ইতালি ভিসা কেলেঙ্কারি: দুই বাংলাদেশি দালালের কারাদণ্ড
ইতালির বহুল আলোচিত কাজের ভিসা জালিয়াতি কেলেঙ্কারিতে দুই বাংলাদেশি দালাল আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। রায়ে নজরুল ইসলামকে ৪ বছর ৮ মাস এবং কাজি শামিমকে ৪ বছর ২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা দোষ স্বীকার করায় দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় সাজা নিশ্চিত হয়। তদন্তে উঠে এসেছে একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চক্রের ভয়ংকর দুর্নীতির চিত্র। ইতালিতে কাজের ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত আদায় করা হতো। ‘নুল্লা ওস্তা’ (Nulla Osta) সংগ্রহের জন্য ইতালীয় কিছু অসাধু নিয়োগকর্তা ৪–৫ হাজার ইউরো নিতেন। ফাইল দ্রুত ছাড়ানোর জন্য প্রিফেকচার বা পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রায় ৩০০ ইউরো পর্যন্ত ঘুষ দেওয়ার তথ্যও তদন্তে উঠে আসে। শুধু নগদ অর্থ নয়-দামি ঘড়ি, টেলিভিশন, গাড়ি এমনকি দুবাই ভ্রমণের মতো বিলাসবহুল সুবিধাও ঘুষ হিসেবে দেওয়া হত বলে অভিযোগ রয়েছে। দূতাবাসে ঘুষের অভিযোগ নজরুল ইসলামের জবানবন্দিতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ২০২২ সালে ঢাকাস্থ ইতালীয় দূতাবাস-এর কর্মী নিকোলা মুসকাতেল্লোর জন্য ১০ হাজার ইউরো নগদ ঘুষ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। ৪০টি ভিসা অনুমোদনের জন্য মোট ৩০ হাজার ইউরো চুক্তির কথাও
ইতালির বহুল আলোচিত কাজের ভিসা জালিয়াতি কেলেঙ্কারিতে দুই বাংলাদেশি দালাল আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। রায়ে নজরুল ইসলামকে ৪ বছর ৮ মাস এবং কাজি শামিমকে ৪ বছর ২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা দোষ স্বীকার করায় দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় সাজা নিশ্চিত হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চক্রের ভয়ংকর দুর্নীতির চিত্র। ইতালিতে কাজের ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত আদায় করা হতো। ‘নুল্লা ওস্তা’ (Nulla Osta) সংগ্রহের জন্য ইতালীয় কিছু অসাধু নিয়োগকর্তা ৪–৫ হাজার ইউরো নিতেন। ফাইল দ্রুত ছাড়ানোর জন্য প্রিফেকচার বা পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রায় ৩০০ ইউরো পর্যন্ত ঘুষ দেওয়ার তথ্যও তদন্তে উঠে আসে।
শুধু নগদ অর্থ নয়-দামি ঘড়ি, টেলিভিশন, গাড়ি এমনকি দুবাই ভ্রমণের মতো বিলাসবহুল সুবিধাও ঘুষ হিসেবে দেওয়া হত বলে অভিযোগ রয়েছে।
দূতাবাসে ঘুষের অভিযোগ
নজরুল ইসলামের জবানবন্দিতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ২০২২ সালে ঢাকাস্থ ইতালীয় দূতাবাস-এর কর্মী নিকোলা মুসকাতেল্লোর জন্য ১০ হাজার ইউরো নগদ ঘুষ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। ৪০টি ভিসা অনুমোদনের জন্য মোট ৩০ হাজার ইউরো চুক্তির কথাও আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দূতাবাসের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সংসদ সদস্যকে ঘুষের চেষ্টা, তদন্তের সূত্রপাত
ইতালির সংসদ সদস্য আন্দ্রেয়া দি জুসেপ্পে-কে প্রায় ২০ লাখ ইউরো ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই শুরু হয় ব্যাপক তদন্ত, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ভিসা জালিয়াতি চক্রকে প্রকাশ্যে আনে।
তদন্ত অব্যাহত
আদালতে দোষ স্বীকারের পর নজরুল ইসলাম ও কাজি শামিমের সাজা ঘোষণা করা হলেও সংশ্লিষ্ট ইতালীয় কর্মকর্তা ও অসাধু মালিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও চলমান। ইতালির বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে মামলাটি দেখা হচ্ছে।
প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা
এই কেলেঙ্কারিতে ইতালিতে কাজের ভিসা পাওয়ার আশায় হাজারো প্রবাসী বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়েছেন। আন্তর্জাতিক দালাল চক্র, অসাধু নিয়োগকর্তা ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের যোগসাজশের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে ইতালির ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আরও কড়াকড়ি আরোপ হতে পারে। প্রবাসপ্রত্যাশীদের অবৈধ দালাল ও প্রতারণার ফাঁদে না পড়তে এটি একটি সতর্কবার্তা। দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ভিসা নেওয়া আইনি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সবসময় সরকারি ও বৈধ পদ্ধতিতে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়।
What's Your Reaction?