ইরান যুদ্ধের ৬০ দিন: মার্কিন কংগ্রেসের ঘুম কি ভাঙবে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ যখন ৬০ দিনে পৌঁছাচ্ছে, ঠিক তখন মার্কিন কংগ্রেসের সামনে হাজির যুগান্তকারী এক মুহূর্ত। তারা কি যুদ্ধ নিয়ে এবার মতামত দেবে, নাকি আগের মতোই নীরবই থাকবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। আইনি মারপ্যাঁচে যুদ্ধ মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতার সীমা রয়েছে। ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, কোনো প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান চালাতে পারেন না। এর পর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রয়োজন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর দুদিন পর ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসকে জানিয়েছিল। সেই হিসাবে আগামী ১ মে সেই ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। আরও পড়ুন>>‘বাড়াবো না’ বলেও ট্রাম্প কেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন?ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পরও ‘চুপ’ কেন ইরান?যুক্তরাষ্ট্রকে কি বিশ্বাস করা যায়? ইতিহাস কী বলে তবে অতীতে দেখা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টরা প্রায়ই এই সীমা অতিক্রম করেছেন এবং কংগ্রেসও অনেক ক্ষেত্রে তা উপেক্ষা করেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এবারও একই পরিস্

ইরান যুদ্ধের ৬০ দিন: মার্কিন কংগ্রেসের ঘুম কি ভাঙবে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ যখন ৬০ দিনে পৌঁছাচ্ছে, ঠিক তখন মার্কিন কংগ্রেসের সামনে হাজির যুগান্তকারী এক মুহূর্ত। তারা কি যুদ্ধ নিয়ে এবার মতামত দেবে, নাকি আগের মতোই নীরবই থাকবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

আইনি মারপ্যাঁচে যুদ্ধ

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতার সীমা রয়েছে। ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, কোনো প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান চালাতে পারেন না। এর পর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রয়োজন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর দুদিন পর ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসকে জানিয়েছিল। সেই হিসাবে আগামী ১ মে সেই ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে।

আরও পড়ুন>>
‘বাড়াবো না’ বলেও ট্রাম্প কেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন?
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পরও ‘চুপ’ কেন ইরান?
যুক্তরাষ্ট্রকে কি বিশ্বাস করা যায়? ইতিহাস কী বলে

তবে অতীতে দেখা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টরা প্রায়ই এই সীমা অতিক্রম করেছেন এবং কংগ্রেসও অনেক ক্ষেত্রে তা উপেক্ষা করেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

প্রজেক্ট অন গভর্নমেন্ট ওভারসাইট (পোগো)-এর পরিচালক ডেভিড জানোভস্কি বলেন, ‘আসল প্রশ্ন হলো, কংগ্রেস কি এই যুদ্ধের দায়ভার নিতে চায়? তারা কি প্রেসিডেন্টকে থামতে বলবে, নাকি তদারকির মাধ্যমে যুদ্ধের বৈধতা দেবে?’

রিপাবলিকান শিবিরে বিভক্তি

এখন পর্যন্ত কংগ্রেসের রিপাবলিকান নেতৃত্ব যুদ্ধ অনুমোদন বা বন্ধ করার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানায়নি। যদিও কিছু প্রস্তাব আনা হয়েছিল প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করতে, সেগুলো কার্যত আটকে গেছে।

সিনেটর লিসা মুরকোস্কি যুদ্ধের জন্য একটি ‘অথোরাইজেশন ফর ইউজ অব মিলিটারি ফোর্স’ (এইউএমএফ) তৈরির কাজ করছেন, যা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ঘোষণা না করেও অভিযান চালিয়ে যাওয়ার আইনি পথ তৈরি করবে।

অন্যদিকে, থম টিলিস এবং সুসান কলিন্সের মতো রিপাবলিকান সিনেটররা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তারা ১ মের পর যুদ্ধ চালানোর পক্ষে ভোট দেবেন না। জন কার্টিস ও জেরি মোরানের মতো নেতারাও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আইনি ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৬০ দিনের সময়সীমা পার হলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। যদিও প্রেসিডেন্ট অতিরিক্ত ৩০ দিনের সময় চাইতে পারেন সেনা প্রত্যাহারের জন্য, কিন্তু নতুন হামলা চালানো তখন সীমিত হয়ে যাবে।

তবে বাস্তবে আদালত সাধারণত এ ধরনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। ফলে কংগ্রেস যদি কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে যুদ্ধ একটি অস্পষ্ট আইনি অবস্থায় অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে।

রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ

বিশ্লেষকদের মতে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। দ্য আমেরিকান কনজারভেটিভের সম্পাদক অ্যান্ড্রু ডের মতে, অনেক রিপাবলিকান গোপনে এই যুদ্ধকে ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’ হিসেবে দেখছেন। তবে ট্রাম্পের রোষানলে পড়ার ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না।

এমন মুহূর্তে মার্কিন কংগ্রেস হয়তো সরাসরি ভোট এড়িয়ে যেতে চাইবে এবং বিষয়টি নীরবে পার করে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই প্রেসিডেন্টদের যুদ্ধ ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখিয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে ব্যাপক হামলা, হাজারও হতাহত এবং বড় সামরিক অভিযান—এসব বিবেচনায় এটি আর ‘সীমিত অভিযান’ হিসেবে দেখার সুযোগ কম।

ফলে ৬০ দিনের এই সময়সীমা শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিকভাবেও একটি বড় মোড় হয়ে উঠতে পারে—যেখানে কংগ্রেসের নীরবতা বা সক্রিয়তা, উভয়ই ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow