ইঞ্জিন মেরামতে দুই প্রকৌশলী নিয়োগেই ৫০ কোটি টাকা চায় রেলওয়ে

দেশের পুরোনো ও জরাজীর্ণ রেল ইঞ্জিন বদলে নতুন লোকোমোটিভ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে প্রকল্পের একটি ব্যয় প্রস্তাব ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। ৩০টি মিটার গেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাত্র দুই বিদেশি প্রকৌশলী নিয়োগে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব দিয়েছে রেলওয়ে। এই বিপুল ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের মতে, বিদেশি প্রকৌশলীর পেছনে এত অর্থ খরচ না করে দেশীয় প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দিলে দীর্ঘমেয়াদে রেলখাত আরও দক্ষ ও স্বনির্ভর হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ রেলওয়েতে পুরোনো ও জরাজীর্ণ লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এসব রেল ইঞ্জিনের জ্বালানি খরচ অনেক বেশি এবং এদের নির্ভরযোগ্যতা ও প্রাপ্যতা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। এসব বিষয় বিবেচনায় ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটার গেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ক্রয়কৃত ৩০টি লোকোমোটিভ পাঁচ বছর মেইনটেন্যান্সের লক্ষ্যে দুজন বিদেশি সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের জন্য ৪৯ কোটি ৫৫ লাখ ১৮ হাজা

ইঞ্জিন মেরামতে দুই প্রকৌশলী নিয়োগেই ৫০ কোটি টাকা চায় রেলওয়ে

দেশের পুরোনো ও জরাজীর্ণ রেল ইঞ্জিন বদলে নতুন লোকোমোটিভ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে প্রকল্পের একটি ব্যয় প্রস্তাব ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। ৩০টি মিটার গেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাত্র দুই বিদেশি প্রকৌশলী নিয়োগে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব দিয়েছে রেলওয়ে।

এই বিপুল ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের মতে, বিদেশি প্রকৌশলীর পেছনে এত অর্থ খরচ না করে দেশীয় প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দিলে দীর্ঘমেয়াদে রেলখাত আরও দক্ষ ও স্বনির্ভর হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশ রেলওয়েতে পুরোনো ও জরাজীর্ণ লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এসব রেল ইঞ্জিনের জ্বালানি খরচ অনেক বেশি এবং এদের নির্ভরযোগ্যতা ও প্রাপ্যতা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। এসব বিষয় বিবেচনায় ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটার গেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ক্রয়কৃত ৩০টি লোকোমোটিভ পাঁচ বছর মেইনটেন্যান্সের লক্ষ্যে দুজন বিদেশি সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের জন্য ৪৯ কোটি ৫৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা ব্যয় রাখা হয়েছে।

তবে দুই প্রকৌশলীর জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাবে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। একই সঙ্গে এই ব্যয়ের কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে না পেয়ে অযৌক্তিক ব্যয়ের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

দুজন প্রকৌশলীর জন্য এত বেশি ব্যয়ের বিরোধিতা করে ভিন্ন যুক্তি দেখিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশন বলছে, লোকোমোটিভ মেইনটেন্যান্সের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ার/টেকনিশিয়ানকে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের দ্বারা একটি রিসোর্স পুল তৈরির লক্ষ্যে দরপত্র দলিলে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ রাখা যায়। এতে সংস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রকল্প ব্যয় কমবে। 

একইভাবে আলাদা কোড/অঙ্গে প্রটোটাইপ ইন্সপেকশন, ফ্যাক্টরি ইন্সপেকশন এবং বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ব্যয় না রেখে দরপত্র দলিলে সংস্থান রাখা হলে ব্যয় সাশ্রয়ী এবং ফলপ্রসূ হবে বলে জানায় পরিকল্পনা কমিশন। পাশাপাশি ৯৩ জনমাস (১ জন করলে ৯৩ মাস লাগবে) মেয়াদি পরামর্শ সেবা বাবদ ২৬ কোটি ৭০ লাখ ২৭ হাজার টাকার ব্যয় প্রস্তাবের যৌক্তিক ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিশন। পরামর্শকের সম্মানি ও অন্যান্য পুনর্ভরণ ব্যয় প্রকৃত বাজার দর অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে বলে বাংলাদেশ রেলওয়েকে জানানো হয়েছে।

বিদেশি দুই প্রকৌশলীর জন্য ৫০ কোটি টাকা ব্যয় না করে দেশীয় প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে মত দিয়েছে কমিশন। কমিশন বলছে, ২০ জন দেশি প্রকৌশলীকে জার্মানি অথবা উন্নত কোনো দেশে প্রশিক্ষণ দিলে ৫০ কোটি টাকা খরচ হবে না। পাশাপাশি দেশীয় প্রকৌশলী রেলখাতে দীর্ঘদিন সেবা দেওয়ার পাশাপাশি তারাও উন্নত জনবল তৈরি করতে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুন
জনবল সংকটে বিপর্যস্ত পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে, বন্ধ ৪৩ ট্রেন-৬৭ স্টেশন
রেলের ৮০ শতাংশ আন্তঃনগর ট্রেনের পুরোনো রেক পরিবর্তন করা হয়েছে
রেলের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ‘ভূতুড়ে নগরী’ হয়ে উঠেছে লালমনিরহাট

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যুগ্মপ্রধান (রেল পরিবহন উইং) মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘একটি প্রস্তাবিত প্রকল্পে দুই প্রকৌশলীর জন্য ৫০ কোটি টাকা ব্যয় চাওয়া হয়েছে, এটা অনেক ব্যয়, এটা আমাদের পর্যবেক্ষণে আছে। এতদিন এটা চলে আসছে। এটা আমরা ধরেছি। তবে রেলের মেইনটেন্যান্স করার লোক নেই।’

তিনি বলেন, ‘দরকার হয় বিদেশে ট্রেনিং দিয়ে রেল মেরামতের প্রকৌশলী তৈরি করতে হবে। আমি ২০ জনকে ২০ দিন জার্মানিতে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করলে এত টাকা খরচ হবে না। এতে করে দেশীয় প্রকৌশলী আমাদের অ্যাসেট হবে। এই অ্যাসেট ৩০ বছর দেশকে সাপোর্ট দেবে। এরাই আবার আমাদের অন্যদের শেখাবো।’

আমরা দুজন প্রকৌশলীর ব্যয় ৫০ কোটি টাকা ধরেছি। তবে এটা চাওয়া হয়েছে, রাখার দায়িত্ব পরিকল্পনা কমিশনের। পরিকল্পনা কমিশন যেভাবে বলবে আমরাও সেভাবে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রস্তুত করবো। এটা নিয়ে সামনে সভা হবে, সেই সভায় সবকিছু বিস্তারিত আলোচনা হবে।- মো. বোরহান উদ্দিন, যুগ্ম মহাপরিচালক (লোকোমেটিভ), বাংলাদেশ রেলওয়

মোহাম্মদ আশরাফুল আরও বলেন, ‘দরকার হয় ট্রেনিং খাতে বরাদ্দ রাখবো, কিন্তু দুই বিদেশি প্রকৌশলীর জন্য ৫০ কোটি বরাদ্দ রাখবো না। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লোকোমোটিভের বিষয়ে নলেজ শেয়ার করা যাবে। আলাদা ৫০ কোটি টাকা রাখতে দেবো না।’

প্রকল্পের অন্য খাতের ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি আইটেম নিয়ে কথা বলবো। একটি টাকাও বাড়তি ব্যয় করতে দেবো না।’

রেলওয়ে জানায়, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ’ প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ২ হাজার ৮২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) ঋণ দেবে ১ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বাকি ৮২৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা সরকারি খাত থেকে মেটানো হবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৯ নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের নানা খাতে বাড়তি ব্যয় চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পে টেস্টিং ফি বাবদ ৭৫ লাখ, ট্রান্সপোর্ট চার্জ বাবদ ৭৫ লাখ, ব্যাংক চার্জ (৩%) বাবদ ৫৫ কোটি ৬ লাখ ৫৩ হাজার, পোর্ট চার্জ বাবদ ১ কোটি ৫০ লাখ, ভ্রমণ ব্যয় ২০ লাখ ও সার্ভে বাবদ ৭৫ লাখ টাকার ব্যয় প্রস্তাবের যৌক্তিক ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিশন। এছাড়া স্থানীয় প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয় যৌক্তিকভাবে পুনর্নির্ধারণ করতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। এছাড়া প্রতিটি প্রশিক্ষণের নাম, মেয়াদকাল, সংখ্যা ও ব্যয় প্রাক্কলন উল্লেখসহ প্রশিক্ষণের মোট ব্যয় প্রাক্কলন করতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

আরও পড়ুন
ঢাকায় দূষণরোধে ৪৫২৮ কোটি টাকা ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক
ভেঙে গেছে রেলক্রসিংয়ের ব্যারিয়ার, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার
কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের ব্যয় বাড়লো

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,  প্রতিটি লোকোমোটিভের ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬৮ কোটি ১৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা (সিডি-ভ্যাটসহ)। প্রস্তাবিত ব্যয় প্রাক্কলনের ভিত্তি এবং অন্য প্রকল্পের আওতায় কেনা লোকোমোটিভের ব্যয় প্রাক্কলনের সঙ্গে প্রস্তাবিত ব্যয়ের তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করতে হবে বলে জানায় কমিশন।

এছাড়া ব্যয় প্রাক্কলনের ভিত্তি ডিপিপিতে সংযুক্ত করতে বলেছে কমিশন। প্রকল্প সমাপ্তির পরবর্তী ৫ বছরের জন্য স্পেয়ার পার্টস বাবদ ৪৬৯ কোটি ৫৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকার থোক রাখা হয়েছে। এ ব্যয় প্রস্তাবের যৌক্তিকতা জানতে চেয়েছে কমিশন। স্পেয়ার পার্টসের ব্যয় প্রাক্কলনের ভিত্তি, নির্ভরযোগ্য বাজার দর, ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির প্রকাশিত দর, অন্যান্য প্রকল্পের তুলনামূলক দরের আলোকে প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী স্পেয়ার পার্টসের নাম, সংখ্যা, পরিমাণ ও একক দর উল্লেখপূর্বক ব্যয় প্রাক্কলন করতে হবে বলে সাফ জানিয়েছে কমিশন।

তবে বাংলাদেশ রেলওয়ে জানায়, রেল ইঞ্জিন মেরামতে দুই বিদেশি প্রকৌশলীর জন্য ৫০ কোটি টাকা ব্যয় চাওয়া হয়েছে, এটাই শেষ কথা নয়। আগামী পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভায় যে সিদ্ধান্ত হবে এটাই মেনে নেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (লোকোমেটিভ) মো. বোরহান উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা দুজন প্রকৌশলীর ব্যয় ৫০ কোটি টাকা ধরেছি। তবে এটা চাওয়া হয়েছে, রাখার দায়িত্ব পরিকল্পনা কমিশনের। পরিকল্পনা কমিশন যেভাবে বলবে আমরাও সেভাবে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রস্তুত করবো। এটা নিয়ে সামনে সভা হবে, সেই সভায় সবকিছু বিস্তারিত আলোচনা হবে।’

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য পুরোনো ও জরাজীর্ণ লোকোমোটিভসমূহ প্রতিস্থাপনের জন্য নতুন ৩০টি মিটার গেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ এবং প্রয়োজনীয় মূলধনি যন্ত্রাংশ এবং সরঞ্জাম সংগ্রহ; প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি অর্জন বা জ্ঞান স্থানান্তর; ট্রেন পরিষেবার জন্য আধুনিক, নিরাপদ এবং উন্নত মানের লোকোমোটিভ সরবরাহ; যাত্রী সাধারণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে নতুন ট্রেন পরিচালনা; বাংলাদেশ রেলওয়ের মিটারগেজ লোকোমোটিভের প্রাপ্যতা বৃদ্ধিকরণ; যাত্রীদের জন্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, উন্নত ট্রেন পরিষেবা নিশ্চিতকরণ এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহন উভয় ক্ষেত্রে বর্ধিত ট্রাফিক চাহিদা পূরণ।

নানা কারণে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানায় বাংলাদেশ রেলওয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে রেল পরিবহন পরিষেবা দেওয়া একমাত্র সংস্থা হলো বাংলাদেশ রেলওয়ে, যা রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি পূর্ণ সরকারি সংস্থা। বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যে কোনো দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার ক্রমাগত উন্নতির জন্য রেলখাতের উন্নয়ন প্রয়োজন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান লোকোমোটিভের সংখ্যা ২৯৬টি। এর মধ্যে ১৬৮টি মিটার গেজ এবং ১২৮টি ব্রড গেজ। মেকানিক্যাল কোড এবং ডিজাইন স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী একটি লোকোমোটিভের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর। কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়ের ১১৮টি (৭০%) মিটার গেজ লোকোমোটিভের আয়ু এরই মধ্যে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এছাড়া ৬৩টি (৩৮%) মিটার গেজ লোকোমোটিভের বয়স ৪০ বছর পেরিয়েছে।

এই পুরোনো লোকোমোটিভগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়বহুল এবং নির্ভরযোগ্যতাও মুখ কম। বাংলাদেশ রেলওয়ের মিটার গেজ সেকশনে সুষ্ঠু ট্রেন পরিচালনা বৃদ্ধি এবং দ্রুত বর্ধনশীল মালবাহী ও আন্তঃনগর যাত্রীবাহী ট্রাফিকের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ৩০টি মিটার গেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে লোকোমোটিভ বহরের স্বল্পতার কারণে ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

আরও পড়ুন
জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে পরামর্শক খাতেই ৩২২ কোটি টাকা আবদার
৮ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ৩০%, টাকার অঙ্কে পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন
মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনে খুঁড়িয়ে চলছে লালমনিরহাট রেলসেবা

বাংলাদেশ রেলওয়ে আরও জানায়, লোকোমোটিভের পারফরম্যান্স বিবেচনায় ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভগুলো ৩০ বছর পরিষেবা দেওয়ার পর প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। এই বিবেচনায় ৩০ বছরের বেশি আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ এমন ৭৯টি এমজি লোকোমোটিভ (মোট এমজি লোকোমোটিভের ৪৮ শতাংশ) অবিলম্বে প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন।

এসব লোকোমোটিভের খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহও বেশ কঠিন এবং প্রায়শই খুব ব্যয়বহুল। এছাড়া পুরোনো ও জরাজীর্ণ লোকোমোটিভগুলোর জ্বালানি খরচ অনেক বেশি এবং এদের নির্ভরযোগ্যতা ও প্রাপ্যতা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। সার্বিক বিবেচনায়, মিটারগেজ ট্রেনসমূহ সময়ানুবর্তিতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার জন্য আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ এমজি লোকোমোটিভগুলোর অবিলম্বে প্রতিস্থাপন অপরিহার্য, অন্যথায় লোকোমোটিভের অভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে।

দরকার হয় ট্রেনিং খাতে বরাদ্দ রাখবো, কিন্তু দুই বিদেশি প্রকৌশলীর জন্য ৫০ কোটি বরাদ্দ রাখবো না। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লোকোমোটিভের বিষয়ে নলেজ শেয়ার করা যাবে। আলাদা ৫০ কোটি টাকা রাখতে দেবো না।- মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যুগ্মপ্রধান (রেল পরিবহন উইং), পরিকল্পনা কমিশন

বর্তমানে সরকারি খাতে বাজেটের সীমাবদ্ধতা এবং অপর্যাপ্ত বৈদেশিক সাহায্য/ঋণের কারণে পুরোনো লোকোমোটিভগুলো প্রতিস্থাপন করা কষ্টসাধ্য। বাংলাদেশ রেলওয়ে গত ৫ বছরে এ পর্যন্ত ৩০টি মিটার গেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ করেছে (এডিবির ঋণের বিপরীতে ১০টি এবং ইডিসিএফ, কোরিয়ার ঋণের বিপরীতে ২০টি)। এছাড়া এর আগে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে মিটার গেজ লাইনকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর করার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সমগ্র বাংলাদেশ রেলওয়েকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর বিলম্বিত হওয়ায় প্রতীয়মান হয় যে, ২০৫৫-৬০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়েকে মিটার গেজ ট্রেন পরিচালনা করতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে মিটার গেজ সেকশন বিশেষত বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে মিটার গেজ ট্রেনসমূহ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ৩০টি মিটার গেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ জরুরি।

প্রকল্পের প্রধান প্রধান কার্যক্রম

প্রকল্পের প্রধান প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটার গেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ; চুক্তি ব্যবস্থাপনার জন্য পরামর্শ পরিষেবা সংগ্রহ যথা- ড্রয়িং ও ডিজাইন যাচাইকরণ তত্ত্বাবধান, প্রটোটাইপ চূড়ান্তকরণ ও অনাপত্তি সনদ দেওয়া, উৎপাদন/প্রস্তুতকরণ তত্ত্বাবধান, কমিশনিং, নতুন লোকোমোটিভের টেস্টিং ও ট্রায়াল; লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ; দেশীয় ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি।

এমওএস/ইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow