আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির সহজ আমল
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অন্তরে ভালোবাসা ও প্রীতি দান করেছেন আর তিনিই প্রত্যেক কাঙ্ক্ষিত বস্তু দানকারী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি অদৃশ্য বিষয়ের পরিজ্ঞাত। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা, আমাদের নবী ও আমাদের অভিভাবক মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল। হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন, যতদিন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পরিক্রমা জারি থাকবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সমস্ত বস্তু সৃষ্টি করেছেন যাতে মানুষ তা থেকে উপকৃত হতে পারে। আর মানুষকে সৃষ্টি করেছেন যেন তারা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করে ও তাঁকে ভালোবাসে। তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি সব কিছুর স্রষ্টা, অতএব তোমরা তাঁরই ইবাদত করো। তিনি মহান, তিনি যা দান করেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর তিনি যা রোধ করেন তা দান করার কেউ নেই। সুতরাং মানুষের উচিত তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করা, তিনি ছাড়া অন্য কাউকে ভালো না বাসা এবং তাঁর সত্তা ছাড়া অন্য কারও সাথে অন্তরকে জুড়ে না দেওয়া। নিশ্চয়ই দুনিয়া মানুষের জন্য প্রয়োজনীয়, যা ছাড়া মা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অন্তরে ভালোবাসা ও প্রীতি দান করেছেন আর তিনিই প্রত্যেক কাঙ্ক্ষিত বস্তু দানকারী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি অদৃশ্য বিষয়ের পরিজ্ঞাত। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা, আমাদের নবী ও আমাদের অভিভাবক মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল। হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন, যতদিন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পরিক্রমা জারি থাকবে।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সমস্ত বস্তু সৃষ্টি করেছেন যাতে মানুষ তা থেকে উপকৃত হতে পারে। আর মানুষকে সৃষ্টি করেছেন যেন তারা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করে ও তাঁকে ভালোবাসে। তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি সব কিছুর স্রষ্টা, অতএব তোমরা তাঁরই ইবাদত করো। তিনি মহান, তিনি যা দান করেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর তিনি যা রোধ করেন তা দান করার কেউ নেই। সুতরাং মানুষের উচিত তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করা, তিনি ছাড়া অন্য কাউকে ভালো না বাসা এবং তাঁর সত্তা ছাড়া অন্য কারও সাথে অন্তরকে জুড়ে না দেওয়া। নিশ্চয়ই দুনিয়া মানুষের জন্য প্রয়োজনীয়, যা ছাড়া মানুষের কোনো উপায় নেই। অতএব, তোমরা এর সঠিক মূল্যায়ন করো; আর প্রয়োজনীয় বিষয়কে কেবল প্রয়োজনের মাপকাঠিতেই মূল্যায়ন করা উচিত।
আপনারা জেনে রাখুন যে, কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়াসমূহ এবং আল্লাহ তাআলার জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সুতরাং আপনারা প্রতিটি অবস্থায় কোরআন-হাদিসের দোয়াগুলো পাঠ করুন, এবং অনর্থক কথাবার্তা ও জল্পনা-কল্পনা থেকে বেঁচে তাঁরই আশ্রয় নিন। সকাল ও সন্ধ্যায় বেশি বেশি তাঁর জিকির করুন। জেনে রাখুন, আল্লাহ তাআলা আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য দোয়া নির্ধারণ করে দিয়েছেন—আমাদের খাবার খাওয়া, পানীয় পান করা, পোশাক পরিধান করা, ঘুমানো, এমনকি চুল আঁচড়ানো ও জুতো পরার ক্ষেত্রেও। অতএব, আমাদের কর্তব্য হলো প্রতিটি অবস্থায় ও প্রতিটি সময়ে দোয়া করা; চাই এই দোয়া কোরআন-হাদিসে বর্ণিত শব্দের মাধ্যমে হোক কিংবা নিজের ভাষায় হোক।
আপনারা যখন বাড়ি থেকে বের হবেন, তখন বলুন: ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি লা হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে, আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো আশ্রয় ও শক্তি নেই)। আর যখন মসজিদে প্রবেশ করবেন, তখন বলুন: ‘বিসমিল্লাহি ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিল্লাহি আল্লাহুম্মাফতাহ লী আবওয়াবা রাহমাতিক’ (আল্লাহর নামে, এবং আল্লাহর রাসুলের ওপর দরুদ ও সালাম, হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন)।

জুমার খুতবা / ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান
আর যখন মসজিদ থেকে বের হবেন, তখন বলুন: ‘বিসমিল্লাহি ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিল্লাহি আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাদলিক’ (আল্লাহর নামে, এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর দরুদ ও সালাম, হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি)।
প্রতিদিন সকালে বলুন: ‘আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা ওয়া বিকা আমসাইনা ওয়া বিকা নাহইয়া ওয়া বিকা নামূতু ওয়া ইলাইকান নুশূর’ (হে আল্লাহ! আপনারই অনুগ্রহে আমরা সকালে উপনীত হয়েছি, আপনারই অনুগ্রহে সন্ধ্যায় উপনীত হই, আপনারই ইচ্ছায় আমরা বেঁচে থাকি, আপনারই ইচ্ছায় আমরা মৃত্যুবরণ করি এবং আপনারই দিকে পুনরুত্থান)।
প্রতিদিন সন্ধ্যায় বলুন: ‘আল্লাহুম্মা বিকা আমসাইনা ওয়া বিকা আসবাহনা ওয়া বিকা নাহইয়া ওয়া বিকা নামূতু ওয়া ইলাইকান নুশূর’ (হে আল্লাহ! আপনারই অনুগ্রহে আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি, আপনারই অনুগ্রহে সকালে উপনীত হই, আপনারই ইচ্ছায় আমরা বেঁচে থাকি, আপনারই ইচ্ছায় আমরা মৃত্যুবরণ করি এবং আপনারই দিকে পুনরুত্থান)।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহকে ডাকতেন, বিশেষ করে যখন তিনি কোনো কঠিন বা সংকটের মুখোমুখি হতেন, তখন নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন এবং নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাইতেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ‘তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।’

জুমার খুতবায় যা বলতেন বিশ্বনবি (সা.)
জেনে রাখুন, বান্দা যখন কোনো পাপ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। আর এই দাগটি হলো ময়লাস্বরূপ, তাই আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনকারীর জন্য এই ময়লা দূর করা অপরিহার্য। আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রয়োজন একটি পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত অন্তর, আর অন্তরের এই পরিচ্ছন্নতা আসে আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ‘অন্তরের পরিষ্কারক হলো আল্লাহর জিকির।’ অতএব, আপনার দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে সব অবস্থায় আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করুন। আপনারা যদি অজু ছাড়াও থাকেন, তবুও আপনারা জিকির করতে পারেন। আপনারা আল্লাহ তাআলাকে এত অধিক পরিমাণে স্মরণ করুন যেন মানুষ আপনাদেরকে পাগল বলে।
বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! আপনারা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করুন এবং সকাল-সন্ধ্যা তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন।’
আমি আমার নিজের জন্য, আপনাদের জন্য ও সকল মুসলমানের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা তাঁর কাছে ক্ষমা চান, নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
ওএফএফ
What's Your Reaction?
