজক ফাদার প্রদীপ গ্রেগরীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালত-১। রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শরনিম আকতার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পরই অসন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে আসামিপক্ষের দাবি, অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হওয়ায় আদালত খালাসের রায় দিয়েছেন। রায় ঘোষণার পর ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই ও মামলার বাদী স্বপন হাঁসদা বলেন, ‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমার বোনের প্রতি যে অন্যায় হয়েছে, তার বিচার পাইনি।’ তিনি জানান, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। স্বপন হাঁসদার অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়ার ছয় বছরে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বিভিন্ন সময়ে রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যাওয়ায় বিচারকাজ ব্যাহত হয়েছে। প্রয়োজনীয় কিছু নথি সময়মতো আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে একজন আদিবাসী হিসেবে বি

আলোচিত ধর্ষণ মামলায় ফাদার প্রদীপ গ্রেগরী বেকসুর খালাস, উচ্চ আদালতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ
রাজশাহীর তানোর উপজেলার বহুল আলোচিত এক কিশোরী ধর্ষণ মামলায় প্রায় ছয় বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। মামলার একমাত্র আসামি, তৎকালীন ধর্মযাজক ফাদার প্রদীপ গ্রেগরীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালত-১। রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শরনিম আকতার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পরই অসন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে আসামিপক্ষের দাবি, অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হওয়ায় আদালত খালাসের রায় দিয়েছেন। রায় ঘোষণার পর ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই ও মামলার বাদী স্বপন হাঁসদা বলেন, ‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমার বোনের প্রতি যে অন্যায় হয়েছে, তার বিচার পাইনি।’ তিনি জানান, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। স্বপন হাঁসদার অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়ার ছয় বছরে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বিভিন্ন সময়ে রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যাওয়ায় বিচারকাজ ব্যাহত হয়েছে। প্রয়োজনীয় কিছু নথি সময়মতো আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে একজন আদিবাসী হিসেবে বিচারপ্রক্রিয়ায় হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিতালী বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি এখনো হাতে পাওয়া যায়নি। আদালত কী যুক্তিতে আসামিকে খালাস দিয়েছেন, তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম বলেন, শুরু থেকেই তাদের দাবি ছিল, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও গ্রহণযোগ্য নথি উপস্থাপন করতে পারেনি। সে কারণেই আদালত আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় ফাদার প্রদীপ গ্রেগরী বলেন, দীর্ঘ ছয় বছরের আইনি লড়াই তাঁর জন্য ছিল কঠিন ও অনিশ্চয়তায় ভরা। আদালতের রায়ে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। বিচারপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আদালতের রায়কে তিনি ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা মাহালীপাড়া এলাকার এক কিশোরী বাড়ির পাশের সাধুজন মেরী গির্জার কাছে ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন তার বড় ভাই স্বপন হাঁসদা তানোর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গির্জা থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সেদিন রাতেই ভুক্তভোগীর বড় ভাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তৎকালীন ফাদার প্রদীপ গ্রেগরীকে একমাত্র আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, কিশোরীকে গির্জার একটি কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ট্রাইব্যুনাল ফাদার প্রদীপ গ্রেগরীকে বেকসুর খালাস দেন। তবে রায়ের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের ঘোষণা দেওয়ায় বহুল আলোচিত এ মামলার আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow