উদয় শংকর দুর্জয়ের গল্প : অনির্বাচিত শ্রাবণ
চার নাম্বার ক্রস কোর্টসের বিপরীতে যে বাড়িটা, সেটার নাম্বার আট। এই কলোনিতে সব ইভেন নাম্বারের বাড়ি আর পাশের কলোনিতে অড নাম্বারের বাড়ি। এটা আসলে ব্যাসিলডন কাউন্সিলের হাউজিং প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী করা। লন্ডনে বহু বছর থাকার পর ইভানের কেনো জানি মনে হলো শহরের এই কোলাহল থেকে কাউন্টি সাইডে একটু নিরিবিলি পরিবেশে থাকা যাক। প্রায় দুবছর হলো মর্টগেজ দিয়ে ব্যাসিল্ডনে বাড়ি কিনে একেবারে নিজের বাড়িতে থিতু হয়েছেন। আপনি নিশ্চয়ই আগ্রহ নিয়ে বসে আছেন ইভানের বাড়ির নাম্বার কত? হ্যাঁ পাঠক, ইভান থাকা শুরু করেছেন আট নাম্বারে আর আমি আগে থেকেই চার নাম্বারে আমার ব্যাচেলর যাপন করছি। এইবার মনে হয় আপনার আরও জানার ইচ্ছে বেড়ে গেল যে, নিশ্চয়ই ইভানের সুন্দরী স্ত্রী আছে আর আমি সেই নারীর মুগ্ধ সৌন্দর্যের অমৃত পান করছি। ভাবতে থাকুন, দেখা যাক কোন মেঘ ভেঙে দিতে পারে জলন্ত সূর্যের প্রতাপ। ইভান বিবাহিত কিনা জানি না তবে নির্ভানার চেয়ে বয়স যে একটু বেশি হবে তা আন্দাজ করা যায়। নির্ভানাকে দেখলেই বোঝা যায় নিয়মিত ওয়ার্ক আউট করা মেয়ে। বয়স লুকিয়ে রাখার সমীকরণের পারফেক্ট ব্যবহার যে সে করে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বয়স ধরা না গেলেও
চার নাম্বার ক্রস কোর্টসের বিপরীতে যে বাড়িটা, সেটার নাম্বার আট। এই কলোনিতে সব ইভেন নাম্বারের বাড়ি আর পাশের কলোনিতে অড নাম্বারের বাড়ি। এটা আসলে ব্যাসিলডন কাউন্সিলের হাউজিং প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী করা। লন্ডনে বহু বছর থাকার পর ইভানের কেনো জানি মনে হলো শহরের এই কোলাহল থেকে কাউন্টি সাইডে একটু নিরিবিলি পরিবেশে থাকা যাক। প্রায় দুবছর হলো মর্টগেজ দিয়ে ব্যাসিল্ডনে বাড়ি কিনে একেবারে নিজের বাড়িতে থিতু হয়েছেন। আপনি নিশ্চয়ই আগ্রহ নিয়ে বসে আছেন ইভানের বাড়ির নাম্বার কত? হ্যাঁ পাঠক, ইভান থাকা শুরু করেছেন আট নাম্বারে আর আমি আগে থেকেই চার নাম্বারে আমার ব্যাচেলর যাপন করছি। এইবার মনে হয় আপনার আরও জানার ইচ্ছে বেড়ে গেল যে, নিশ্চয়ই ইভানের সুন্দরী স্ত্রী আছে আর আমি সেই নারীর মুগ্ধ সৌন্দর্যের অমৃত পান করছি। ভাবতে থাকুন, দেখা যাক কোন মেঘ ভেঙে দিতে পারে জলন্ত সূর্যের প্রতাপ।
ইভান বিবাহিত কিনা জানি না তবে নির্ভানার চেয়ে বয়স যে একটু বেশি হবে তা আন্দাজ করা যায়। নির্ভানাকে দেখলেই বোঝা যায় নিয়মিত ওয়ার্ক আউট করা মেয়ে। বয়স লুকিয়ে রাখার সমীকরণের পারফেক্ট ব্যবহার যে সে করে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বয়স ধরা না গেলেও ত্রিশের আশে পাশে হবে। যখনই বাসা থেকে বের হয় তখন তার পোশাক আশাকের মাধুর্যতার চেয়ে বড় বেশি মহনীয় কামনীয় করে তোলে তার তার বডি শেইপ। ব্রার উপর স্যান্ডো গেঞ্জি আর শট্স । সোল্ডারের উপর চোখ পড়তেই লাল ব্রার ফিতা আর স্যান্ডো গেঞ্জির ফিতা একই সাথে মাখামাখি করে জড়িয়ে ধরে আছে। ক্লিভেজ ¯পষ্ট এবং ক্লান্তিহীন জেগে থাকা অপরূপ সূর্যোদয়ের আভা যেন নির্ভানাকে আরও কামনীয় করে তুলতে এক ফোঁটাও কার্পণ্য করে না। সে যে নিজেও জানে তাকে কেমন দেখায় কারণ তার ভেতরে এক ধরনের কনফিডেন্স রয়েছে। চলাফেরা এবং আলাপ চারিতায় তাকে বুঝে নিতে তেমন কষ্ট হয় না। সহজ এবং সাবলীল ভাবে আমাকে সেদিন বলল- আপনার কুকুরটা বেশ দারুণ, জার্মানী থেকে আনিয়েছেন বুঝি?
হ্যাঁ, কিন্তু এটা সরাসরি শেফার্ড জার্মান নয়, এটা হাইব্রিড করা- আমি বললাম।
মুচকি হেসে আমার দিকে তাকিয়ে বলল এখন সবাই তো দেখছি হাইব্রিডে ঝুঁকছে।
প্রায়ই আমাদের মধ্যে এরকম বাক্য বিনিময় হয় তবে সেটা দীর্ঘক্ষণ নয়।
আমিও হাসির সাথে তাল মিলিয়ে একটু অন্য প্রসঙ্গ টেনে নিলাম। কোথায় ভালো ওয়ার্ক আউট করা যায় বলুন তো?
সো ফার জানি যে আপনি নিয়মিত...
আমার কথা শেষ না হতেই নির্ভানা বলল- আসুন না পিওর জিমে, দারুণ ইন্সট্রুমেন্ট আছে ওখানে। ইউ ক্যান শেইপ ইয়োর বডি অ্যাজ ইউ উইশ।
আমি দারুণ উচ্ছ্বাসিত হোলাম। বললাম কাল থেকেই জয়েন করছি তবে। বললাম পিউর জিম তো
একটু দূরে, আর তা ছাড়া...।
ড্রাইভ করেন না, এই তো? আপনি আমার স্লটে যোগ দিন তবে আমরা একই সাথে যেতে পারি এবং
ফিরেও আসতে পারি।
আমার ভেতর তখন পশ্চিমের বেহায়া মেঘ যেন ভেঙে চুরে সব তচনচ করে দিয়ে সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে। এক প্রবল ভাবে হ্যাঁ উচ্চারণ করার আগেই নির্ভানা বলল বাই নাও। আই উইল ক্যাচ ইউ টুমরো শার্প ফাইভ পিএম। আমি জাস্ট ঘাড় নেড়ে বললাম- দ্যাট উড বি গ্রেট। ঠিক পাঁচটায় ঘরের দরজায় বেল বেজে উঠলো, বুঝে নিতে কষ্ট হলো না যে নির্ভানা দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে। আমিও রেডি কিন্তু কোন পারফিউমটা লাগাবো তাই ভাবছি, প্রাডা ব্লু নাকি ভার্সাসি ইরোস ইয়াউ ডি। আমি হন্তদন্ত হয়ে দরজা খুললাম। নির্ভানার সবুজ চোখ আর নিষিক্ত ঠোঁট আমার সম্বিৎ হারিয়ে দিল কিছুক্ষণের জন্য। চলুন বেরিয়ে পড়া যাক- নির্ভানা বলল।
ও হ্যাঁ, চলুন তবে যাওয়া যাক। আমরা দুজনে নির্ভানার গাড়ির কাছে এগোচ্ছি এমন সময় ওর বয়ফ্রেন্ডের সাথে আমার সামনা সামনি দেখা (ধরে নিলাম বয়ফ্রেন্ডই হবে)। এর আগে আমি দেখছি অনেকবার, দুএক বার কথাও হয়েছে। হ্যাভ ফান, সি ইউ লেইটার, বলে বিদায় নিল। একথাটা বলার মাঝে কিছুটা তাচ্ছিল্যতাও ছিল। আমরা গাড়িতে গিয়ে বসলাম। নির্ভানা ড্রাইভ করতে লাগলো। লুইসা জনসনের সেই বিখ্যাত গান- ‘আই ট্রাইড হার্ড টু মেইক ইউ ওয়ান্ট মি বাট উই আর নট সাপোসড টু বি’। আমি জিজ্ঞাসা করলাম এই গান তোমার ভালো লাগে? ও বলল, হু ভীষণ, আমি বহুবার করে এই গান শুনি।
টাউন সেন্টারে এসে আমরা থামলাম। নির্ভানা গাড়ি পার্ক করার পর আমরা ঢুকলাম জিমের ভেতর। ও গেল চেঞ্জিং রুমে; আমি গেলাম অফিসে, রেজিস্ট্রেশন করার জন্য। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুজনে ট্রেডমিলে দৌড়ালাম তারপর কিচ্ছুক্ষণ ফ্রী হ্যান্ড ওয়ার্ক আউট, দ্যান ওয়েট লিফটিং। ওয়ার্ক আউট শেষে এখন ফেরার পালা। সুর্য তখনও পশ্চিমের আকাশে আলো জ্বালিয়ে রেখেছে। ঘড়িতে সন্ধ্যে ৭টা বেজে পনের মিনিট। ইংল্যান্ডের এই সময়টাতে সূর্য দেরি করে ডোবে, অর্থাৎ রাত ৯টা পর্যন্ত চারিদিকে ফর্সা থাকে। এই দীর্ঘ দিনগুলোতে সাধারণত বেশিরভাগ মানুষই বাইরে ঘোরাঘুরি করে। রেস্তোরায় বসে ডিনার সারে , পাবে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দিয়ে মদ্যপ হয়ে বাড়ি ফেরে। এসব এখানকারই সংস্কৃতি। সে যাই হোক আমি নির্ভানাকে বললাম চলো ‘চক ওয়ালে’ যাই যদি তোমার ঘরে ফেরার তাড়া না থাকে। ও রাজি হয়ে গেল, বলল, চলো আর তাছাড়া কালকে আমার ডে অফ, সো আই অ্যাম ফিলিং রিল্যাক্স।
আমরা বেরিয়ে পড়লাম, বেশি সময় লাগেনি, পচিশ-ত্রিশ মিনিটের মধ্যে আমরা পৌঁছে গেলাম। সূর্য ধীরে ধীরে ক্লান্তির আহ্বানে সাড়া দিয়েছে টের পাওয়া যাচ্ছে তবে পশ্চিমে এখনও আলোর বিচ্ছুরণ রয়ে গেছে কিছুটা। নির্ভানা গাড়ি থেকে নেমে দীর্ঘ নিশ্বাস নিলো দু হাত প্রশস্ত করে বিশাল সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে যেন এক শান্তির বার্তা খুঁজে নিলো। আমি বললাম এই তুমি ঠিক আছো? নির্ভানা উত্তরে বলল একদম পারফেক্ট। তবে তার ভেতর কিছু শূন্যতা টের পাচ্ছিলাম, যে শূন্যতা থেকে সে নিজেকে আড়াল করতে চাইছে। আমি বললাম চলো ওদিকটাতে গিয়ে বসা যাক। চক ওয়াল বীচটা ইংলিশ চ্যানেলেরই একটি অংশ। বীচের পশ্চিম পাশের একটা নিরিবিলি জায়গা বেছে নিলাম আমরা। পাশের পাব থেকে দুটো বিয়ার নিয়ে পাশাপাশি বসেছি কিন্তু দুজনে তখনও কিছুটা নিশ্চুপ। হয়তো দুজনেই ভাবছি কী কথা দিয়ে শুরু করা যায়? আমি এই প্রথম নির্ভানার এতোটা কাছে এসে বসলাম। ওর সাথে আমার অল্প দিনেরই পরিচয় তবুও যেন খুব কাছাকাছি স¤পর্কের একটি নামহীন সন্ধ্যা। সন্ধ্যা যতই ধূসর-ধুলো ওড়া বিকেলের ডাক-নাম হোক তবু তার সাথে স¤পর্কের কোথায় যেন মধুর টান রয়েছে। অ্যামাজনের মালিক জেফ বেজোস এবং ম্যাকেঞ্জি বেজোসের বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে আমাদের আলাপ শুরু হলো কারণ এটা এখন টক অব দ্যা টাউন। বিয়ারে চুমুক দিতে দিতে আমরা কখন ঐ আলাপ রেখে নিরবে সমুদ্র উপভোগ করছি তা কেউই টের পাইনি। হঠাৎ সব নিরবতা ভেঙে গেল নির্ভানার সেই গানে- আই অ্যাম সো লনলি ব্রোকেন এঞ্জেল / আই অ্যাম সো লনলি লিসেন টু মাই হার্ট। ও গাইতে শুরু করলো। ভালোই গায় ও। ইচ্ছে করলে শিল্পী হতে পারতো।
আমি পাশে বসে মুখের সব টুকু এক্সপ্রেশন দেখতে না পেলেও এটাই অনুভব করতে পারছি যে ওর মনের ভেতরটা ভেঙে চুরে আছে। ওর হাস্যজ্জল মুখশ্রীর আড়ালে এমন অবাধ প্লাবন উপলব্ধি করিনি কখনো। আমি নির্ভানাকে কিছুই জিজ্ঞাসা করতে পারলাম না এই ভেবে যে, যদি ও আরও বেশি আবেগ প্রবণ হয়ে পড়ে!
সন্ধ্যা গড়িয়ে অন্ধকার গাঢ় হচ্ছে। দূর থেকে দেখতে পাচ্ছি পাবগুলো ধীরে ধীরে তাদের দিনের ব্যস্ততা গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে। রোড লাইটগুলো ¯পষ্ট জ্বলে উঠেছে। আমি বললাম, চলো নির্ভানা এবার ফেরা যাক। ও শুধু বল্লো আমাকে কেউ ভালোবাসেনি কখনো। পুরুষের চোখে শুধু ভোগের নেশা উন্মত্ত থাকে। সুযোগ পেলেই পৈশাচিকতা বের হয়ে পড়ে। আমার ভেতরটা কেউ পড়তে পারে না, বুঝে উঠতে পারে না আমি কী চাই?
আমি স্থবির, ও চোখের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলাম ওর চোখ থেকে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো। আগে কখনো এতোটা শান্ত আর আবেগি হয়ে উঠতে দেখিনি। আমি এবার নির্বাক হয়ে ওকে দেখছি। নিঃশব্দে নীরবে ও এবার সমুদ্রের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। দূরে একটি মালবাহী জাহাজ আলো জ্বালিয়ে ধীর গতিতে টিলবুরি ডকের দিকে চলে যাচ্ছে। আমার ভেতরে কেন এতো হাহাকারের সুর বেজে উঠলো, জানি না। কেন ওকে জানিয়ে দিতে পারছি না যে, আমি তাকে উন্মাদের মতো ভালোবাসি। ওর দূরন্ত সৌন্দর্যে যে দিনের পর দিন আমি খুন হয়েছি তা কোনো দিন বলার সাহস পাইনি। আজো ভয় পাচ্ছি এই ভেবে যে, শেষ মেশ আমাদের বন্ধুত্বটা যদি শেষ হয়ে যায়। নির্ভানা পেছন দিকে ঘুরে আচমকা আমার ঠোঁটে ঠোঁট রেখে এক শ্রাবণ ধারায় ভিজিয়ে দিলো আমাকে। তখন আশে পাশের সব আলো হঠাৎ করে নিভে গেলো এক সাথে।
কিছুক্ষণ পর টের পেলাম ও আমার বুকের মধ্যে জড়িয়ে রয়েছে। দুজন দুজনকে ছাড়িয়ে নিয়ে স্বাভাবিক হতে চেষ্টা করলাম। নির্ভানা আমকে সরি বলতে আমি বললাম ইটস ওকে। দুজনেই আমরা শান্ত জলাশয়ের মতো নিরব। কী দিয়ে আবার আমরা স্বাভাবিক কথোপকথনে ফিরে যাবো তারই প্রচেষ্টা দুজনের ভেতর ভীষণ ভাবে অনুভূত হচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম কী আরকেটা বিয়ার নেবে? নির্ভানা বললো চলো ফেরার পথে পাব থেকে নিয়ে নেবো। রাত তখন প্রায় নটা। একটা পাব এখনো খোলা আছে বলে মনে হচ্ছে। ‘চক-ওয়াল’ থেকে হেঁটে আমরা লী-অন-সীর দিকে এগোতেই একটি পাব থেকে দুটো বাডওয়াইজা নিয়ে গাড়ি দিকে এগোতে থাকলাম। টের পেলাম ওয়েদারটা একটু চিল্ড; ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে। আমার সামার জ্যাকেটটা খুলে ওকে পরিয়ে দিতে গেলাম কিন্তু ও বলল দরকার নেই, আমি ঠিক আছি। ড্রাইভ শুরু করার আগে আমরা দুজনেই বিয়ার শেষ করলাম।
নির্ভানা গাড়ি স্টার্ট করলো। আমাকে জিজ্ঞাসা করলো আমি জন ডেনভারের গান শুনি কিনা? আমি বললাম ডেফিনেটলি শুনি। তুমি নিশ্চয়ই - ‘কান্ট্রি রোডস, টেক মি হোম টু দ্য প্যালেস আই বিলং’ এই গানটার কথা বলছো!
একদম তাই। তুমি হয়তো জানো না যে আমি আইরিশ এবং আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ডাবলিনেই। আরও আশ্চর্য হবে যে, জেমস জয়েসের বাড়ি অর্থাৎ স্যান্ডিকোভে আমার শৈশব কেটেছে। আমি সেখানে বারবার ফিরে যেতে চাই কিন্তু কেন যে পারি না, জানি না।
তুমি বলতে চাইছো যে এখানে তোমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে থাকতে ভালো লাগে না।
আজ তাহলে তোমাকে সব খুলেই বলি। গাড়িও ছুটছে দ্রুত বেগে। বাড়ি ফেরার তাড়া নেই কিন্তু রাস্তার স্পীড লিমিট মেনটেন তো করতেই হয় তা না হলে পেছন থেকে হর্ণ বাজিয়ে ইনসাল্ট করবে। আবার এও ভাবছি নির্ভানা একটু হলেও তো ড্র্যাঙ্ক!
নির্ভানা বলতে শুরু করলো। ইভান আমার প্রকৃত ভালোবাসার মানুষ নয়। সে হলো আমার স্টেফ ফাদার অর্থাৎ আমি তার পালিত মেয়ে। বয়স যখন আমার পাঁচ তখন আমার বাবা লিভারের জটিলতায় মারা যান। আমার মা এই ইভানকে বিয়ে করে। ইভান ছিল আমার মায়ের চেয়ে বয়সে ছোট। প্রথম দিকে মায়ের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকলেও আস্তে আস্তে তা তেঁতো হতে শুরু করে কারণ ইভান ছিল মদ্যপি, মাতাল হয়ে বাড়ি ফিরে মাকে এবং আমাকে মারধর করতো। দিনের পর দিন এসব সহ্য করতে না পেরে মা একদিন সুইসাইড করে। তবে প্রকৃত সে মৃত্যু রহস্য আজও অজানা। ইভান আমাকে নিয়ে লন্ডন চলে আসে। তখন আমার বয়স কতইবা হবে, তেরো অথবা চৌদ্দ। সেই থেকে এক অদ্ভুৎ পরিচয়ে বেড়ে উঠেছি। ইভানের সাথে আমার বাহ্যিক স¤পর্কের আড়ালে রয়েছে পালিত কন্যা এবং বাবার সম্পর্ক। আমি দিনের পর দিন সেই স¤পর্কের কাছে হেরে গেছি। এক অপ্রত্যাশিত সম্পর্কের কাছে নিজেকে সঁপে দিতে দিতে আমি বড্ড অপমানিত, লাঞ্চিত, ঘৃণিত; অবশেষে আমি ক্লান্ত। আমি সরি যে, এতো সব কথা আমি তোমাকে বলে দিচ্ছি।
হঠাৎ করে ইভানের ফোন এলো। গাড়ির ব্লুটুথ স্পিকার অন করাই আছে। শুনতে পেলাম ইভান বলছে- হয়ার আর ইউ ফাকিন বীচ? নির্ভানা অপমানে লাল হয়ে উঠেছে। কী একটা বলতে যাবে এমন সময় ও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে উইকফোর্ডের কাছে হাইওয়ে থেকে গাড়ি ছিটকে নিচের খাঁদে পড়ে যায়।
এর পরে যখন আমার জ্ঞান ফেরে তখন আমি ব্যাসিলডন হাসাপাতালের এমারজেন্সি ওয়ার্ডে শুয়ে আছি। নার্চের কাছে জনাতে চাইলাম নির্ভানা কেমন আছে? উত্তরে বলল, সরি, উই কুড নট সেইভ হার। আমার চিৎকার করে কান্নার ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়ে গেল, চোখের কোণা বেয়ে গড়িয়ে পড়ল জল বিন্দু।
What's Your Reaction?