ঈদুল আজহার সুন্নত আমল
কোরবানি একটি ইবাদাত। কোরবানি করা হয় একমাত্র মহান রবের সন্তুষ্টির জন্যে। যেমনটি মহান রব বলেছেন, ‘আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন আমার মরণ জগতের পালনকর্তা আল্লাহর জন্যে।’ (সুরা আনআম: ১৬২) কোরবানি তথা ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বেশকিছু আমল আমাদের সামনে উপস্থিত হয়। তারমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ঈদুল আজহার দিন কোরবানি করা। এইদিনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয় আমল হচ্ছে কোরবানি। অপরদিকে রাসুল (সা.) সবসময়ই কোরবানি করেছেন। নবীজি মদীনায় দশবছর ছিলেন এবং প্রত্যেক বছর কোরবানি করেছেন। যেমন হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) মদিনায় দশ বছর বসবাস করেছেন, আর এই দশ বছরই তিনি একাধারে প্রতি বছর কোরবানি করেছেন।’ (সুনানে তিরমিজি: ১৫১৫, মুসনাদে আহমাদ: ৪৯৫৫) অন্যদিকে সামর্থ থাকা সত্ত্বেও যারা কোরবানি করে না, তাদেরকে সতর্কবাণী দিয়েছেন স্বয়ং নবীজি (সা.)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩১২৩) জিলহজ মাসের ১০ তারিখের ঈদকে
কোরবানি একটি ইবাদাত। কোরবানি করা হয় একমাত্র মহান রবের সন্তুষ্টির জন্যে। যেমনটি মহান রব বলেছেন, ‘আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন আমার মরণ জগতের পালনকর্তা আল্লাহর জন্যে।’ (সুরা আনআম: ১৬২)
কোরবানি তথা ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বেশকিছু আমল আমাদের সামনে উপস্থিত হয়। তারমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ঈদুল আজহার দিন কোরবানি করা। এইদিনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয় আমল হচ্ছে কোরবানি। অপরদিকে রাসুল (সা.) সবসময়ই কোরবানি করেছেন। নবীজি মদীনায় দশবছর ছিলেন এবং প্রত্যেক বছর কোরবানি করেছেন। যেমন হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) মদিনায় দশ বছর বসবাস করেছেন, আর এই দশ বছরই তিনি একাধারে প্রতি বছর কোরবানি করেছেন।’ (সুনানে তিরমিজি: ১৫১৫, মুসনাদে আহমাদ: ৪৯৫৫)
অন্যদিকে সামর্থ থাকা সত্ত্বেও যারা কোরবানি করে না, তাদেরকে সতর্কবাণী দিয়েছেন স্বয়ং নবীজি (সা.)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩১২৩)
জিলহজ মাসের ১০ তারিখের ঈদকে ঈদুল আজহা বলে। এদিন দুই রাকাত শোকরানা নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। ঈদের নামাজের পরপরই তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব। এদিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে, স্বীয় কোরবানির গোশত দিয়ে দিনের প্রথম আহার করা। ঈদের নামাজের প্রথম রাকাতে সুরা আলা এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা গাশিয়া পড়া উত্তম। (আল ফিকহু আলাল মাজাহিবিল আরবআ)
ঈদের নামাজ ঈদগা বা খোলা মাঠে পড়া সুন্নত এবং নবীজির আমল ছিল এরকম। যেমন হাদিসে এসেছে, ‘আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে ঈদগাহের (খোলা ময়দান) দিকে যেতেন। (বোখারি: ৯৫৬)
ঈদুল আজহার দিনের আরও বিশেষ কিছু সুন্নত আমল রয়েছে, যা একজন মুসলিম ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি:
১. গোসল ও পরিচ্ছন্নতা
ঈদের দিন সকাল সকাল গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা মুস্তাহাব। সাহাবিরা গোসল করে ঈদগাহে যেতেন। নাফে (রহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করে নিতেন। (মুয়াত্তায়ে মালেক : ৪৮৮)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদের দিন উত্তমভাবে গোসল করতেন, সুগন্ধি থাকলে তা ব্যবহার করতেন, নিজের সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন। এরপর ঈদের নামাজে যেতেন। (শরহুস সুন্নাহ : খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩০২)
২. উত্তম পোশাক ও সাজসজ্জা
ঈদের দিন নিজের সাধ্যমতো উত্তম পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব। সাহাবিরা এমনটি করতেন। নাফে (রহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) দুই ঈদে উত্তম পোশাক পরতেন। (সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকি : ৬১৪৩)
তবে উত্তম পোশাক মানে নতুন পোশাক নয়; বরং নিজের সংগ্রহে থাকা সবচেয়ে ভালো পোশাক পরা চাই।
৩. বেশি বেশি তাকবির পাঠ
হজরত নাফে (রহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের সকালে সশব্দে তাকবির বলতে বলতে ঈদগাহে যেতেন এবং ইমাম আসা পর্যন্ত তাকবির বলতে থাকতেন (সুনানে দারা কুতনি : ১৭১৬)। তাই আমাদেরও উচিত ঈদগাহে যাওয়ার সময় বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তাকবির বলা।
৪. ঈদগাহে ভিন্ন পথে যাতায়াত
সম্ভব হলে ঈদগাহে যাওয়ার সময় এক পথে যাওয়া আর ফেরার সময় ভিন্ন পথে আসা। নবীজি (সা.) এমনটি করতেন। জাবের (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) ঈদের দিন এক পথ দিয়ে ঈদগাহে যেতেন আর ভিন্ন পথ দিয়ে বাড়ি ফিরতেন। (বোখারি : ৯৮৬)
৫. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে গমন
যথাসম্ভব পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া মুস্তাহাব। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যেতেন এবং পায়ে হেঁটে ফিরতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ১২৯৫)
৬.একে অপরের জন্য দোয়া
ঈদের দিন সাহাবায়ে কেরাম দোয়াসুলভ বাক্যে সৌজন্য বিনিময় করতেন। তাবেয়ি জুবাইর ইবনে নুফাইর (রহ.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর সাহাবিরা ঈদের দিন পরস্পর সাক্ষাতে বলতেন, তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের এবং তোমাদের আমলগুলো কবুল কর (ফাতহুল বারি : খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৪৬)। এ রকম সৌজন্য বিনিময়ের মাধ্যমে উত্তম আচরণ প্রকাশিত হয় এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্ব সুদৃঢ় হয়।
৭. ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়
ঈদে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানানো শরিয়ত অনুমোদিত একটি বিষয়। বিভিন্ন বাক্য দ্বারা এ শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেছেন, সাহাবিরা ঈদের দিন সাক্ষাৎকালে একে অপরকে বলতেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা।’ অর্থাৎ আল্লাহতায়ালা আমাদের ও আপনার ভালো কাজগুলো কবুল করুন। ঈদ মোবারক ইনশাল্লাহও বলা যেতে পারে। ঈদুকুম সাঈদ বলেও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়।
৮. এতিম ও অভাবীকে পানাহার
ঈদের দিন এতিমের খোঁজখবর নেয়া, তাদের খাবার খাওয়ানো এবং সম্ভব হলে তাদের নতুন কাপড়ের ব্যবস্থা করে দেয়া চাই। এটা ঈমানদারদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা খাদ্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসকিন, এতিম ও বন্দিকে খাদ্য দান করে।’ (সুরা দাহর : ৮)
৯. খোঁজ নেওয়া
ঈদের দিন আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া ও তাদের বাড়ি বেড়াতে যাওয়া চাই। পাশাপাশি প্রতিবেশীরও খোঁজখবর নিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা ইবাদত করো আল্লাহর, তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতাপিতার সঙ্গে, নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে, এতিম-মিসকিন, প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী পড়শী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাসদাসীদের সঙ্গে। নিশ্চয় আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদের, যারা দাম্ভিক, অহংকারী।’ (সুরা নিসা : ৩৬)
১০. মনোমালিন্য দূরীকরণ
পারস্পরিক মনোমালিন্য দূর করা ও সম্পর্ক সুদৃঢ় করার উত্তম সময় ঈদের দিন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলমানের জন্য বৈধ নয় যে, তার ভাইকে তিন দিনের বেশি সময় সম্পর্ক ছিন্ন রাখবে। তাদের অবস্থা এমন যে, দেখা-সাক্ষাৎ হলে একজন অন্যজনকে এড়িয়ে চলে। এ দুজনের মাঝে ওই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যে আগে সালাম দেয়’ (মুসলিম : ৬৬৯৭)। তাই ঈদের দিন সব মান-অভিমান ভুলে একে অন্যের সঙ্গে আনন্দ প্রকাশ করা উচিত।
১১. আনন্দ প্রকাশ করা
ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা, যেখানে সুষ্ঠু বিনোদনের সুযোগ রয়েছে। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) ঈদের দিন আমার ঘরে এলেন, তখন আমার কাছে দুজন কিশোরী বুয়াস যুদ্ধের বীরদের স্মরণে গান গাচ্ছিল। তারা পেশাদার গায়িকা ছিল না। এরই মধ্যে আবু বকর (রা.) ঘরে প্রবেশ করে এ বলে আমাকে ধমকাতে লাগলেন যে, নবীজি (সা.)-এর ঘরে শয়তানের বাঁশি? রাসুল (সা.) তার কথা শুনে বললেন, ‘ওদের গাইতে দাও হে আবু বকর! প্রত্যেক জাতির ঈদ আছে, আর এটি আমাদের ঈদের দিন।’ (বোখারি : ৯৫২)
লেখক: পেশ ইমাম, বায়তুল আমান জামে মসজিদ, বিয়ানীবাজার, সিলেট
What's Your Reaction?