ইরানের কিংবদন্তিতুল্য জেদ : আবারও কি হতাশ হবে যুক্তরাষ্ট্র
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে চলছে এক অবিরাম স্নায়ুযুদ্ধ। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ বা ‘ব্লকেড’ কৌশল ইরানকে কতটা কোণঠাসা করতে পেরেছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তেহরান কি শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করবে, নাকি তাদের ‘কিংবদন্তিতুল্য’ সহনশীলতা আবারও ওয়াশিংটনকে হতাশ করবে? ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকার জেদ এবং একগুঁয়েমি এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এক বিস্ময়। সূত্রের তথ্যমতে, দশকের পর দশক ধরে দেশটি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কঠোর যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে। ১৯৮০-র দশকে ইরাকের সাথে আট বছরের দীর্ঘ ও বিধ্বংসী যুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল, তবুও ইরানের নীতিনির্ধারকদের মনোবল ভাঙেনি। যখনই অভ্যন্তরীণ কোনো বিক্ষোভ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিতে চেয়েছে, তখনই সরকার কঠোর হাতে বেসামরিক বিক্ষোভ দমনের মাধ্যমে বিপ্লবকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা করেছে। এমনকি সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে হত্যার হুমকি কিংবা ব্যাপক বোমা হামলাও তাদের সংকল্প টলাতে পারেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪৭ বছর ধরে ইরানের রাষ্ট্রীয় দর্শনের মূলে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মতো
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে চলছে এক অবিরাম স্নায়ুযুদ্ধ। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ বা ‘ব্লকেড’ কৌশল ইরানকে কতটা কোণঠাসা করতে পেরেছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তেহরান কি শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করবে, নাকি তাদের ‘কিংবদন্তিতুল্য’ সহনশীলতা আবারও ওয়াশিংটনকে হতাশ করবে?
ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকার জেদ এবং একগুঁয়েমি এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এক বিস্ময়। সূত্রের তথ্যমতে, দশকের পর দশক ধরে দেশটি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কঠোর যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে। ১৯৮০-র দশকে ইরাকের সাথে আট বছরের দীর্ঘ ও বিধ্বংসী যুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল, তবুও ইরানের নীতিনির্ধারকদের মনোবল ভাঙেনি। যখনই অভ্যন্তরীণ কোনো বিক্ষোভ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিতে চেয়েছে, তখনই সরকার কঠোর হাতে বেসামরিক বিক্ষোভ দমনের মাধ্যমে বিপ্লবকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা করেছে। এমনকি সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে হত্যার হুমকি কিংবা ব্যাপক বোমা হামলাও তাদের সংকল্প টলাতে পারেনি।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪৭ বছর ধরে ইরানের রাষ্ট্রীয় দর্শনের মূলে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মতো ‘বড় শয়তানের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সির মতে, ট্রাম্পের দল সেই সব মার্কিন প্রশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করছে যারা ভুলভাবে বিশ্বাস করে যে, প্রচণ্ড চাপ দিলেই ইরান নতি স্বীকার করবে।
ত্রিতা পার্সির মতে, ওয়াশিংটন সবসময় এমন একটি ‘সিলভার বুলেট’ বা জাদুকরী চাপের বিন্দু খোঁজে যা ইরানকে হয় ধসিয়ে দেবে, নয়তো আমেরিকার ইচ্ছা পূরণে বাধ্য করবে। কিন্তু ইতিহাস বলছে, প্রতিবারই এই পথ যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল নিরাশ করেছে।
ওয়াশিংটনের রক্ষণশীল মহলে একটি বদ্ধমূল ধারণা রয়েছে, ইরানের অর্থনীতি এবং শাসনব্যবস্থা সর্বদা পতনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওভাল অফিসে বলেছিলেন, ইরানকে কেবল বলতে হবে ‘আমরা হার মানলাম’। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ট্রাম্পের কাছে মাথা নত করার চেয়ে বরং সামাজিক ধসকেও বেছে নিতে পারে তেহরান।
শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প যদি এই দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে ইরানকে নতি স্বীকার করাতে পারেন, তবে সেটি হবে ইতিহাসের এক নতুন মোড়। কিন্তু যদি তিনি ব্যর্থ হন, তবে ইরান আবারও প্রমাণ করবে যে তাদের বারবার ‘ঘুষি খাওয়ার’ এবং সহ্য করার অসীম ক্ষমতা আসলে আমেরিকার বিশাল শক্তিকে অকার্যকর বা নিষ্ক্রিয় করে দিতে সক্ষম। তেহরানের এই কিংবদন্তিতুল্য জেদ শেষ পর্যন্ত অবরোধের কৌশলকে ভুল প্রমাণ করতে পারে।
What's Your Reaction?