ইতালি ও এসি মিলান কিংবদন্তী কে এই ফ্রাঙ্কো বারেসি?
ইতালিয়ান ফুটবল এবং এসি মিলানের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার ও সাবেক অধিনায়ক ফ্রাঙ্কো বারেসি আর নেই। ৬৬ বছর বয়সে শুক্রবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এক বিবৃতিতে বারেসির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে এসি মিলান। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানায়নি ক্লাবটি। বারেসির মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইতালিয়ান ফুটবলজুড়ে। ক্লাবটির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, ‘ফ্রাঙ্কো বারেসির মৃত্যুতে এসি মিলানের পুরো ইতিহাস আজ শোকে স্তব্ধ। তার সততা, নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিত্ব চিরকাল এই ক্লাবের ডিএনএর অংশ হয়ে থাকবে। যেমন থাকবে তার কিংবদন্তি ৬ নম্বর জার্সি।’ কে এই ফ্রাঙ্কো বারেসি? ফ্রাঙ্কো বারেসি পুরো ২০ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ার কাটিয়েছেন এসি মিলানেই। ১৯৭৭ সালে সিনিয়র দলে অভিষেকের পর ১৯৯৭ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত আর কখনও অন্য কোনো ক্লাবে যাননি। এই সময়ে তিনি মিলানের হয়ে ৭০০-এর বেশি ম্যাচ খেলেছেন। জিতেছেন ছয়টি সিরি ‘আ’ শিরোপা এবং তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ (বর্তমান উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ)। টানা ১৫ মৌসুম ক্লাবটির অধিনায়ক ছিলেন তিনি। আরও পড়ুন মারা গেছেন ইতালির কিংবদন্তি ফুটবলার ‘ডি
ইতালিয়ান ফুটবল এবং এসি মিলানের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার ও সাবেক অধিনায়ক ফ্রাঙ্কো বারেসি আর নেই। ৬৬ বছর বয়সে শুক্রবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এক বিবৃতিতে বারেসির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে এসি মিলান। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানায়নি ক্লাবটি।
বারেসির মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইতালিয়ান ফুটবলজুড়ে। ক্লাবটির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, ‘ফ্রাঙ্কো বারেসির মৃত্যুতে এসি মিলানের পুরো ইতিহাস আজ শোকে স্তব্ধ। তার সততা, নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিত্ব চিরকাল এই ক্লাবের ডিএনএর অংশ হয়ে থাকবে। যেমন থাকবে তার কিংবদন্তি ৬ নম্বর জার্সি।’
কে এই ফ্রাঙ্কো বারেসি?
ফ্রাঙ্কো বারেসি পুরো ২০ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ার কাটিয়েছেন এসি মিলানেই। ১৯৭৭ সালে সিনিয়র দলে অভিষেকের পর ১৯৯৭ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত আর কখনও অন্য কোনো ক্লাবে যাননি।
এই সময়ে তিনি মিলানের হয়ে ৭০০-এর বেশি ম্যাচ খেলেছেন। জিতেছেন ছয়টি সিরি ‘আ’ শিরোপা এবং তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ (বর্তমান উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ)। টানা ১৫ মৌসুম ক্লাবটির অধিনায়ক ছিলেন তিনি।
তার অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অবসরের পর ক্লাবটি স্থায়ীভাবে তুলে রাখে তার বিখ্যাত ৬ নম্বর জার্সি। এসি মিলানের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ফুটবলার, যার জার্সি অবসরে পাঠানো হয়।
ফ্রাঙ্কো বারেসির আনুগত্য ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ। ১৯৮২ সালে এসি মিলান তিন মৌসুমের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সিরি ‘বি’-তে অবনমিত হলেও তিনি ক্লাব ছাড়েননি। বরং কঠিন সময়ে দলের পাশে দাঁড়িয়ে যান।
একই বছর মাত্র ২২ বছর বয়সে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। এরপর তার নেতৃত্বেই মিলান ইতালি ও ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী ক্লাবে পরিণত হয়।
ইতালির বিশ্বকাপজয়ী তারকা
ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি জাতীয় দলেও উজ্জ্বল ছিলেন বারেসি। ইতালির হয়ে ৮১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ১৯৮২ সালে বিশ্বকাপজয়ী ইতালি দলের সদস্য ছিলেন। পরে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে হাঁটুর অস্ত্রোপচারের মাত্র ২৫ দিন পর মাঠে নেমে পুরো ১২০ মিনিট খেলেছিলেন বারেসি। যদিও টাইব্রেকারে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় ইতালির।
পাওলো মালদিনি, আলেসান্দ্রো কস্তাকুর্তা এবং মাউরো তাসোত্তির সঙ্গে মিলে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা রক্ষণভাগ গড়ে তুলেছিলেন বারেসি। ফ্যাবিও ক্যাপেলোর অধীনে তাদের নিখুঁত অফসাইড ট্র্যাপ এবং সংগঠিত ডিফেন্স প্রতিপক্ষের জন্য ছিল দুঃস্বপ্ন। সেই দলই সিরি ‘আ’-তে টানা ৫৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার অনন্য রেকর্ড গড়ে এবং ‘গ্লি ইনভিনচিবিলি’ (অপরাজেয়) নামে পরিচিতি পায়।
ফ্রাঙ্কো বারেসি শুধু একজন ডিফেন্ডার ছিলেন না, ছিলেন নেতৃত্ব, আনুগত্য এবং আত্মনিবেদনের প্রতীক। এক ক্লাবেই পুরো ক্যারিয়ার কাটিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এসি মিলানের পরিচয়ের অংশ।
তার মৃত্যুতে ফুটবল বিশ্ব হারাল এমন একজন কিংবদন্তিকে, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ডিফেন্ডারদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন। যদিও তিনি আর নেই, তবু এসি মিলানের ৬ নম্বর জার্সি এবং ফুটবল ইতিহাসে তার অবদান চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?
