ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজায় মানুষের ঢল
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজাকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরী পরিণত হয় শোকাবহ জনসমুদ্রে। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদকে শেষ বিদায় জানাতে সকাল থেকেই নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেলা সোয়া ১১টায় জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল ১০টা থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। জানাজায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স মাঠ ত্যাগ করার মুহূর্তেই পুরো পরিবেশ স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। হাজারো নেতাকর্মী ও অনুসারী ‘বীর চট্টলার মোশাররফ ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজাকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরী পরিণত হয় শোকাবহ জনসমুদ্রে। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদকে শেষ বিদায় জানাতে সকাল থেকেই নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে।
বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেলা সোয়া ১১টায় জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল ১০টা থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। জানাজায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
জানাজা শেষে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স মাঠ ত্যাগ করার মুহূর্তেই পুরো পরিবেশ স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। হাজারো নেতাকর্মী ও অনুসারী ‘বীর চট্টলার মোশাররফ ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তারা অ্যাম্বুলেন্স অনুসরণ করে মাঠ থেকে বের হয়ে আসেন এবং মরদেহবাহী গাড়িটি মীরসরাইয়ের ধুম গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়।
চট্টগ্রামজুড়ে জানাজাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন ছিল পুরো এলাকায়। নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেই জানাজার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি প্রার্থী একে এম ফজলুল হক। এছাড়া চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের সভাপতি ও দৈনিক আজাদী পত্রিকার পরিচালক সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন বৃহত্তর চট্টগ্রামের একজন বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি চট্টগ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। চট্টগ্রামবাসী তাকে দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবে এবং মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন জান্নাতবাসী হন।’
সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তান আমল থেকে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্মৃতি রয়েছে। তিনি চট্টগ্রামের উন্নয়নে বহু উদ্যোগ নিয়েছেন এবং মানুষের কথা শুনতেন। চট্টগ্রামের ইতিহাসে তিনি একটি অবিস্মরণীয় নাম হয়ে থাকবেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম কাতারের নেতা হিসেবে তিনি যুদ্ধকালীন সময়ে অনুপ্রেরণা, নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। উন্নয়ন পরিকল্পনায় তার দক্ষতা ছিল অসাধারণ এবং মানুষের কল্যাণে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন। আজকের এই বিশাল জানাজাই প্রমাণ করে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ছিলেন।’
মুক্তিযুদ্ধকালীন সহচররা বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক এবং যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি সংগঠিত নেতৃত্বের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা জানান, তিনি শুধু সংগঠকই নন, বরং সহযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন।’
ইদ্রিস নামের এক সহযোদ্ধা বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন যুদ্ধের সময় তরুণদের সাহস জুগিয়েছেন এবং তাদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেম মুক্তিযুদ্ধের কঠিন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়িয়েছে। তার অবদান জাতি কখনও ভুলবে না এবং তিনি স্বাধীনতার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে থাকবেন।’
জানাজায় অংশ নিয়ে মরহুমের ছেলে সাবেদুর রহমান সৌমু বলেন, ‘দীর্ঘ অসুস্থতা ও কারাবন্দি অবস্থার পর আমার বাবা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জীবনে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে সবাই যেন ক্ষমা করে দেন— এই অনুরোধ করছি। জানাজার সার্বিক আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করায় আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ।’
১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। লাহোরে অধ্যয়নকালে ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং ছাত্র পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
তিনি ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং আমৃত্যু আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ মেয়াদে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং ২০১৪ থেকে ২০১৯ মেয়াদে একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর ২৭ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন সক্রিয় এই নেতার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শেষ বিদায়ের এই মুহূর্তে চট্টগ্রাম যেন বিদায় জানালো তার এক প্রবীণ রাজনৈতিক অভিভাবককে।
What's Your Reaction?