ঈদের ছুটি: ফাঁকা ঢাকায় স্বস্তির যাত্রা

2 days ago 8

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। আর এই ঈদকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে আপন ঠিকানায় পাড়ি জমান লাখ লাখ মানুষ। ফলে প্রতি বছরের মতো এবারও আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে টানা ছুটিতে ফাঁকা হতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। ফলে কোথাও নেই কোনো যানজট, নেই ভোগান্তি।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩১ মার্চ ঈদুল ফিতর হতে পারে। সম্ভাব্য এই তারিখ ধরে গতকাল বৃহস্পতিবারই ছিল ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস। গতকাল বিকেলে অফিস-আদালত ছুটির পর থেকেই রাজধানীর বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।

শনিবার (২৯ মার্চ) রাজধানীর গাবতলী, শ্যামলী, আগারগাঁওয়ে, মিরপুর, কালশি, মহাখালী, গুলশান, বাড্ডাসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে যানজটহীন ফাঁকা ঢাকার এমন চিত্র দেখা গেছে। এছাড়াও গুগল ম্যাপের সহযোগিতায় কোথাও কোনো যানজটের চিত্র দেখা যায়নি। তবে রাজধানীর প্রবেশমুখ ও বাহিরমুখগুলোতে যানবাহন চলাচলে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।

 ফাঁকা ঢাকায় স্বস্তির যাত্রা

সরেজমিনে দেখা গেছে, চিরচেনা সেই রাজধানী এখন অনেকটা ফাঁকা। রাস্তায় বের হলে গণপরিবহনের দীর্ঘ সারির দেখা নেই। নেই কোনো যানজট। কমেছে মানুষের আনাগোনা। রাজধানীর বিভিন্ন কাউন্টারে যাত্রীদের গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া রাজধানীর অভ্যন্তরে চলাচলকারী অধিকাংশ গণপরিবহনে আসন ফাঁকা থাকতেও দেখা গেছে।

তবে যানজটহীন ফাঁকা রাজধানীতে স্বাচ্ছন্দ্যে গাড়ি চলাচল করতে পারায় পরিবহন শ্রমিকেরা কিছুটা খুশি প্রকাশ করলেও যাত্রী সংকটে হতাশার কথা জানাচ্ছেন তারা।

পরিস্থান পরিবহনের চালকের সহকারী সাইদুল বলেন, রাস্তায় কোনো যানজট নেই, সিগন্যাল নেই। দ্রুত যে কোনো জায়গায় পৌঁছে যেতে পারছি। কিন্তু যাত্রী পাচ্ছি না। আর খালি গাড়ি নিয়ে ঢাকা ঘুরলে কি খরচের টাকা উঠবে। সবাই ঢাকা থেকে চলে গেছে। অনেক মালিক যাত্রীর অভাবে সবগুলো গাড়িও বের করেনি।

 ফাঁকা ঢাকায় স্বস্তির যাত্রা

রইচ পরিবহনের চালকের সহকারী বলেন, রাস্তায় কোনো যাত্রী নেই। পুরো গাড়িতে অর্ধেকের বেশি সিট খালিই পড়ে আছে। এভাবে যদি যাত্রী না পাই তাহলে গাড়ি চালাবো কেমন করে। তেলের টাকাও ওঠবে না।

তিনি বলেন, আজতো কিছু যাত্রী আছে। কিন্তু কাল থেকে এই যাত্রীও থাকবে না। তখন ফাঁকা গাড়ি নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হবে।
এদিকে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে টানা ৯ দিনের ছুটি। ঈদ উপলক্ষে আগেই পাঁচদিন টানা ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। সেখানে এখন নির্বাহী আদেশে ৩ এপ্রিলও ছুটি ঘোষণা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর ফলে এবার ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা নয় দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

 ফাঁকা ঢাকায় স্বস্তির যাত্রা

চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী সোমবার (৩১ মার্চ) দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। সেই হিসাব করে সরকারি ছুটির তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই হিসাবে কাগজপত্রে ২৯ মার্চ শুরু হচ্ছে ঈদুল ফিতরের ছুটি। কিন্তু নির্ধারিত ছুটি শুরুর আগের দিন ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার। একই সঙ্গে একই দিন পবিত্র শবে কদরেরও ছুটি। এদিকে ২৯ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে ঈদুল ফিতরের পাঁচ দিনের ছুটি। অর্থাৎ ২৯, ৩০, ৩১ মার্চ এবং ১ ও ২ এপ্রিল পর্যন্ত থাকবে এই ছুটি। এর মধ্যে ঈদের দিন সাধারণ ছুটি। আর ঈদের আগের দুদিন এবং পরের দুদিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ছুটি শেষে অফিস খোলার কথা ছিল ৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার। তার পরের দুইদিন আবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার। এখন ৩ এপ্রিলও নির্বাহী আদেশে ছুটি হওয়ায় ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৯দিন ছুটি ভোগ করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অবশ্য এই ছুটি শুরুর দুই দিন আগে আছে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ছুটি। পরদিন বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ এক দিন অফিস খোলা থাকবে।

ছুটির বিধিমালা অনুযায়ী, দুই ছুটির মাঝে নৈমিত্তিক ছুটি নেওয়ার নিয়ম নেই। নিলে তা টানা ছুটি হয়ে যাবে। তবে অর্জিত ছুটি নেওয়ার সুযোগ আছে। এছাড়া ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ারও সুযোগ আছে। অবশ্য প্রত্যেক কর্মচারীকে বছরের শুরুতে নিজ ধর্ম অনুযায়ী নির্ধারিত তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে। সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত করে ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার অনুমতি দেওয়ার সুযোগ আছে।

কেআর/এমআরএম/এমএস

Read Entire Article