আশুরার দিনেই কি কেয়ামত হবে?

মহররম মাসের দশম দিন বা আশুরা মুসলিম উম্মাহর কাছে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন। ফেরাউনের হাত থেকে হজরত মুসা (আ.)-এর মুক্তি এবং কারবালার প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর শাহাদাতের মতো হৃদয়বিদারক ঘটনার স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটি অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালিত হয়। তবে এই দিনটির ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি আমাদের সমাজে এমন কিছু আকিদা বা ধারণা প্রচলিত রয়েছে, যেগুলোর সত্যতা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। বিশেষ করে, একটি সাধারণ বিশ্বাস প্রচলিত আছে যে, মহররমের দশ তারিখ অর্থাৎ আশুরার দিনেই সংঘটিত হবে মহাপ্রলয় বা কেয়ামত। কিন্তু এই ধারণার ধর্মীয় ভিত্তি কতটুকু? এ বিষয়ে ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের (ধর্ম মন্ত্রণালয়) সদস্য মুফতি শামছুদ্দোহা আশরাফী কালবেলাকে বলেন, ‘আমাদের সমাজের একটি বড় অংশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে এই ধারণা আছে যে, পৃথিবী ধ্বংসের সেই চূড়ান্ত দিন অর্থাৎ কেয়ামত হবে কোনো এক আশুরার দিন। অনেক ক্ষেত্রে আলোচনা বা ওয়াজ-মাহফিলেও এই প্রসঙ্গটি উঠে আসে, যা সাধারণ মানুষের মনে একটি স্থায়ী বিশ্বাস তৈরি করেছে।’ ‘তবে ইসলামের বিশুদ্ধ জ্ঞান ও নির্ভরযোগ্য উৎসের নিরিখে বিচার করলে দে

আশুরার দিনেই কি কেয়ামত হবে?

মহররম মাসের দশম দিন বা আশুরা মুসলিম উম্মাহর কাছে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন। ফেরাউনের হাত থেকে হজরত মুসা (আ.)-এর মুক্তি এবং কারবালার প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর শাহাদাতের মতো হৃদয়বিদারক ঘটনার স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটি অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালিত হয়।

তবে এই দিনটির ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি আমাদের সমাজে এমন কিছু আকিদা বা ধারণা প্রচলিত রয়েছে, যেগুলোর সত্যতা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। বিশেষ করে, একটি সাধারণ বিশ্বাস প্রচলিত আছে যে, মহররমের দশ তারিখ অর্থাৎ আশুরার দিনেই সংঘটিত হবে মহাপ্রলয় বা কেয়ামত। কিন্তু এই ধারণার ধর্মীয় ভিত্তি কতটুকু?

এ বিষয়ে ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের (ধর্ম মন্ত্রণালয়) সদস্য মুফতি শামছুদ্দোহা আশরাফী কালবেলাকে বলেন, ‘আমাদের সমাজের একটি বড় অংশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে এই ধারণা আছে যে, পৃথিবী ধ্বংসের সেই চূড়ান্ত দিন অর্থাৎ কেয়ামত হবে কোনো এক আশুরার দিন। অনেক ক্ষেত্রে আলোচনা বা ওয়াজ-মাহফিলেও এই প্রসঙ্গটি উঠে আসে, যা সাধারণ মানুষের মনে একটি স্থায়ী বিশ্বাস তৈরি করেছে।’

‘তবে ইসলামের বিশুদ্ধ জ্ঞান ও নির্ভরযোগ্য উৎসের নিরিখে বিচার করলে দেখা যায়, এই ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। প্রকৃতপক্ষে, আশুরার দিনে অর্থাৎ মহররমের দশম তারিখে কেয়ামত হবে মর্মে নবী করীম (সা.) থেকে বর্ণিত কোনো সহিহ হাদিস নেই। নির্ভরযোগ্য কোনো হাদিসের কিতাবের মধ্যে এমন কোনো বর্ণনার অস্তিত্ব পাওয়া যায় না যা প্রমাণ করে যে, ১০ই মহররম পৃথিবী ধ্বংস হবে।’

মুফতি শামছুদ্দোহা আরও বলেন, ‘কেয়ামত কবে হবে তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। যদিও হাদিসে জুমার দিনে কেয়ামত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, কিন্তু তা মহররমের দশ তারিখেই হবে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বক্তব্য থেকে প্রমাণিত নয়। সুতরাং সমাজের মধ্যে প্রচলিত এই কথাটি সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন এবং এর কোনো প্রমাণিত উৎস নেই।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow