ইমরান খান ছাড়াও যাদের ভিন্নমত দমন করছে পাক বাহিনী

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কোনো দর্শনার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারছেন না—এমন অভিযোগ করেছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ইমরান খানের পরিবারের দাবি, বিশ্বের কাছে তার বার্তা পৌঁছানো বন্ধ করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসির। ইমরান খানের পরিবারের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতির জন্য পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে দায়ী করা হয়েছে। তবে পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের ভাষ্য, কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী রাজনীতি নিয়ে আলোচনা নিষিদ্ধ, আর সেই নিয়ম ভঙ্গ করায় ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান খান একা নন—পাকিস্তানে বর্তমানে আরও অনেকেই চাপের মুখে রয়েছেন। দেশটির সাংবাদিক, বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, রাষ্ট্রের সমালোচনা বা ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে এবং এতে ঝুঁকিও বাড়ছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি ও তার স্বামীকে রাষ্ট্রবিরোধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাদের দুজনকে

ইমরান খান ছাড়াও যাদের ভিন্নমত দমন করছে পাক বাহিনী

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কোনো দর্শনার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারছেন না—এমন অভিযোগ করেছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ইমরান খানের পরিবারের দাবি, বিশ্বের কাছে তার বার্তা পৌঁছানো বন্ধ করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসির।

ইমরান খানের পরিবারের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতির জন্য পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে দায়ী করা হয়েছে। তবে পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের ভাষ্য, কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী রাজনীতি নিয়ে আলোচনা নিষিদ্ধ, আর সেই নিয়ম ভঙ্গ করায় ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান খান একা নন—পাকিস্তানে বর্তমানে আরও অনেকেই চাপের মুখে রয়েছেন। দেশটির সাংবাদিক, বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, রাষ্ট্রের সমালোচনা বা ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে এবং এতে ঝুঁকিও বাড়ছে।

গত সপ্তাহের শেষ দিকে মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি ও তার স্বামীকে রাষ্ট্রবিরোধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাদের দুজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার আগে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তান সরকারকে ভিন্নমত দমন ও মানবাধিকারকর্মীদের ভয় দেখানোর নীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল।

এদিকে ইমরান খানের পরিবারের অভিযোগ, এটি মূলত সাধারণ মানুষের মন থেকে তাকে মুছে ফেলার প্রচেষ্টা। ইমরান খানের বোন আলেইমা খানম বিবিসিকে বলেন, “টেলিভিশনে দুটি নাম থাকতে পারে না—ইমরান খান সম্পর্কে ভালো কিছু বলা যাবে না, আর আসিম মুনির সম্পর্কে খারাপ কিছু বলা যাবে না।”

সম্প্রতি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে সমর্থকদের এক বিক্ষোভে এসব কথা বলেন তিনি। পিটিআই জানায়, পরিবারের একজন সদস্যের সঙ্গে ইমরান খানের শেষ সাক্ষাতের পর আট সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হয়েছে। এছাড়া একজন আইনজীবীর সঙ্গে তার শেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি আগে, সেটিও মাত্র আট মিনিটের জন্য।

আলেইমা খানম বলেন, ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করাই এখন তাদের একমাত্র পথ। তিনি আরও বলেন, আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা ইমরান খানের মৌলিক অধিকার এবং বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম।

কারাগারে থাকার সময় ইমরান খানের দেওয়া বার্তাগুলো প্রায়ই পাকিস্তান সরকার ও সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনামূলক ছিল। এসব বৈঠকের পর তার বক্তব্য মাঝেমধ্যে তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হতো, যা তার নামেই প্রকাশিত হতো এবং সেখান থেকে দল ও সমর্থকরা দিকনির্দেশনা পেত।

খানম বলেন, তারা তার কণ্ঠস্বর আটকাতে পারছে না কারণ মানুষ তাকে শুনতে চায়, তারা তার বার্তা পড়ে, তারা তাকে ছেড়ে দিচ্ছে না। কিন্তু আপাতত, বৈঠক বন্ধ থাকায়, সেই বার্তাগুলোও এখন বন্ধ হয়ে গেছে।

২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে কারাবন্দি ইমরান খান বেশ কয়েকটি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, যেগুলো রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

যদিও ইমরান খানকে আইসোলেশনে রাখার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী। তাকে জিমের সরঞ্জাম এবং একজন রাঁধুনিসহ 'পাকিস্তানের সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত বন্দি' বলে অভিহিত করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তালাল চৌধুরী।

ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে 'মানসিকভাবে অস্থির ব্যক্তি' বলে অভিহিত করে ইমরান খানের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট প্রকাশিত হওয়ার পর, সামরিক মুখপাত্র পাকিস্তানের গণমাধ্যমে দুই ঘণ্টার একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। 

যেখানে তিনি বলেন যে, রাজনীতির বাইরে গিয়ে ইমরান খান তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 

অনেকে যুক্তি দিতে পারেন যে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সত্যিই বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্ব দিচ্ছে যা দেশটিকে একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের বেশ কাছাকাছি নিয়ে এসেছে, কিন্তু এটি বেসামরিক শাসন চলাকালে  সবচেয়ে ভয়াবহ দমন-পীড়ন, বলেন আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান।  

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, যাকে প্রায়শই একটি 'প্রতিষ্ঠান'ও বলা হয়, দেশের রাজনীতিতে একটি চিরস্থায়ী উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে সামরিক একনায়কতন্ত্রের একটি পর্বও রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে, ইমরান খান এবং সেনাবাহিনী ঘনিষ্ঠ বলে মনে হয়েছিল; অনেকে এও বিশ্বাস করেন যে সেনাবাহিনীর সমর্থন ইমরান খানকে ক্ষমতায় আনতে সাহায্য করেছিল। সেই সময় বিরোধীরা সেনাবাহিনীর প্রতি আকৃষ্ট থাকার অভিযোগও তুলেছিল তার বিরুদ্ধে। যদিও তা অস্বীকার করেছিল ইমরান খানের দল।

২০২২ সালে যখন ইমরান খানকে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়, তখন তিনি কেবল সামরিক নেতৃত্বের সাথেই বিরোধিতা করেননি, বরং ক্ষমতা থেকে অপসারণের জন্য তাদেরকেই দায়ী করেছিলেন।

২০২৫ সালের নভেম্বরে, একটি সাংবিধানিক সংশোধনী মুনিরকে পাকিস্তানের সমস্ত প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিচার এবং তত্ত্বাবধান থেকে আজীবন দায়মুক্তি দেয়।

এই সিদ্ধান্তটিকে, বেসামরিক সরকারের অধীনে পাকিস্তানের উপর সামরিক বাহিনীর প্রভাব চরম পর্যায়ে পৌঁছেনোর নজির হিসেবেই দেখেছিলেন অনেকে। বর্তমান সরকার অবশ্য অস্বীকার করে যে সেনাবাহিনীই এর জন্য দায়ী।

নিরাপত্তা সূত্রগুলোও জানিয়েছে, সেনাবাহিনী সবসময় আইনি সীমার মধ্যে থেকেই কাজ করছে। কিন্তু রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা এবং কথা বলার সুযোগের মধ্যে একটি সংযোগ দেখেন মাইকেল কুগেলম্যান এবং অন্যরা।

এটি একটি গণতান্ত্রিক সরকার কতটা শক্তিশালী বা দুর্বল এবং সেনাবাহিনীর সাথে তাদের সম্পর্ক কেমন তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, বলেছেন সাংবাদিক এবং পাকিস্তানের মানবাধিকার কাউন্সিলের সহ-সভাপতি মুনিজা জাহাঙ্গীর।

যদি সেনাবাহিনী বেশি প্রভাবশালী হয়, তাহলে প্রতিবাদের জায়গা কম থাকবে, ভিন্নমত পোষণের জায়গা কম থাকবে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা কম থাকবে, বলেন তিনি।

দেশটিতে এখন পর্যন্ত যাদেরকে কারাবন্দি করা হয়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত মুখ মাজারী। পাকিস্তানের সবচেয়ে সংবেদনশীল কিছু মামলায় কাজ করা একজন আইনজীবী তিনি। 

মাজারী এবং তার স্বামী হাদি আলী চাট্টাকে 'সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বার্তা প্রচারের' জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। সরকার তাদের সাজার পক্ষে সাফাই গেয়েছিল; পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যম এক্স এ পোস্ট করেছিলেন, যেমন কর্ম, তেমন ফল!

মানবাধিকার বিষয়ক অন্যান্য অধিকারকর্মীরা বিবিসিকে বলেছেন, তাদের কাজের ক্ষেত্রেও নানা ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এইচআরসিপি জানিয়েছে, তাদের কর্মীদের ফোনে হয়রানি করা হয়েছে এবং আগাম অনুমতি না নিলে হোটেলে গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করতে তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে। তবে পাক সরকার বলছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এটি করা হয়েছে।

পাকিস্তানের সাংবাদিকরাও বলছেন, তারাও চাপের শিকার হয়েছেন। ২০২৩ সালে বিবিসি জানিয়েছিল, টিভি চ্যানেলগুলোকে ইমরান খানের মুখ, তার কণ্ঠস্বর কিংবা তার নামও প্রচার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। 

বিবিসিকে সাংবাদিকরা বলেছেন, কোন বিষয়গুলো কাভার করা যাবে না তার তালিকাও এরপর থেকে আরও বেড়েছে। 

জিও টিভির রিপোর্টার আজাজ সাঈদ বলেছেন, তারা (পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ) মূলধারার গণমাধ্যমকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। 

তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীর সাথে সামান্য সম্পর্ক আছে—এমন খবরও, যেমন সম্প্রতি প্রতিরক্ষা গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ নিয়ে করা একটি প্রতিবেদন—তারপরই অজানা নম্বর থেকে ফোন এসে সতর্ক করা হয়েছে যেন আর এগোনো না হয়।

জাহাঙ্গীর বলেছেন, সম্পাদকরাও কখনো কখনো তাকে নির্দিষ্ট কিছু খবর কাভার না করতে বলেছেন।

সম্পাদকরা এটি মজা করার জন্য করছেন না। তারা মূলত মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন। কিন্তু টিকে থাকার জন্যই তারা এটি করছেন, তিনি বলেন।

অন্যান্য গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা, যারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসির সঙ্গে কথা বলেছেন, বলেছেন যে এখন নিউজরুমগুলোতে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা সেলফ-সেন্সরশিপ একটি সাধারণ চর্চায় পরিণত হয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, অতীতে এমন সময় ছিল যখন সম্পূর্ণ সেন্সরশিপ ছিল। এখন আত্মনিয়ন্ত্রণ চলছে, যা অনেক দিক থেকেই খারাপ। কারণ আমরা নিজেরাই দর্শকদের প্রতারিত করছি।

বিবিসি মন্তব্যের জন্য সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। 

নিরাপত্তা সংস্থার একাধিক সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, আইএসপিআর—সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ শাখা—"গণমাধ্যমের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করে না, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে না, বেসামরিক সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ করে না এবং তার আইনসম্মত যোগাযোগমূলক ভূমিকার বাইরে জনপরিসরের আলোচনা নিয়ন্ত্রণ করার কোনো ক্ষমতাও তাদের নেই"।

পাকিস্তানের প্রাচীনতম পত্রিকা ডন—যা ১৯৪১ সালে দেশের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর হাতে প্রতিষ্ঠিত—তার প্রতিবেদনের জন্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ডিসেম্বর মাসে ডন মিডিয়া গ্রুপ জানায়, হঠাৎ করে সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে; প্রথমে পত্রিকায়, পরে তাদের টিভি ও রেডিও মাধ্যমে। সংবাদপত্র সম্পাদকদের পরিষদ বলেছে, এ সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

দেশটির সম্পাদক পরিষদ জানায়, রাষ্ট্রের ভেতরের কেউ কেউ হয়তো মনে করেন, নিয়ম মেনে না চলা গণমাধ্যমকে শাস্তি দিলে সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বর দমে যাবে, কিন্তু আধুনিক যুগে এটি কার্যত অসম্ভব। 

পাক তথ্যমন্ত্রী আতা তারার ডনকে সরকারি বিজ্ঞাপন থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। একাধিক সাংবাদিক বলেছেন, ২০২৫ সালের শুরুতে পাকিস্তানের প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্টে আনা পরিবর্তন পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলেছে। 

পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে সেই 'ডিজিটাল সন্ত্রাসবাদ' মোকাবিলায়, যাকে সামরিক বাহিনী বহুবার উল্লেখ করেছে—অর্থাৎ রাষ্ট্রকে দুর্বল করতে 'অরাজকতা ও ভুয়া তথ্য' ছড়ানো।

নিরাপত্তা সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, দেশের সংবিধান যুক্তিসঙ্গত সীমাবদ্ধতার আওতায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত করে। 

পাকিস্তান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করে—এ দাবি ভিত্তিহীন, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তালাল চৌধুরী। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে আর্থিক জালিয়াতি ও সন্ত্রাসী নিয়োগের ঝুঁকির কথা।

আমরা সোশ্যাল মিডিয়াকে নিয়মের মধ্যে আনতে চাই, গোটা দুনিয়াই এটি করছে, বলেন তিনি। কিন্তু অন্যরা বলছেন, এসব নিয়ম সাংবাদিকদের রিপোর্টিংয়ের ক্ষমতা সীমিত করতে ব্যবহৃত হতে পারে।

আইনে পরিবর্তন এনে এখন নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করা, বিচার বিভাগের সমালোচনা করাকে স্পষ্টতই অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থের সংজ্ঞা আরও অস্পষ্ট হয়েছে। জরিমানার অঙ্ক বিস্ময়করভাবে বেশি এবং শাস্তিও অসমভাবে বাড়ানো হয়েছে, বলেন ইসলামাবাদভিত্তিক গণমাধ্যম বিশ্লেষক আদনান রেহমাত। 

তিনি বলেন, একটি হচ্ছে আনুষ্ঠানিক নিয়ম, পাশাপাশি রয়েছে আরও কিছু অলিখিত নিয়ম, সীমাটা কোথায়, তা বোঝা খুবই কঠিন—এটি সবসময় পরিবর্তিত হচ্ছে। 

পাকিস্তানে সাংবাদিকদের ওপর সীমাবদ্ধতা নতুন নয়। ইমরান খানের সরকার আমলেও সাংবাদিকরা প্রকাশনা ও সম্প্রচারের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন।

সাঈদ বর্তমান পরিস্থিতিকে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানেরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখেন। জাহাঙ্গীরও ইতিহাসের ধারাবাহিকতার কিছু অংশ দেখেন, আমি বলতে পারি না এটি সবচেয়ে খারাপ সময় ছিল। তবে এটুকু বলা যায়, আমাদের জন্য পরিস্থিতি ভালোও হয়নি।

সমালোচকদের সীমিত করা ও ভয় দেখানোর প্রচেষ্টা আগেও হয়েছে, তবে কেউ কেউ মনে করেন এবার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে।

মনে হচ্ছে কিছু একটা বদলে গেছে, বলেন আজিমা চীমা, যিনি ইসলামাবাদভিত্তিক সংঘাত, অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা নিয়ে কাজ করা এক গবেষণার পরিচালক। তিনি বলেন, 

কারণ এবার আদালতকে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠান-বহির্ভূত পন্থা নয় এটি।  পাকিস্তানের বাইরে অনলাইনে কাজ করা ব্যক্তিরাও কর্তৃপক্ষের নজরে আছেন।

জানুয়ারির শুরুতে সাতজন পাকিস্তানি সাংবাদিক ও ইউটিউবার—যাদের মধ্যে দুইজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা—তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শেষে 'ডিজিটাল সন্ত্রাসবাদ'-এর অভিযোগে যাবজ্জীবন দণ্ড পান।

২০২৩ সালের ৯ মে ইমরান খানের প্রথম গ্রেফতারের পর হওয়া বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করে অভিযোগ আনা হয় যে তারা 'রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা' ও 'উসকানি' দিয়েছেন।

এক্স-এ এক পোস্টে দণ্ডপ্রাপ্তদের একজন, আদিল রাজা, লিখেছেন, ক্ষমতাবানদের সামনে সত্য বলাকে এখন পাকিস্তানে ডিজিটাল সন্ত্রাসবাদ বলা হচ্ছে।

সাঈদ ও চীমা উভয়েই এ ঘটনাকে কঠোর শাস্তির একটি বিশেষ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ধীরে ধীরে একটি উপলব্ধি তৈরি হয়েছে যে রাষ্ট্র অত্যধিকভাবে এবং বিন্দুমাত্র দুঃখপ্রকাশ না করে কঠোর শক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত, বলেন চীমা।

এর পর সেই কঠোরতা কার ওপর নেমে আসবে—এটাই এখন অনেকে বোঝার চেষ্টা করছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow