উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বড় ঘোষণা

বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমারের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা আর স্মৃতিচারণে মুখর ছিল কলকাতা। আজ (২৪ জুলাই) কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তার আবক্ষ মূর্তি ও স্মারকফলকে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা। এ সময় মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে একাধিক উদ্যোগেরও ঘোষণা দেওয়া হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়সহ অনেকেই। পরে মহানায়কের ভবানীপুরের বাড়িতেও গিয়ে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হবে। এ উপলক্ষে কলকাতাজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ কর্মসূচি। আরও পড়ুন নতুন জীবনে পা রাখলেন অনন্যা আচার্য্য তিনি জানান, মহানায়কের স্মৃতিকে সংরক্ষণ এবং সংস্কৃতিচর্চাকে আরও এগিয়ে নিতে তার নামে একটি নতুন ফিল্ম সেন্টার নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার অধীন ঐতিহ্যবাহী উত্তম মঞ্চ সংস্কার করা হবে। নন্দন অথব

উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বড় ঘোষণা

বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমারের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা আর স্মৃতিচারণে মুখর ছিল কলকাতা। আজ (২৪ জুলাই) কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তার আবক্ষ মূর্তি ও স্মারকফলকে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা। এ সময় মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে একাধিক উদ্যোগেরও ঘোষণা দেওয়া হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়সহ অনেকেই। পরে মহানায়কের ভবানীপুরের বাড়িতেও গিয়ে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হবে। এ উপলক্ষে কলকাতাজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ কর্মসূচি।

তিনি জানান, মহানায়কের স্মৃতিকে সংরক্ষণ এবং সংস্কৃতিচর্চাকে আরও এগিয়ে নিতে তার নামে একটি নতুন ফিল্ম সেন্টার নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার অধীন ঐতিহ্যবাহী উত্তম মঞ্চ সংস্কার করা হবে। নন্দন অথবা রবীন্দ্র সদনে একটি বিশেষ সভার মাধ্যমে জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি কমিটিও গঠন করা হবে। মহানায়কের পরিবারের সম্মতি নিয়েই এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতি বছরের মতো এবারও মৃত্যুবার্ষিকীতে উত্তম কুমারের ভবানীপুরের বাড়ির দরজা ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করেন অসংখ্য অনুরাগী, স্বজন ও সংস্কৃতিপ্রেমী। ফুলে ফুলে সাজানো হয় মহানায়কের প্রতিকৃতি। একই সঙ্গে কেওড়াতলা মহাশ্মশান, নন্দন ও রবীন্দ্র সদনসহ কলকাতার বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয় বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠান।

তবে নানা আয়োজনের মধ্যেও দিনটি মহানায়কের পরিবারের কাছে বেদনার। উত্তম কুমারের বড় নাতনি নবমিতা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সারাদিন নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে কাটলেও দিনের শেষে মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়। কারণ, রক্তমাংসের মানুষটাকে আমরা চিরদিনের জন্য হারিয়েছি। তবে দাদুকে ঘিরে এত আয়োজন থাকে বলেই দিনটা কিছুটা অন্যভাবে কেটে যায়।’

অভিনেতার নাতি গৌরব চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী, অভিনেত্রী দেবলীনা কুমারও বলেন, ‘আগেও এই দিনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়েছি। কিন্তু পরিবারের সদস্য হওয়ার পর বুঝেছি, এটি আনন্দের নয়, বরং প্রিয় মানুষটিকে হারানোর কষ্টের দিন।’

বাংলা চলচ্চিত্রে অনন্য অবদান রেখে যাওয়া উত্তম কুমার আজও কোটি দর্শকের হৃদয়ে অমলিন। তাই তার মৃত্যুবার্ষিকীতেও শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে ওঠে কলকাতা।

এমএমএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow