ইরানে হামলা: কেন শুরু সংঘাত, কী জানা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহরে যৌথ সামরিক হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। দুই পক্ষের এই তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। কী ঘটেছে ইরানে?শনিবার সকাল প্রায় ৯টা ২৭ মিনিটে তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে ইরানের বার্তা সংস্থা। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। প্রথমে ইসরায়েল ঘোষণা দেয় যে তারা ইরানের ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পরে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এটি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে “বড় ও চলমান সামরিক অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে “Operation Epic Fury”। কোথায় কোথায় হামলা হয়েছে?তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট, জোমহুরি এলাকা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদরদপ্তরের আশপাশে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কেরমানশাহ, কোম, তাবরিজ, ইসফাহান, ইলাম, কারাজ ও লোরেস্তান প্রদেশেও বিস্ফোরণের তথ্য দিয়

ইরানে হামলা: কেন শুরু সংঘাত, কী জানা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহরে যৌথ সামরিক হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। দুই পক্ষের এই তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

কী ঘটেছে ইরানে?
শনিবার সকাল প্রায় ৯টা ২৭ মিনিটে তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে ইরানের বার্তা সংস্থা। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। প্রথমে ইসরায়েল ঘোষণা দেয় যে তারা ইরানের ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পরে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এটি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে “বড় ও চলমান সামরিক অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে “Operation Epic Fury”।

কোথায় কোথায় হামলা হয়েছে?
তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট, জোমহুরি এলাকা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদরদপ্তরের আশপাশে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কেরমানশাহ, কোম, তাবরিজ, ইসফাহান, ইলাম, কারাজ ও লোরেস্তান প্রদেশেও বিস্ফোরণের তথ্য দিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

হামলার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ব্যাখ্যা
দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে নিজেদের জন্য হুমকি বলে দাবি করে আসছে। তারা বলছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করব এবং নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন করব।” তিনি ইরানের সেনাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় তারা “নিশ্চিত মৃত্যুর” মুখোমুখি হবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, তাদের অভিযানের নাম “Lion’s Roar” এবং এটি “যতদিন প্রয়োজন ততদিন চলবে।”

ইরানের পাল্টা জবাব
ইরান প্রথমে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সাইরেন বেজে ওঠে বিভিন্ন শহরে। পরে কাতারের আল উদেইদ, কুয়েতের আল-সালেম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর লক্ষ্য করেও হামলার খবর পাওয়া যায়।

ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি “চূর্ণবিচূর্ণ জবাব” দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

বিশ্ব প্রতিক্রিয়া
ওমান জানায়, তাদের মধ্যস্থতায় চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা এই সংঘাতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত বিপজ্জনক” বলে আখ্যা দিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।

যুক্তরাজ্য বলেছে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না, তবে তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে সমালোচনা করেছে।

পরিস্থিতি অনিশ্চিত
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গভীরভাবে পড়বে।

সূত্র- আলজাজিরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow