ইসলামি সোশ্যাল মিডিয়া ‘আলফাফা’য় বাড়ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ
বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের জন্য ইসলামি আদর্শে পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘আলফাফা’ (Alfafaa) বাংলাদেশেও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে গুগল প্লে স্টোরে দুই মিলিয়নের বেশি ডাউনলোড এবং বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ব্যবহারকারী থাকার পাশাপাশি দেশের ইসলামপ্রিয় মানুষের মধ্যেও প্ল্যাটফর্মটি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। ব্যবহারকারীদের ভাষ্য, ইসলামি মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়ে নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করার কারণেই আলফাফা দিন দিন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করছে। আলফাফার বাংলাদেশের পরিচালক মুফতি আবদুল্লাহ তামিম কালবেলাকে বলেন, ‘আজকের ডিজিটাল যুগে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। অথচ বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের নিজস্ব কোনো বড় সার্বজনীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ছিল না। মূলধারার প্ল্যাটফর্মগুলোতে অনেক সময় ঈমান, আমল ও ইসলামি মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।’ তিনি বলেন, ‘এই বাস্তবতা থেকেই আলফাফার যাত্রা শুরু। ইসলামি নীতিমালার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এ প্ল্যাটফর্মে দাওয়াহ, শিক্ষা, ব্যবসা ও সামাজিক যোগাযোগের পাশাপাশি ঈমানি পরিবেশ রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক ইসলামপ্রি
বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের জন্য ইসলামি আদর্শে পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘আলফাফা’ (Alfafaa) বাংলাদেশেও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে গুগল প্লে স্টোরে দুই মিলিয়নের বেশি ডাউনলোড এবং বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ব্যবহারকারী থাকার পাশাপাশি দেশের ইসলামপ্রিয় মানুষের মধ্যেও প্ল্যাটফর্মটি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
ব্যবহারকারীদের ভাষ্য, ইসলামি মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়ে নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করার কারণেই আলফাফা দিন দিন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করছে।
আলফাফার বাংলাদেশের পরিচালক মুফতি আবদুল্লাহ তামিম কালবেলাকে বলেন, ‘আজকের ডিজিটাল যুগে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। অথচ বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের নিজস্ব কোনো বড় সার্বজনীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ছিল না। মূলধারার প্ল্যাটফর্মগুলোতে অনেক সময় ঈমান, আমল ও ইসলামি মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘এই বাস্তবতা থেকেই আলফাফার যাত্রা শুরু। ইসলামি নীতিমালার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এ প্ল্যাটফর্মে দাওয়াহ, শিক্ষা, ব্যবসা ও সামাজিক যোগাযোগের পাশাপাশি ঈমানি পরিবেশ রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক ইসলামপ্রিয় মানুষ আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের নিজস্ব একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে আলফাফার প্রচার ও প্রসারে সবাই এগিয়ে আসবেন বলে আমরা আশা করি।’
বাংলাদেশে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলছে।
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নাজমুল হক জিম বলেন, ‘আমি প্রায় পাঁচ বছর ধরে আলফাফা ব্যবহার করছি। অনেক আগে থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল, মুসলিমদের নিজস্ব একটি বৈশ্বিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থাকুক, যেখানে ইসলামি মূল্যবোধ বজায় রেখে নিরাপদে যোগাযোগ করা যাবে। আলফাফা সেই প্রত্যাশা অনেকটাই পূরণ করেছে। এখানে কোরআন-হাদিসভিত্তিক কনটেন্ট পাওয়া যায়, একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ও অনৈতিক বিষয় থেকে দূরে থাকা যায়।’
জামিয়াতুস সুন্নাহ মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি মাহদি হাসান সাবেরি বলেন, ‘বর্তমানের অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীলতা ও অনৈতিক কনটেন্টের ব্যাপক বিস্তার রয়েছে, যা একজন মুসলিমের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আমি কিছুদিন ধরে আলফাফা ব্যবহার করছি। আমার কাছে ভালো লেগেছে যে, এখানে ইসলামি নীতিমালার বাইরে কোনো কনটেন্ট প্রকাশের সুযোগ নেই। বেপর্দা বা ফিতনার আশঙ্কাও থাকে না। এ কারণেই এটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে বলে আমি মনে করি। যারা এখনো ব্যবহার করেননি, তারা একবার ব্যবহার করে দেখতে পারেন।’
কলেজশিক্ষার্থী সাবিকুন্নাহার বলেন, ‘আলফাফার সবচেয়ে ভালো দিক আমার কাছে মনে হয়েছে এর গোপনীয়তা ও ইসলামসম্মত যোগাযোগব্যবস্থা। এখানে মেয়েদেরকে অপরিচিত ছেলেরা সরাসরি বার্তা পাঠাতে পারে না, যা অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে সাহায্য করে। ইসলামি মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত এই সামাজিক মাধ্যম ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
আলফাফা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশের মুসলিম এ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। মূলধারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করা এ প্ল্যাটফর্মটি ইসলামি নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, এখানে অশ্লীলতা, ফিতনা কিংবা ইসলামবিরোধী কোনো কনটেন্ট প্রকাশের সুযোগ নেই।
জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কয়েকজন ইসলামপ্রিয় তরুণ বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের জন্য একটি স্বতন্ত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে ঈমান ও আমল রক্ষা করে দাওয়াহ, শিক্ষা, ব্যবসা এবং সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
আলফাফার নির্বাহী পরিচালক আসিফ সাঈদ বলেন, বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের সামাজিক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা মূলধারার প্ল্যাটফর্মগুলো পুরোপুরি পূরণ করতে পারে না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই সেখানে ইসলামি মূল্যবোধ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ বাস্তবতা থেকেই ইসলামি মতাদর্শভিত্তিক একটি হালাল সামাজিক মাধ্যম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য ‘Alfafaa Connect’ নামে একটি লাইট ভার্সন চালু করা হয়েছে, যা কম ডেটা খরচে দ্রুতগতির অভিজ্ঞতা দেয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, প্ল্যাটফর্মটিতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কোরআন তিলাওয়াত, হাদিস এবং বিভিন্ন ইসলামি কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যে নিজেদের ব্যবসা, মসজিদ, হালাল রেস্টুরেন্ট, চাকরি ও পেশাদার প্রোফাইল তালিকাভুক্ত করতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগের পাশাপাশি ব্লগ, ফোরাম, জবস, টিচিং ও ই-কমার্সসহ বিভিন্ন ফিচার নিয়ে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মুসলিম ইকোসিস্টেম হিসেবে কাজ করছে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক ক্লিকেই যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।
গুগল প্লে স্টোরে ‘Alfafaa’ লিখে সার্চ করলেই অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে।
What's Your Reaction?