ইয়ামাল-ধাঁধার সমাধান কী!
বিশ্বকাপের শুরুটা তার জন্য ছিল কাঁটা বিছানো পথ। কুঁচকির চোট নিয়ে মাঠে নেমেও পুরোপুরি ছন্দ খুঁজে পাননি লামিনে ইয়ামাল। স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও স্বীকার করেছিলেন যে, তার সেরা অস্ত্র তখনও ঘুমিয়ে। কিন্তু ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে সেই ঘুম ভাঙল—একটি পেনাল্টি আদায় করে দলকে এগিয়ে দিলেন, আরেকটি দুর্দান্ত গোল অফসাইডে বাতিল হলেও প্রমাণ করলেন, ক্ষুরধার হয়ে উঠছেন ঠিক সময়েই। এখন প্রশ্ন একটাই—ফাইনালের রাতে, স্পেনের এই বিস্ময়বালককে আটকানোর কোনো উপায় কি আর্জেন্টিনার হাতে আছে? উত্তরটা খুঁজতে গেলে প্রথমেই কান পাততে হবে লিওনেল মেসির কথায়। সংবাদ সম্মেলনে বার্সেলোনার এই তরুণকে নিয়ে মেসি প্রশংসায় ভাসিয়ে দিয়েছেন—নিজের প্রিয় ক্লাবেই খেলা এই ছেলেটির খেলা তিনি খুব কাছে থেকে দেখেছেন, মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তারকা, সামনে পড়ে আছে গোটা ক্যারিয়ার। কিন্তু প্রশংসার পরই এসেছে সতর্কবার্তা। মেসির ভাষায়, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন ইয়ামাল অন্তত এবার ইতিহাস গড়ার সুযোগটা না পান।’ আরেকটু স্পষ্ট করে তিনি বলেছেন, ‘আমরা ভালো একটি ম্যাচ উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব বটে, কিন্তু আশা করব
বিশ্বকাপের শুরুটা তার জন্য ছিল কাঁটা বিছানো পথ। কুঁচকির চোট নিয়ে মাঠে নেমেও পুরোপুরি ছন্দ খুঁজে পাননি লামিনে ইয়ামাল। স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও স্বীকার করেছিলেন যে, তার সেরা অস্ত্র তখনও ঘুমিয়ে। কিন্তু ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে সেই ঘুম ভাঙল—একটি পেনাল্টি আদায় করে দলকে এগিয়ে দিলেন, আরেকটি দুর্দান্ত গোল অফসাইডে বাতিল হলেও প্রমাণ করলেন, ক্ষুরধার হয়ে উঠছেন ঠিক সময়েই। এখন প্রশ্ন একটাই—ফাইনালের রাতে, স্পেনের এই বিস্ময়বালককে আটকানোর কোনো উপায় কি আর্জেন্টিনার হাতে আছে?
উত্তরটা খুঁজতে গেলে প্রথমেই কান পাততে হবে লিওনেল মেসির কথায়। সংবাদ সম্মেলনে বার্সেলোনার এই তরুণকে নিয়ে মেসি প্রশংসায় ভাসিয়ে দিয়েছেন—নিজের প্রিয় ক্লাবেই খেলা এই ছেলেটির খেলা তিনি খুব কাছে থেকে দেখেছেন, মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তারকা, সামনে পড়ে আছে গোটা ক্যারিয়ার। কিন্তু প্রশংসার পরই এসেছে সতর্কবার্তা। মেসির ভাষায়, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন ইয়ামাল অন্তত এবার ইতিহাস গড়ার সুযোগটা না পান।’ আরেকটু স্পষ্ট করে তিনি বলেছেন, ‘আমরা ভালো একটি ম্যাচ উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব বটে, কিন্তু আশা করব প্রতিপক্ষ যেন নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে না পারে। কূটনৈতিক ভদ্রতা আর মাঠের নির্মমতা—দুটোই যেন একই বাক্যে গেঁথে দিয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী।
কোচ লিওনেল স্কালোনি অবশ্য কথাটা বলেছেন খানিকটা রসিকতার ছলে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘ইয়ামাল এতটাই অসাধারণ একজন খেলোয়াড়, সুযোগ পেলে তিনি আমাকেই ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখতে চাইতেন।’ রসিকতার আড়ালে অবশ্য লুকিয়ে আছে গভীর এক উদ্বেগ—চিরায়ত কোনো ছকে বেঁধে ফেলা যায় না এই তরুণকে, তাই কৌশলও হতে হবে অপ্রচলিত। স্কালোনি একই সঙ্গে বলেছেন, ‘ছেলেটি ফুটবলের জন্য এক অমূল্য সম্পদ, এখনও বয়সে তরুণ, সামনে দেওয়ার আছে আরও অনেক কিছু।’ প্রতিপক্ষ কোচের মুখে প্রতিদ্বন্দ্বীর জন্য এমন উদারতা সচরাচর দেখা যায় না, কিন্তু আর্জেন্টিনা জানে, সম্মান দেখানো আর মাঠে ছাড় দেওয়া—এই দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
কৌতূহলের বিষয় হলো, মেসি আর ইয়ামালের সম্পর্কটা শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়। ২০০৭ সালে বার্সেলোনার এক দাতব্য আয়োজনে শিশু ইয়ামালকে গোসল করানো মেসির সেই পুরোনো ছবি সম্প্রতি আবার ভাইরাল হয়েছে। ফাইনালের ঠিক আগে নিউইয়র্কে ফিফার এক অনুষ্ঠানে মেসি নিজেই স্বীকার করেছেন, ছবিটা দেখলে এখনো অবিশ্বাস্য লাগে—জীবন কতটা বিচিত্র পথে এগোয়! প্রায় দুই দশক আগের সেই ছোট্ট শিশুই এখন দাঁড়িয়ে আছেন তার স্বপ্নভঙ্গের কারণ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে।
তাহলে কি রুখে দেওয়া যাবে ইয়ামালকে? পরিসংখ্যান বলছে, স্পেনের রক্ষণ এই বিশ্বকাপে এখনো মাত্র একটি গোল হজম করেছে—আক্রমণেও তারা কম বিপজ্জনক নয়। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়-কোচের কথায় স্পষ্ট, তারা কোনো একক পরিকল্পনায় ভরসা রাখছে না; বরং সম্মান আর সতর্কতার মিশেলে গড়া এক সমষ্টিগত প্রাচীর দিয়েই থামাতে চাইছে এই তরুণ ঝড়কে। শেষ পর্যন্ত মাঠের নব্বই মিনিটই বলে দেবে, অভিজ্ঞতার প্রাচীর আটকাতে পারে কি না প্রতিভার এই উদ্দাম স্রোতকে।
মেসি এই আসরে গোল করছেন, সতীর্থদের দিয়ে করাচ্ছেন। পরিসংখ্যানকে মানদণ্ড বানিয়ে ইয়ামালকে মাপতে গেলে অবশ্য প্রকৃত চিত্রটা পাওয়া যাবে না। কারণ পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে এই তারকা দলের অন্যতম শক্তির উৎস। তিনি সেটা পরিষ্কার করেছেন ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে। কখনো রক্ষণে নেমে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে কড়া ট্যাকল করে, কখনো মাঝমাঠে নেমে খেলা তৈরি করে। কখনো আক্রমণভাগের কেন্দ্রে থেকে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে। সেই ইয়ামাল আর্জেন্টিনার রক্ষণের জন্য বড় হুমকি। এই হুমকি মোকাবিলায় নিওলেন স্কালোনি নিশ্চয় কোনো ফাঁদ পাতবেন। এখান দেখার বিষয়, সেই ফাঁদ দিয়ে দুরন্ত ড্রিবলিং, রক্ষণচেরা পাস এবং দুরূহ কোণ থেকে ভয়ংকর শট নেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এই উইঙ্গারকে আদৌ আটকানো যায় কি না! ফাইনালের মঞ্চে তাই লড়াইটা শুধু স্পেন-আর্জেন্টিনার নয়, অভিজ্ঞতা আর দুর্বার প্রতিভারও। স্কালোনির পরিকল্পনা সফল হবে, নাকি ইয়ামালই লিখবেন নতুন ইতিহাস—উত্তর মিলবে শেষ বাঁশি বাজলেই।
What's Your Reaction?